| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কিছুদিন আগে আমাদের দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের একজন জেষ্ঠ্য নেতা তাদের দলের বিবৃতিতে জানান যে, শাহবাগের আন্দোলন স্থান থেকে স্বাধিনতার সময় বহুল উচ্চারিত একটি স্লোগান বারবার উচ্চারিত হওয়ায় এই আন্দোলন এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এটা নিঃসন্ধেহে সত্য, এটা মানুষের আন্দোলন আর কোন ছাগু এর এই টাইপ কোন কথা এখানে আকেবারেই অবিবেচ্য। তারপরও কিছু কথা বলার প্রয়জনবোধ করছি বলে এই লেখার অবতারনা। প্রথমেই এতা ঠিক যে এই দেশে কোন আন্দলন বা কিছু হলেই তাতে আমাদের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলকে কারন ছাড়া মাথা ঘামাতে হবে এবং কিছু না পারুক অন্তত পরস্পরের উপর দোষারোপ করাটা তাদের জন্য জরুরী হয়ে পরবে।সেই সাথে দেশের রাস্তাঘাটে কিছু অতি উতসাহী লোকজন বিতর্ক শুরু করবেই। সেদিন বাসে করে ফেরার সময় কিছু লোকজন এই বাপার টা নিয়ে বেশ ঘটা করেই চিৎকার চেঁচামেচি দেখে ব্যাপারটা নিয়ে লেখার ইচ্ছা জাগল। যা হোক আসল বিষয়ে আসা যাক। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে তবে সেই বিতর্কিত স্লোগান “জয় বাংলা” ছাড়া অন্য কিছু হবার কথা না। স্বাধিনিতার সময়, সবচেয়ে বহুল উচ্চারিতে এই স্লোগান বাংলাদেশের এক অর্থে জাতীয় স্লোগান হয়ে উঠেছিল সেই সময়। প্রত্যেকটি দিন প্রতিটি সময় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে শব্দ সৈনিক এমনকি শরণার্থী শিবিরের প্রত্যেকটি মানুষের মুখে, সর্বাধিক উচ্চারিত এই স্লোগান কোন দলের স্লোগান কখনই না। স্বাধিনতার পরেও এই স্লোগান মানুষ অনেক ব্যবহার করেছে। পরবর্তিতে “জয় বাংলা” এর পরিবর্তে ‘পাকিস্থান জিন্দাবাদ” স্টাইলে “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” আনা হয়। ঠিক একই ভাবে বাংলাদেশ বেতারকে রেডিও বাংলাদেশ, রাষ্ট্রপরতি এর পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট আনা হয়। যা হোক আসল বিষয়টা স্লোগান নিয়ে, কারন এই পরিবর্তনের পরেও একটি রাজনৈতিক দল, একে নিজেদের স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এই আন্দোলন শুরু হলে স্বাধিনতার অন্য সব স্লোগান এর সাথে এই স্লোগানটিও বারবার উচ্চারিত হচ্ছে আর এটাই স্বাভাবিক। অবস্য ওই রাজনৈতিক দলটি “জয় বাংলার” সাথে “জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগানটিও ব্যবহার করে, যেতা কখনই আমাদের স্বাধিনতার স্লোগান নয়। একারনে আন্দোলনে পরবর্তি স্লোগানটি একবারও কথাও কেউ ব্যবহার করেনি। সুতরাং দলীয় যে অভিযোগ এখানে আনা হয়েছে তা নিয়ে বিতর্কের অবতারনা সমপূর্ণ অযৌক্তিক। আর যদি তাই তাদের মনে হয় তাহলে এটা স্পষ্ট যে এই আন্দোলন যে জতনার আন্দোলন যার নেতৃত্বে আছে তরুণ প্রজন্ম এটা নিয়েও তারা সন্ধিহান। তার মানে মুখে বললেও এই আন্দোলনের ব্যাপারে তাদের সমর্থন নায়, এটাই সত্য। এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। প্রত্যেকটা জাতির নিজস্ব সংগীত, স্লোগান থাকতেই পারে। আমাদেরও সেটা আছে। পার্শ্ববর্তী ভারত বা পাকিস্থানেরও আছে। পাকিস্থান বিশেষ করে পাকিস্থান সেনা বাহিনীর বহুল উচ্চারিত একটি পুকার হচ্ছে “নারায়ে তাকবির”। পাকিস্থান আমলে আমাদের দেশে রেডিও-টেলিভিশনও নারায়ে তাকবির স্লোগানটি ব্যবহৃত হত। আজ দেশের যুদ্ধাপরাধী দল জামাত-ই-ইসলাম এই স্লোগানটি অহরহ দিয়ে যাচ্ছে, এটা কি আমাদের এই স্লগান সচেতন দলতির কানে একবারো যায় না, নাকি তারা এই ব্যাপারে জানেননা। যদি অন্য একটি দেশের স্লোগান আউড়াতে কোন প্রশ্ন না থাকে আপনাদের তো নিজ দেশের স্বাধিনতার স্লোগানে আপনাদের সমস্যা কথাই। আর নাকি আপনারা নিজেদের বাংলাদেশী বলার চাইতে পাকিস্থানী বলতে বেশি পছন্দ করেন। আজ সারা দেশে যুদ্ধাপোরাধের জন্য জামাত-ই-ইসলাম বন্ধের ডাক উঠেছে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি সত্য, যে দল নিজ দেশের চেয়ে অন্য দেশের নীতিতে বিশ্বাস করে সে দেশ কিভাবে এই দেশে রাজনীতি করে। যেই দেশ আমাদের উপর আত নির্যাতন, হত্যা চালাল সেই দেশের স্লোগান এখন যাদের মূল স্লোগান তারা তো নিশ্চিত ভাবে সেই দেশেরই প্রেতাত্মা। তাদের রাজনীতি করার কোন অধিকার এদেশ তাদের দিবেনা, এটাই স্বাভাবিক।
যারা আজকে “জয় বাংলা” স্লোগান নিয়ে এত আতংকিত তাদের বলে রাখি আগে অই দলের রাজনীতি বন্ধে রায় দিন। আর মনে রাখবেন, “জয় বাংলা” আমদের জাতির স্লোগান, আমাদের স্বাধিনতার স্লোগান, আত্মার স্লোগান। এটা কোন দলের স্লোগান না যে এই আন্দোলন নিয়ে কোন অযৌক্তিক প্রশ্ন থাকবে। আর যদি তাই মনে করেন তাহলে, এই জাতি ভেবে নেবে আপনারা আমাদের সাথে নন, আপনারা যুদ্ধাপোরাধীদের দলে।
©somewhere in net ltd.