| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রামানিক
শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
৫ই আগষ্টে দাড়ি পাল্লার ডান্ডার গুতানি আর ধানের শীষের ভরের চোটে নৌকা তল হইয়া গেল। নৌকার কান্ডারী কুল কিনারা না পাইয়া হাওয়ায় ভাসিতে ভাসিতে দিল্লী গিয়া আশ্রয় লইল। সেই সাথে লাঙলের ফলাও ভোতা হ্ইয়া মুখ থুবরাইয়া পড়িল। মশাল দপ করিয়া নিভিয়া গেল। তাহাদের পতনে ধানের শীষের জয় জয়কর অবস্থা। দাড়ি পাল্লা তখন ডান্ডা সোজা করিয়া ধানের সঠিক ওজন দেয়ার চেষ্টায় ব্যাস্ত হইয়া পড়িয়াছিল। হাত পাখাও এই সুযোগে ধানের শিষকে শক্তপোক্ত করিবার জন্য বাতাস দেয়ার চেষ্টায় ব্যাস্ত হইয়া উঠিয়াছিল। কিন্তু কিছুদিন পরেই কিসের থেকে কি হইয়া গেল বুঝিতে পারিলাম না। আস্তে আস্তে ধানের শীষে কিছু কিছু চিটা দেখা দিল। ইহাতে মানুষ খুব একটা বিচলিত হইল না। ধান থাকিলে চিটা থাকিতেই পারে। কিন্তু দিন যত বাড়িতে লাগিল ততই ধানের ভিতর কিছু নৌকা তল হওয়া পঁচা ধানও ঢুকিয়া পড়িল। ইহাতে ধানের মূল্যমানের যে রমরমা ভাব ছিল সেইটা কিছুটা ক্ষুন্ন হইলো বটে তবে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হইল না।
আরও কিছুদিন পরে ধানের কান্ডারি অসুস্থ্য হইয়া পরোপারে চলিয়া গেলেন। ইহাতে ধানের শীষের শক্তপোক্ত ভাব কিছুটা দুর্বল হইলেও নুইয়া পড়িল না। কান্ডারির রক্তের আরেকজন আসিয়া ধানের গোড়ায় বসিয়া পড়িলেন। ইহাতে হেলে যাওয়া ধান আবার সোজা হওয়া শুরু করিল। ধানের শীষের সোজা হওয়া ভাব দেখিয়া মানুষ অনেকটা আশার আলো দেখিতে লাগিল।
কিন্তু শেষ মুহুর্তে আসিয়া আবার কি হইতে কি হইয়া গেল বুঝিতে পারিলাম না, ধানের মধ্যে কিছু ব্যাংক ঋণখেলাপি পোকা খাওয়া ধানও ঢুকিয়া পড়িল। ইহাতে মুখপোড়া কিছু লোক চিল্লাপাল্লা শুরু করিয়া জনগণের কান গরম করিবার চেষ্টায় ব্যাস্ত হইয়া পড়িয়াছে। তাহাদের কথা হইলো-- ধান চিটা হইলেও কুলায় ঝাড়িয়া কম চিটাওয়ালা ধান খুদ করিয়া খাওয়া যায়, পঁচা ধান গন্ধ করিলেও ক্ষুধা্র সময় রসুন পিয়াজ দিয়া মাখিয়া চোখ মুখ বন্ধ করিয়া খাওয়া যায় কিন্তু পোকা ধরা ধান গলদ করণ করা তো বিষের সমতুল্য। ইহা লইয়া মানুষের এখন দুশ্চিন্তার শেষ নাই, তাহাদের কথা হইলো-- ৫ই আগষ্টের আগে কথা বলার সুযোগই ছিল না, তখন নৌকার লগি বৈঠার গুতার চোটে খাদ্য অখাদ্য সবই খাইয়াছি কিন্তু পাঁচ তারিখের পরে নৌকা তল হইয়া লগি বৈঠা ভাসিয়া গিয়াছে, এখন ডাঙায় বসিয়া মুক্ত হাওয়ায় কি ইহা খাওয়া সম্ভব? দেশে ভালো ধানের অভাব নাই সেখানে ভালো ভালো ধান বাছিয়া ফালাইয়া দিয়া পোঁকা ধরা ধান ঢুকাইবার কি খুব প্রয়োজন ছিল? কিছু পোঁকা খাওয়া ধানের কারণে এখন তো পুরো ধানের শীষই ক্ষতির মুখে পড়িবার উপক্রম হইয়াছে।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৯
প্রামানিক বলেছেন: মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
২|
২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১৫
আলামিন১০৪ বলেছেন: বরাবর সাধু ভাষায় লিখেন বুঝি? কলকাতার বাবুদের কথা মনে পড়িয়া গেল!
৩|
২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০১
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
প্রামানিক ভাই , সত্যি কথা হল
ঐ পোকাগুলিই ধান গাছের প্রাণ!!
এন্টি ভাইরাস!!! ঐগুলি দুচারটা
না থাকলে ধান ক্ষেতই তো
ফুলে ফেপে উঠতে পারতনা্,
কিংবা টিকে থাকতে পারতনা!!!
তাইতো কুলা দিয়ে ঝেরে চিটা
আর আর পচা ফেলে দিলেও
পোকাগুলকে জেনে শুনেই
প্রাণশক্তি হিসাবে রেখে দেয়া
হয় ।
শুভেচ্ছা রইল
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: অসাধারণ লেখা ।