নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সব্যসাচী

মানুষের জন্য

প্রজন্ম পশ্চিমাঞ্চল

প্রজন্ম পশ্চিমাঞ্চল › বিস্তারিত পোস্টঃ

মেয়েটি যদি আজ হ্যাঁ বলত

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৪ রাত ২:৪০

পড়ন্ত বিকাল। চিরিদিকে পাখিদের ঘরে ফেরার ব্যস্ততা। তাদের কলকাকলীতে বিকেলের পরিবেশটা একটা অন্যরূপ ধারন করেছে। অবশ্য প্যারিস রোডের উঁচু-উঁচু গাছের সারিতে তা চোখে পড়ছেনা। এই গাছের সারিতে সন্ধ্যার আবির মাখা আকাশও দেখা যাচ্ছে না। এই প্যারিস রোড ধরেই একাকী আনমনে হেঁটে চলেছে আকাশ। এমনিতে এই সময়টাতে প্যারিস রোডের আশেপাশে লোকজনের ভালই আনাগোনা থাকে, কিন্তু আজ কোন এক কারনে জায়গাটা বেশ শুনসান। এই রাস্তার সাথে আকাশের জানাশোনা সেই ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু ইদানিং আকাশের কাছে জায়গাটা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ছোটবেলায় বাসার বড়দের সাথে এখানে বহুবার সে এসেছে। মাস কয়েক আগে এইখানেই সে স্নেহাকে প্রপোজ করেছিল। অথচ সে কোনদিনও ভবতে পারেনি এই প্যারিস রোড তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষ্যী হয়ে যাবে একদিন। কথাগুলো ভাবতেই নিজের মনে দুঃখ-সুখের একটা অবমিশ্র অনুভুতি জেগে উঠছে বারবার।
হাঁটতে হাঁটতে বারবার সেই দিনটার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। সেই দিনটিতেও প্যারিস রোড ছিল একেবারে ফাঁকা। অল্প অল্প বৃষ্টি হচ্ছিল সেই দিন। একটা সবুজ জামা পড়েছিল স্নেহা। দুজনে সেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে হাঁটছিল এই প্যারিস রোডে, পাশাপাশি। একটা আলাদা অনুভুতি ছিল সে পথচলাতে। হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা পথ হাঁটার পর আকাশ হঠাত করেই বলে ফেলেছিল, “স্নেহা, যে মেয়েটিকে নিয়ে আমি এত স্বপ্ন দেখছি, যাকে এত ভালবাসি- সেই মেয়েটি তুমি।“হাস্যোজ্বল মেয়েটি মূহুর্তের জন্য চুপ করে গেল। তারপর ধিরে ধিরে বলেছিল “কি বলব ঠীক বুঝতে পারছিনা। কিন্তু তোমার পছন্দের সেই মেয়েটা আমি কেন?” এভাবেই কথা এগোতে থাকল। কথার সাথে সাথে আবার পথ চলতে থাকল তারা। অনেকটা পথ চলার পথ চলার পর যখন আকাশ ফেরার কথা বলতেই স্নেহা প্রশ্ন, “ আকাশ হাঁটতে ভালই লাগছে। আরেকটু হাঁটবা?” তারপর প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত একসাথে হাঁটা, ফুচকা খাওয়া, সবশেষে রিক্সায় স্নেহাকে বিদায় দেয়া- প্রত্যেকটা কথা বারবার মনে পড়ছে আকাশের।
সন্ধ্যা হয়ে আস্ল তাই সেই চেনা পথেই ফিরতে হল আকাশকে। যেদিন স্নেহাকে প্রপোজ করেছিল সেই সময়টা ছিল আকাশের রুয়েট জীবনের প্রায় শেষ সময়, আর আজ তার বিদায়ের দিন। হয়ত প্যারিস রোডে এটাই তার শেষবারের মত আসা। সেইদিনটাতে রিক্সায় স্নেহাকে বিদায় দেয়ার সেই মূহুর্তটা বারবার মনে পড়ছে তার। বিশেষ করে তার সেই চাহনী, সেই কথাগুলো। গত কয়েকদিন হল স্নেহা তার ফেইসবুক আইডি ডিএক্টিভেট করে রেখেছে, ফোন সুইচ অফ। এই ব্যাপারগুলো বারবার তার মনে যন্ত্রনা বাড়াছে। বারবার তার মনে হছে-“কেন যে প্রপোজ করলাম, না করলেই মনে হয় ভাল হত। অন্তত এই কষ্টটা পেতে হত না।“
দেখতে দেখতে পথও শেষ হয়ে আসল। তার কিছুক্ষন নিজের ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাবে আকাশ। সত্যিই অনেক বড় হয়ে গেছে সে। কিন্তু মনের আবেগগুলোতে সে এখনও সেই শৈশবের মতই আছে। হয়ত সে কারনেই, স্নেহা না বলে দেবার পরও তাকে কোনভাবেই ভুলতে পারছেনা, হয়ত পারবেও না কোনদিন। শুধু একটা ব্যাপার সে কোনভাবেই বুঝতে পারেনা- যে মেয়েটি তাকে সবসময় বলত, তার রোবটিক আচরনটা বাদ দিয়ে, একটু মানুষ হতে; সেই মেয়েটিই কেন তার আবেগ-অনুভূতিগুলো বুঝতে পারছেনা।
এতকিছুর পরও বিদায় বেলায় বারবার মনে হচ্ছে-
“মেয়েটি যদি আজ হ্যাঁ বলত,
হয়ত এ বিদায় মূহুর্তটা আরও অনেক সুন্দর হত।“

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৪ রাত ২:৫৫

খেলাঘর বলেছেন:

পড়লাম, লেখায় নতুনত্ব নেই।
প্রকাশের ধারা গতিশীল নয়।

২| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৪ সকাল ৭:৩৬

সালমান মাহফুজ বলেছেন: গল্পের কাব্যধর্মী প্রকাশ । ভালো লাগল ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.