| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
“দালালী না রাজপথ/ রাজপথ, রাজপথ।“
এই স্লোগান গত কয়েকদিনে কতবার যে দিয়েছি তার কোন হিসেব নাই। শুধু এই একটা না এরকম শত শত স্লোগানে মুখরিত শাহবাগ চত্বর। এরই মধ্যে গত কাল মোমবাতি প্রজ্বলনের থিক আগ মুহুর্তে শুনলাম, শিবিরের হামলায় একজন আহত হয়ে পরে মারা গেছেন। সেই মোমবাতি সমাবেশের মুহুর্তে তাকে আমরা শহীদের মর্যাদায় ভূষিত করলাম। একদিন ঘুরতে না ঘুরতেই ঘাতকের হাতে প্রাণ হারালেন আমাদের আরেক সহযোদ্ধা ব্লগার রাজিব হায়দার ভাই। তিনি আমাদের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, জানাই তাকে লাল সালাম।
আসা যাক আসল কথাই। গত ১০/১১ দিন ধরে অবিরাম আন্দোলন করে যাচ্ছি আমরা তরুণ সমাজের লোকজন। আমাদের যেকোন সময় যেকোন বিপদ আসতেই পারে, এটা নিয়ে কারও কোন দ্বিমত আছে বলে মনে হয়না। আমি যতবার গেছি ততবার এক বারের জন্য হলেও মনে হয়েছে আমার আশেপাশেই যে কেউ একটা বোমাবাজি ঘটাতে পারে। কিন্তু একবারের জন্যও কখনও মনে হয়নি আমি এই যায়গা ছেড়ে চলে যাব, পালিয়ে যাব শুধু নিজের জীবন বাঁচাতে। বারবার একটা কথাই মনে হয়েছে, যদি কিছু হয় তবে এটুকুতো শান্তি পাব যে একটা ভাল কাজের জন্যেই নিজের অল্প ক্ষতি হয়েছে। আমি ৭১ দেখিনি বলে যে দুঃখ ছিল সেটা অন্তত একটু হলেও তো কমত (যদিও ৭১ অনেক বড় ব্যাপার, যার সাথে এই ১৩ কে তুলনা করা ঠিক হবেনা)। আমি যাকে পেরেছি তাকেই ধরে নেয়ে গেছি, আর যারা গেছে তাদের প্রায় সবাই একে অনেক বেশি ভালবেসে ফেলেছে। এই আন্দোলনে মানুষের মধ্যে যে সহমর্মিতা, যে আন্তরিকতা সেটা অভাবনীয়। তবে যারা একে কাছ থেকে দেখেছে তারায় শুধু উপলব্ধি করতে পারবে এটা। অন্য অনেকের কাছেই এটা এক্তা নাটক, এখানে সরকারের পাতানো প্রহসন হচ্ছে মনে হবে। এই আন্দোলন শুধু শাহবাগ বা আর কয়েকটি যায়গায় বসে স্লোগান দেওয়া না, এটা মানুষের মধ্যে যে কি পরিবর্তন এনেছে সেটা এদেশের রাস্তাঘাতে, পাবলিক বাসে, চায়ের দোকানে মানুষের কথাই বোঝা যায়।এই আন্দোলনে হতাশ আছে এরকম মানুষ খুব কম আছে সেটা বলবনা। তবে এদের বেশির ভাগই ছাগু সম্প্রদায়। আমি যে ছাগু বলতে যে শুধু জামাত-শিবিরকে বুঝাচ্ছি তাই না এরা হচ্ছে ২ ধরনের। প্রথম টাইপ হল যারা জনতার ভিড়ে বসে থাকে, আর সময় বুঝে ভল পালটায়, ঠীক যেমন ছাগল যেকোন গাছে মুখ লাগায় আর সেটা নষ্ট করে। আরেক টাইপ হচ্ছে এরা যেখানে সেখানে খুব জানলেওয়ালার মত আলোচনায় অংশ নায়, কিন্তু ভুলেও কখনও একবারের জন্যও মাঠে নামে না বা জীবন বাজি রাখতে রাজি না। এদের অবশ্য একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে আর সেটা হল এরা ভাঙ্গা রেডিওর মত কোন একটা সুর ধরলে সেটাই সব জাগায় বাজাতে পছন্দ করে। সব সময় দেশে এটা সমস্যা ওটা সমস্যা বলে যায়, কিন্তু ভুলেও কখনও কোন সমাধান আনতেও পারেনা বা চেষ্টাও করে না। এই দুই ক্লাসই বেশ সুবিধাবাদি, নিজের সুবিধার জন্য দেশ ছেড়েও পালাতে পারে বা দেশকে বেচতেও পারে। কোন রাজনীতিক বা ব্যবসায়ী একথা বললে আমি যতনা মাথা ঘামায় তার চেয়ে যদি কোন তথাকোথিত তরুণ এরকম শ্রেণীতে পরে তখন সেটা বেশি অযৌক্তিক লাগে। এদেরকে অন্যরা যে যায়ই বলুক না কেন, কোন ভাবেই এদের তরুণ বলা যাবেনা। কারন এরা কখনই কোন আশা দেখেনা, সব জায়গায় একটা কিন্তু খোঁজার চেষ্টা করে। অনেক ভাবনা চিন্তার পর ভাবলাম এদের “তরুণ বৃদ্ধ” নাম দিলাম। এরকম কিছু তরুণ বৃদ্ধের সাথে গত কয়দিনে আমার কথা হল যারা কিনা এখনো প্রশ্ন করে “এই আন্দোলন করে কি কিছু হবে আসলে।তাছাড়া সরকারের সাথে তো জামাতের গোপন আঁতাত আছেই। এই জন্যই তো এই ভাবে মানুষ মরছে।“
অথচ আমি যখন জিজ্ঞাস করলাম আন্দোলনে গিয়েছে কিনা, কি সহজ সরল একটা উত্তর “না”। যদি জিজ্ঞাস করি কেন? সেটারও বেশ অদ্ভুত উত্তর, “ আসলে তো আমিতো অনেক কিছুই করতে চাই। কিন্তু এভাবে খুন হলে কেমনে করব কিছু?” তাই কথা না বারিয়ে আমিও বেশ সহজ সরল একটা উত্তর দিয়ে শেষ করলাম, “ ভাই তোমার কিছু না করায় ভাল। এই মনের যর নিয়ে তুমি কিছু করতে গেলে আমরা আরও বিপদে পরা ছাড়া আর কোন সাহায্য পাব বলে মনে করিনা।“
এবার একটা কথা দিয়ে শেষ করি। সম্ভবত স্কুলের কোন বইয়ে পরেছিলাম, “ ভিরু, কাপুরুষ আর নির্বোধ সাথি কখনো অপকার ছাড়া উপকার করেনা”। তাই এসব তরুণ বৃদ্ধের সান্নিধ্য না পাওয়াই ভাল।
যা হোক যত জনই মরুক আর না মরুক, যত টুকুই ত্যাগ হোক আর না হোক নিশ্চিত যে সংগ্রামী তারুণ্যার জয় হবেই হবে। তবে এখন মনে হচ্ছে জামাত-শিবির থেকেও ভয়ংকর হবে আমাদের আশেপাশের ঘরকুনো তৃরুণ বৃদ্ধরা। কারন এদের থেকে নব্রাজাকারদের উত্থান মাত্র সময়ের ব্যাপার। সুতরাং,
“তরুণ বৃদ্ধ হইতে সাবধান!”
“জয় বাংলা! জয় জনতা!”
©somewhere in net ltd.