নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সব্যসাচী

মানুষের জন্য

প্রজন্ম পশ্চিমাঞ্চল

প্রজন্ম পশ্চিমাঞ্চল › বিস্তারিত পোস্টঃ

“হিন্দু ভাইদের জন্য বলছি”

০৪ ঠা মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১:৫৪

আমাদের হিন্দু ভাই যারা আছেন তাদের জন্য বলি, এখন দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে এবং এটা অবধারিত ভাবে একটি সংগ্রামের সময়। এসময় প্রত্যেকটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ করা জরুরী। একটা ব্যাপার না বললেই না। আমি অনেক আমার পরিচিত হিন্দুকে দেখেছি, তারা তাদের কাজের ব্যাপারে অনেক সচেতন, কখনো কখনো আমদের মুসলমানদের চেয়েও বেশি। কিন্তু কিছু ব্যাপারে আমি প্রায় শুনে থাকি হিন্দু মানেই ভারত প্রিয়, এরা সব টাকা শুধু ভারতে পাচার করে। এই অভিযোগ গুলো মিত্যা না। আমি এও দেখেছি দেকশে কোণ সংকট হলেই, তাদের একটাই কথা “দেশ ছাড়তে হবে, এদেশে থাকা নিরাপদ না”। শুধু এটাই না তাদের এও দেখেছি তারা কিছু হলেই ভারতের রেফেরেন্স টেনে আনে এবং তাদের ভাষ্য ভারত বিশ্বের সবচেয়ে আদর্শ দেশ। তাদের মতে ভারতে কোন সমস্যা নাই। তাদের কথায় মনে হয় ভারতে তারা একেবারে রাজার হালে থাকবে, খুব নিরাপত্তায় থাকবে। এই সবের রেশ ধরে কিছু কথা না বলে থাকা যাচ্ছে না।



এটা প্রায় সবারই জানা, বাংলাদেশের জন্ম কোন প্যালেস বা হলের মধ্যে হয় নাই, হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে আমজনতার সামনে।সুতরাং এর জন্মের সময় কি হয়েছে, কিভাবে হয়েছে এব্যাপারে কারো কোন প্রশ্ন থাকার অবকাশ থাকতে পারেনা। বাংলাদেশ যেদিন এর যাত্রা শুরু করে অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর,১৯৭১ এর আগে থেকেই বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ, গনতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা আর সমাজতন্ত্রকে এর মুলনীতি মেনে নেয়া হয়েছিল। সুতরাং এদেশে মুসলমানের যে অধিকার, হিন্দুরও সে অধিকার। আর নাস্তিকতাকে যদি আরেকTটি মতবাদ মনে করে নেয় তাহলে তাদেরও সেই একই অধিকার।বাংলাদেশ এর নামেই পরিচইয় পায় বাঙ্গালী জাতিস্বত্তার দেশ হিসেবে কোন মুসলমানের বা হিন্দুর বা নাস্তিকের দেশ হিসেবে না। এটা একটা চিরন্তন সত্য যে বাঙ্গালী কোন নির্দিষ্ট ধর্মের জাতি না। এক সময় এখানে সনাতন কিছু ধর্মমত প্রচলিত ছিল, যা পরে আর্যদের সনাতনী ধর্মমত দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয় যা আজকের হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মমত। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোত্র বিভেদের কারনে পরে বৌদ্ধ ধর্মের আবির্ভাব হলে নিচু বর্ণের হিন্দুরা অনেকেই সেই ধর্মমত গ্রহন করে।পরে ইসলামের আগমন হলে অনেকেই ইসলাম ধর্মে দিক্ষিত হয়। আর পরে কোথাও কোথাও ইসলামী আউলিয়াদের নেতৃত্বে বিভিন্ন আন্দোলনও হয়। যেমন হযরত শাহজালাল (রাঃ) সিলেটের অত্যাচারী রাজার বিরুদ্ধে জনগণকে নিয়ে আন্দোলন গরে তুলেন। আরও পরে মুসলিম শাসকরা এলে এদেশে ইসলামের প্রসার ব্যাপক ভাবে ঘটে।তখন থেকে অনেকেই স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহন করে, জোরের মুখে না। সুতরাং এদেশের যে জাতিগোষ্ঠী তাদের সংষ্কৃতিতে কিছু সনাতনী, কিছু ইসলামী ধারার সমন্বয় ঘটিয়েছে।এদেশে ব্রিটিশরা আসার আগে কয়েকশ বছর মুসলিম শাসন ছিল, আরো আগে কয়েকশ বছর ছিল হিন্দু শাসন। এ নিয়ে কখনও কোথাও কোন গন্ডগোল হয়নি আর সব সম্প্রদায় নিজেদের মত ধর্ম পালন করেছে, পাশাপাশি থেকেছে। আজও এদেশের সাধারন মানুষের অবস্থান একই আছে। তার প্রমান আপনারা কিছুদিন আগের একটা ঘটনাতেই দেখছেন। গত কিছুদিন আগে যখন নোয়াখালিতে জামাত-শিবির হামলা করেছিল হিন্দু এলাকায় তার পরপরই কিন্তু মুসলমান পরিবার গুলো এসেছিল আপানাদের পাশে, সাহায্য নিয়ে। এরকম দাঙ্গা এর আগে যতটুকু আমার মনে পরে এই নোয়াখালিতে হয়েছিল দেশ বিভাগের সময়। সুতরাং এটা নিশ্চিত যে এদেশের সাধারন মানুষ একই কাতারের। দেখুন আপনারা যে ভারতের কথা বলেন সেই ভারতে প্রতিবছরই কোন না কোন বড় ঘটনা ঘটছেই। গতকাল আমাক আমার পাশের রুমের দোস্ত বলল যে ভারতে তো আর এই সব ঘটনা ঘটবেনা, অন্য আর যায় হোক। আমি তাকে যখন বললাম ২০০২ এর আহমেদাবাদের দাঙ্গার কথা সে পুরোপুরি অস্বীকার করল সেটা, আরও বলল গত কিছুদিন আগে যে আসামের দাঙ্গা হয়েছে সেটা তো একটা দুর্ঘটনা মাত্র। এই রকম কথা যে কোন মুসলমান শুনলে স্বাভাবিক মাথা গরম হয়ে যাবে। আজকে যে বাংলাদেশ সেটাতো ব্রিটিশরায় আলাদা করে দেবার কথা ছিল (মন্ত্রি মিশন)। কারন তারা এই বাংলা আর আসামকে হিন্দু অধ্যুষিত বা মুসলিম অধ্যুষিত কোন কাতারেই ফেলতে পারেনি। এটাই আমদের অসাম্প্রদায়িকতার প্রকাশ। সেদিন এই বিভাগ না হওয়ার জন্য কিন্তু ভারতীয় বা পাকিস্থানি দুই পক্ষই সমান দায়ী। দেখেন আজকে ভারতের যে উন্নয়ন সেটা কিন্তু উত্তর আর পশ্চিম ভারতে। বাঙ্গালী অধ্যুসিত এলাকা কিন্তু সেখানে অবহেলিত। সুতরাং এটা ভাবার কোন কারন নাই যে ভারত আপনাদের জন্য জান্নাত হয়ে যাবে। ১৯৭০ এর নির্বাচনে জেতার পরই কিন্তু ৭ই মার্চের ভাষনেই শেখ মুজিব বলেছিলেন এদেশে মুসলমানের যে অধিকার, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টানেরও সেই অধিকার। স্বাধিনতার পর সংবিধান সেই অধিকার দিয়েছে। এদেশের নাম বাংলাদেশ করা হয়েছে। এটাই এক অকাট্য প্রমান, যে বাংলাদেশ এক অসাম্প্রদায়িক দেশ এবং এটা বাঙ্গালী জাতিস্বত্তার একমাত্র আবাসস্থল (ঠিক ইসরায়েল যেমন ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের আবাসস্থল)। এর পরও যদি আপানারা মনে করেন যে ভারত আপনাদের দেশ তাহলে এটাই সত্য হবে, যে আপানারা এদেশে সাময়িক ভাবে এসেছেন কিছু আয় রোজগারের জন্য আর দেশের সম্পদ পাচারের জন্য। আর এটাও মনে রাখবেন এই একই কাজ করে জামাতের লোকজন। তারাও এদেশে আছে সাময়িক ভাবে, দেশের ১২টা বাজানোর জন্য। আর দুনিয়ার কোন দেশই কোন বেইমানকে জায়গা দেই না, সেটা আপনাদের প্রাণ প্রিয় ভারতও না। আপনারা যদি এই দেশকে নিজের মনে নাই করেন প্লিজ দেশ ছেড়ে চলে যান, দেশের ক্ষতি করবেন্ না।আপানাদের এই মনভাবই আজকে জামাতের এই কর্মকান্ডের জন্য অনেক সহযোগী হয়ে যাচ্ছে।এটা আপনারা একটু বুঝতে চেষ্টা করুন, জামাত তার স্বার্থে ধর্মকে ব্যাবহার করবেই। এটা ভারতের শিব সেনারাও করে। কিন্তু কসম বলছি, এদের সাথে সাধারন মুসলমানের কোন যোগাযোগ নাই। ইসলাম মানে শান্তি, এখানে সংঘাতের কোন জায়গা নায়। আজকে আপনাদের উপর হামলা করছে, কালকে আমাদের করবে। আর তারা করেছেও তাই (মসজিদে হামলা)।আপনাদের ভয় দেখিয়ে আমাদের ঘরে রাখতে চাই। আপনারা শুধু গা বাঁচিয়ে পালিয়ে বেড়াবেন না, তাহলে তারা আরও শক্তিশালী হবার চেষ্টা করবে। আর আমাদের প্রতিরোধ ওদের দূর্বল করবে। মনে রাখবেন এই যে জামাত এরা কোন ইসলামী রাষ্ট্র চাইনা। এরা চাই জামাতি দোজখ। একটা সত্যিকারের ইসলামী রাষ্ট্রতে সবার সমান অধিকার থাকে, ধর্মের স্বাধিনতা থাকে। একবার মদিনা সনদ দেখেন, সেখানে কি আছে। আজকে যে ইউরোপ আমেরিকার আদর্শ রাষ্ট্র ব্যবস্থা তার চেয়েও আদর্শ ব্যবস্থা আছে ওখানে। আজকে যে ইহুদিদের কে বলা হছে মুসলমানদের শত্রু তাদের সম্পর্কে দেখুন কি বলা আছেঃ







Among the clauses relating to the Jews are the following:



 those Jews who join in the treaty and become part of the larger community it creates are due help and equal treatment



 the Jews shall not be wronged, nor shall their enemies be given aid



 the Jews will be treated as one community with the Muslims, but each has their own religion



 the Jews have the same status as the parties making the pact



ইসলাম যে সবাইকে সমানাধিকার দেয় এটা হচ্ছে তার প্রামাণ্য দলিল।আর যে সব বিভেদের কথা আপনারা জানেন সেগুলো এই জামাতি গ্রুপের অপপ্রচার। এর পরও কি আপনারা এই একই ভুলে থাকবেন।এদের মত উগ্রপন্থীরাই কিন্তু এক সময় দুই ধর্মের মধ্যে দাঙ্গা বাধিয়েছিল ১৯৪৭ এ। আজ আপনারা আবার ভুল করবেন না। আজ কিন্তু মুসলমান সম্প্রদায় সচেতন। আমরা আপনাদের কাছেও সেই রকমই সাহস ও সহযোগীতা কামনা করছি।







আসুন এক সাথে দেশকে রক্ষা করি। যেখানেই যান আপনার পরিচয় এই দেশের পরিচয়েই হবে, ভারতের পরিচয়ে না।







“জয় বাংলা! জয় জনতা!”

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.