| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হাসপাতালের বেড এ শুয়ে থেকে হঠাৎ তুহিনের চোখ গেলো উপরে ইলেক্ট্রনিক্স এর অপরিসীম ব্যাবহারের উপর । বিদ্যুতের কারণে হয়ত মানুষ কৃত্রিম বাতাস এর কারণে আজ মানুষ প্রকৃতির অনবদ্য মনরম বাতাস থেকে ও বঞ্চিত । কিন্তু বাতাস যে শুধু ফ্যান এর ই হয় না , এ কারণে তুহিন হয়ত চলে যায় হাসপাতালের ছাদ এ । তৎক্ষণাৎ ই এসব বিজ্ঞানের কথা মনে করতে তুহিনের অগত হয় গত বছরের সায়েন্স ফেয়ার এর কথা ।
কিছু বন্ধুদের সাথে তুহিন যায় সায়েন্স ফেয়ার এ । বয়েজ কলেজ এ পড়ার কারণে এই ফেয়ার গুলো ই হল গার্ল ফ্রেন্ড যোগাড় করার এক মাত্র জায়গা। বন্ধুদের সাথে তুহিন ও যায় , এবার যদি তার একটা বিহিত হয় ।
ফেয়ার এ যেয়ে এক মেয়েকে পছন্দ করে তুহিন।মেয়েকে দেখে তার বুকের মধ্যে ক্যামন যেন এক ধরনের চিন চিন বেথা শুরু হয়। এর পরে তার সব থেকে কাছের বন্ধু এর এর শরণাপন্ন হয় ।অতঃপর চলে যায়, বন্ধুত্ব রক্ষার্থে মেয়েটার কাছে ।
তুহিন এর বন্ধু মেয়েটার কাছে গিয়ে, তুহিন এর কথা বলতে ই , তৎক্ষণাৎ ই মেয়েটা একটা জোরে চিৎকার দেয় ,
'" আম্মু এই ছেলেটা আমাকে প্রপোজ করছে""।
তখন ই তাদের খেয়াল হয় পিছনে মেয়েটার আম্মু আছে ।
কিন্তু মেয়েটার চিৎকার শুনার পরেও তুহিন এর বন্ধু অবস্থানচ্যুত না । আর ও বলে, আমার ফ্রেন্ড তুহিন তোমাকে পছন্দ করছে , , আম্মুকে ডেকে ভালো ই করছ, তোমার আম্মুকে ই বলি তাহলে বিষয় টা । ঘটনা খারাপ দিকে যাওয়ার কারণে তুহিন বন্ধুকে নিয়ে যায় সেখান থেকে । তার পর অন্য কোথাও অবস্থান নেওয়ার পর ,২ জনের হাসি ছিল দেখার মতো।
এর পর ও আর ও অনেক সময় কাটায়,অনেক ডানা কাটা পরীদের ও দেখে। কিন্তু অন্য কোন মেয়েকে কেন যেন আর তুহিনের ভালো লাগে না । কানে শুধু মেয়েটার সেই চিৎকার ই বাজে তার।
এর পর , কিছু ফ্রেন্ড এর সহায়তায় মেয়েটাকে খুঁজে পায় তুহিন ।ফেসবুক এ প্রোফাইল পিক্স দেখে আবার ও সেই পুরানো বেথা শুরু হয়। ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেয়। এসেপ্ট করে না। কিন্তু ঠিক ই ফলোয়ার বানিয়ে রাখে ।
এর পর মেসেজ এ সায়েন্স ফেয়ার এর সেই দিনের ঘটনা বললে, অ্যাড করে নীলা ।
কিছু দিন চ্যাট করার পর, তুহিন নীলাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে নীলা খুব সহজ ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
এর পর অনেক গুলো ঘটনা ঘটায় তুহিন, অনেক ভাবে তাকে ইমপ্রেস করে। কিন্তু কোনো ভাবে নীলা রাজি হয় না । কিন্তু তুহিনের প্রতি নীলা একটু দুর্বল হতে থাকে ।মেয়েরা বাইরের দিক থেকে যত ই কঠিন হোক ,ভিতর থেকে নরম । জতঈ হোক মেয়েদের মন তো । এই প্রথম ও শেষ বারের মতো তাকে ক্ষমা করে দেয় নীলা ।কিছু দিন পর প্রেম এর প্রস্তাব ও এক রকম বাধ্য হয়ে ই গ্রহন করে নীলা । তাদের মধ্যে খুব গভীর প্রেম চলতে থাকে । খুব ভালো understanding ও থাকে ২ জনের মধ্যে।
১ মাস পর
২ জনের ফেসবুক এর পাসওয়ার্ড ই অনেক আগে থেকে ২ জন এর কাছে । নীলা তুহিনের ফেসবুক এর মেসেজ এ অন্য একটা মেয়েকে আই লাভ ইউ পাঠানো মেসেজ দেখে রিতিমতো আতকে ওঠে । যে তুহিন নীলাকে এতো ভালোবাসতোএইটা কি তার
ফেসবুক আইডি মেসেজ হিস্টোরি তে অন্য একটা মেয়েকে আই লাভ ইউ মেসেজ পাঠানো ।নীলা তুহিনকে ফোন দেয়,
তুহিন কিছু ই বুঝে উঠতে পারে না ।
শুধু মেয়েটাকে একটা ই কথা বলে, সে মেসেজ টা পাঠায় নাই।
অতঃপর, break up//
এক দিন পর , তুহিন এর মনে পরে , তার সেই ফ্রেন্ড এর মোবাইল থেকে ফেসবুক এ লগ ইন করে, কিন্তু লগ আউট করা হয় না।
পরে জানতে পারে কাজ টা তার সেই বন্ধু ই করছিলো ।
এরপর, তুহিন সেই মেয়েকে সব ঘটনা খুলে বললে ও, মেয়েটাকে ফেরাতে পারে না । মেয়েটার কাছের থেকে ভালোবাসা পাওয়ার বদলে সে পায় ২ টা থাপ্পর। নীলা আর ও বলে , এইগুলো একটা পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু ই ছিল না ।
তুহিন এর বেশি মন খারাপ হয় না। তার ফ্রেন্ড কে ও কিছু বলে না । কারণ সে মনে করে, রিলেশান এর প্রথম এ যে বিশ্বাস
থাকা দরকার, এইটা তাদের মধ্যে কোনো দিন ছিল ই না ।
১ বছর পর
মেয়েটাকে ফোন দেয় ছেলেটা। একবার হাসপাতালে আসতে বলে তাকে । কারণণ ঃ- ছেলেটার brain cancer//
হাসপাতালে নীলাকে দেখে মুখের কোনায় যেন একটু হাসি ফিরে আসে নীলার । তার সব কিছু ই আগের মতো ই আছে , মুখে সেই রাগ ।রাগ করলে নীলাকে যেন অনেক বেশি ভালো লাগে তুহিনের ।
হাসপাতালে এসে ই নীলার প্রথম কথাটি ছিল,
" আবার একটা নতুন নাটক"।
নীলার কথার মধ্যে আগের মতো আর শাসন নেই ,কোনো মায়া নেই । আগের মতো প্রেম নেই ।
কিন্তু একটু পর ই সব কিছু চেক করার পর ই তার কাছে পরিশকার হয় যে, তুহিন এর সত্যি ই ব্রেইন ক্যান্সার , এবং সে পৃথিবীতে থাকতে পারবে আর মাত্র কয়েক দিন ।
তুহিন এর পাশে চুপচাপ বসে থাকে নীলা।
একটু পর নীলার হাত ধরে তুহিন বলে,
তোমাকে ২ টা কথা বলার ছিল, এ জন্য ই ডাকছি এখানে।
মারা যাওয়ার আগে কেউ মিথ্যা কথা বলে না , আশা করি এখন আমাকে বিশ্বাস করবে তুমি ।
১ ) i love u
২ )বিশ্বাস করো মেসেজ টা আমি পাঠাই নি ।
এ কথা শুনে নীলা সাথে সাথে উঠে পরে । নিজেকে তার আজ সব থেকে অসহায় মনে হয় । তুহিন আবার ডাক দেয় ...।
-নীলা
-হুম
- আম্মুকে আবার নালিশ করছিলা নাকি ? সাইন্স ফেয়ার এর মতো । আম্মু এই ছেলেটা আমাকে ধোঁকা দিছে ।
নীলা চলে যায় হাসপাতাল থেকে ।
তুহিন চাঁদ থেকে তাকায় রাস্তার ল্যাম্পোস্ট এর দিকে , ল্যাম্পোস্ট এর মতো তার ও আজ কেউ নেই ।
©somewhere in net ltd.