| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইফতেখার ভূইয়া
গণতন্ত্র মুক্তি পাক, পরিবারতন্ত্র নিপাত যাক
ইফতার করে আজ সন্ধ্যের দিকে একটু হাটতে আর চা খেতে বের হয়েছিলাম। বিগত কয়েকদিনের মতোই গিয়ে দেখি চায়ের রেস্টুরেন্ট আজও বন্ধ। উপায় না দেখে ছোট একটা দোকান থেকে মেশিনে তৈরী চা খেতে হলো। একবার ব্যবহারযোগ্য খুবই ছোট্ট কাপে চা বিক্রি করেন দোকানদার। ঐ ছোট কাপের চা খেয়ে আমার মন ভরে না, তবুও হাটতে যাই বলে আপাতত খেতে হচ্ছে। দাম মাত্র ১৫ টাকা, যদিও ঐটুকু কাপের চা এর মূল্য ৫ টাকাও হওয়ার কথা নয়। চা খেতে খেতে আমি মোবাইল স্ক্রল করছি। হঠাৎই হোয়াটসএ্যাপে এর একটি গ্রুপ থেকে মেসেজ এলো, বেশ দীর্ঘ একটা মেসেজ। যেখানে লিখা:
আসসালামু আলাইকুম। আপনারা যারা এই আইডি এর মালিক হিসেবে ********* কে চিনতেন, (আপনাদের বন্ধু) আমি তার মেয়ে। আমার বাবা গত পহেলা ফেব্রুয়ারি রাত ৪ টায় স্ট্রোক জনিত কারনে ইন্তেকাল করেছেন। কিছু কারনে আপনাদের জানানোর মত পরিস্থিতি ছিল না। আপনারা সবাই আমার আব্বুর জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত বাসি করেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মেসেজটা পড়ে বেশ খারাপ লাগলো। হোয়াটস্এপ-এর ঐ গ্রুপে সদস্য সংখ্যা ৮০ উপরে। অনেকের প্রোফাইলেই ছবি নেই। যাদেরও আছে তাদেরও অনেককেই আমি আজও ঠিক চিনে উঠতে পারি নি। গ্রুপ থেকে সাধারণত খুব একটা মেসেজ আসে না তবে কেউ একটা কোন বিশেষ মেসেজ দিলেই হলো, দু'তিন যাবত মেসেজ আসতেই থাকে। আজও ঐ মেসেজটা পড়ার পর থেকেই ঘনঘন মেসেজ আসছে। যখন মেসেজটা পড়া হলো তখনও আমি বুঝতে পারি নি, আসলে কার কথা বলা হচ্ছে।
গ্রুপের কয়েকজন সদস্য আমার বেশ ঘনিষ্ট বন্ধু। মাত্র সপ্তাহ দু'য়েক আগেই আমাদের স্কুলের অডিটরিয়ামে প্রায় ৫০ জন বন্ধু-বান্ধব মিলিত হয়েছিলাম ইফতার পার্টিতে। সেখানে আমাদের বেশ কয়েকজন শিক্ষকও এসেছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই মেসেজ-এ যার কথা বলা হয়েছে, ও অনুপস্থিত ছিলো। অনেক চেষ্টা করেও ছেলেটার চেহারা মনে করতে পারছিলাম না। ঘনিষ্ট কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করতেই ওর ছবি পাওয়া গেল। ক্লিন-শেভড ছবি, বয়স হলেও দেখেই চিনতে পারলাম তৎক্ষনাৎ।
আরে! ওতো সরোয়ার! ভীষণ রাগচটা ছেলে। আমার অনেক ঘনিষ্ট বন্ধু না হলেও আমাদেরই বন্ধু ছিলো, একই সাথে স্কুলে পড়া, গোল্লাছুট খেলা। খুব সম্ভবত বরিশালের ছেলে। বেশ খারাপ লাগছে ওর ছবিটা দেখার পর থেকে। বন্ধু-বান্ধব এর কেউ হঠাৎ হারিয়ে গেলে, কষ্ট পাওয়াটাই হয়তো স্বাভাবিক তবুও এত তাড়াতাড়ি ও চলে যাবে সেটা বিশ্বাস করতেও বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। ছোট বেলায় দেখাটাই শেষ দেখা হয়ে থাকলো। বিদায় বন্ধু, যেখানেই থাকিস, ভালো থাকিস। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সবার প্রতি সদয় হোন এই প্রত্যাশাই করি সব সময়।
©somewhere in net ltd.