| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
১১ জানুয়ারি, ১৮৫৯ সাল।
জন্ম নিলেন এক মহান মানুষ ইংল্যান্ডে। নাম তার লর্ড কার্জন। ইতিহাসকে অস্বীকার করার কিছু নেই। ইতিহাস নিয়েই মানুষ সামনে এগোয়। ১৮৫৯ সাল ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর, যেটিতে সুয়েজ খালের নির্মাণ শুরু হয়েছিল। কারিংটন ইভেন্ট নামে পরিচিত একটি বিশাল সৌর ঝড় আঘাত হেনেছিল যা বিশ্বজুড়ে টেলিগ্রাফ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে। এবং চার্লস ডারউইনের 'অন দ্য অরিজিন অফ স্পেসিস' বইটি প্রকাশিত হয়েছিল। যা বিবর্তনবাদ তত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করে। ইংরেজরা ২০০ বছর শাসন করেছে ভারত বর্ষ। সব ইংরেজ খারাপ ছিলো না। অনেক ইংরেজ চেয়েছিলো ভারত এগিয়ে যাক। তারা ভারতের উন্নতির জন্য কাজ করেছে। কার্জন সাহেব লেখাপড়া শেষ করে, নিজেকে প্রস্তুত করে ভারত আসেন। ভারত দেখে তিনি মুগ্ধ হোন। কি সুন্দর দেশ! অথচ দেশের মানুষ গুলো তার আনন্দ মাটি করে দেয়। লেখাপড়া ও সামাজিক উন্নয়নে তারা অনেক পিছিয়ে।
সময় ১৮৯৮ সালের ১০ ডিসেম্বর।
সুন্দর ঝলমলে একটি দিন। বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই) নোঙর করল একটি স্টিমার। স্টিমারের নাম- স্টিভ অস্টিন। স্টিভ অস্টিন থেকে থেকে নেমে এলেন ভারতবর্ষের নতুন ভাইসরয় লর্ড কার্জন। সুন্দর সুপুরুষ তিনি। সাথে তার স্ত্রী মেরি ভিক্টোরিয়া। চারপাশে উল্লসিত জনতার ভিড়। উল্লসিত জনতার অনেকেই ভূখা, নাঙ্গা। বোম্বেতে অনেক আদর আপ্যায়ন পেয়ে, বোম্বে থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করলেন কার্জন দম্পতি। ৪০ বছর বয়সে ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন কার্জন। দেশের মেরুদণ্ড কৃষির উন্নয়নের জন্য লর্ড কার্জন সর্বপ্রথম 'সমবায় ঋণদান সমিতি স্থাপন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন' পাস করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীনে আনেন। উনি নিশ্চিত লেখাপড়া ছাড়া ভারতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই জাতিকে উনি মাথা উঁচু করে বাচতে শেখাবেন।
ইংরেজ মানেই মন্দ লোক নয়।
কার্জন মনে করতেন- ইংরেজ শাসন ভারতের জন্য ভালো দিন নিয়েই আসবে। তাঁরা শিক্ষিত হবে। কার্জন দেখলেন, একটা লাইব্রেরী আছে। সেই লাইব্রেরীতে সর্বসাধারনের প্রবেশ নিষেধ। শুধু সমাজের গন্যমান্য ব্যাক্তিরাই লাইব্রেরীর ভিতরে প্রবেশের সুযোগ পায়। ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরি, অর্থাৎ আজকের ন্যশনাল লাইব্রেরিকে সবার জন্য খুলে দিলেন কার্জন। যেন খুলে দিলেন একটা নতুন দিগন্ত। এরপর প্রত্নতত্ত্ব গবেষণা ও খননকাজ শুরু করলেন সারা ভারত জুড়ে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল তৈরি করে কেবল ব্রিটিশের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখলেন না, মেমোরিয়ালের মিউজিয়ামের মধ্যে পুরনো কলকাতার ছবি, মানচিত্র, শিল্পীদের ছবি, বই সব কিছুই রাখলেন। ভারতকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেনই।
কার্জন ঢাকা আসেন।
পুরান ঢাকার সরু গলি, ধানমন্ডিতে দেখলেন ধানক্ষেত, বুড়িগঙ্গার তীরে দেখলেন- বাজার গড়ে উঠেছে। নদীর কাছেই একটি ইমারত তৈরি হচ্ছিল। যার নাম আহসান মঞ্জিল। কার্জন ঠিক করলেন এখানে একটা লাইব্রেরী করবেন। মানুষকে পড়তে হবে। ছেলেমেয়েরা যদি না পড়ে তাহলে দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। ইংরেজদের অবদান অনেক। যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, আইন ব্যবস্থা, এমনকি ক্রিকেট খেলা এসেছে ইংরেজদের কাছ থেকে। ইংরেজরা শোষন করেছে অনেক একথা সত্য। বলা যেতে পারে- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ছিলেন। তিনি বলেছেন, ইংরেজদের মধ্যে যাঁরা মহৎ তাঁদের অনেককে আমি দেখেছি। তাঁরা স্বজাতিকৃত বা পরজাতিকৃত অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে কুন্ঠিত হন না। লর্ড কার্জন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্ক ছিল মূলত বঙ্গভঙ্গ ঘিরে। যেখানে কার্জনের 'ভাগ করো ও শাসন করো' নীতির বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন প্রধান প্রতিপক্ষ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: লর্ড কার্জন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্ক ছিল মূলত বঙ্গভঙ্গ ঘিরে।
....................................................................................................
লর্ড কার্জনের ছিল সেনা বাহিনী
রবিন্দ্রনাথের কি ছিল ?