| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইফতেখার ভূইয়া
গণতন্ত্র মুক্তি পাক, পরিবারতন্ত্র নিপাত যাক
বাংলাদেশে বিগত ক'দিন ধরেই সিসি ভিত্তিক বাইকের উপর অগ্রিম আয়কর বসানোর বিষয়টি বেশ জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরটি নিয়ে প্রতিবেদন আসছে, বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বাইকারগণ তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিষয়টি নিয়ে আমিও কম-বেশী ভাবার সুযোগ পেয়েছি এবং আমার কাছে পুরো বিষয়টিই অপ্রয়োজনী ও অমানবিক বলে মনে হয়েছে। আমার ধারনার ভুল থাকাও অস্বাভাবিক নয়, তবে ক্ষুদ্র জ্ঞাণে আমার তেমনটাই মনে হয়েছে।
যতদূর জানা যায় তাতে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৪৮ লাখের কিছু বেশী বাইক নিবন্ধিত রয়েছে (সূত্র)। অনিবন্ধিত বাইকের সংখ্যা বাদ দিলেও এ সংখ্যাকে নেহাত ছোট বলে আমার মনে হয় না। তদুপরি এদের মাঝে ১৫০ সিসি পর্যন্ত বাইকগুলো মূলত কমিউটার বাইক। আমি সরকারি সংজ্ঞায় যেতে চাচ্ছি না বরং এখানে বাস্তবতার নিরিখে যতটুকু সম্ভব ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন মনে করি।
বাংলাদেশে ১৫০ সিসির উপরে বা সৌখিন বাইকার কতজন তা খুঁজে বের করা কঠিন কিছু নয়। বেশীরভাগ বাইক-ই ১৫০ সিসি বা তার নিচে। এই বাইকগুলোর বিরাট একটা অংশ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হয় যেমন রাইড শেয়ারিং বা বিভিন্ন কোম্পানীর মালিকানাধীন। আবার অনেক বাইকার রয়েছেন যারা তাদের নিত্যদিনের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাইক ব্যবহার করেন, হোক সেটা অফিসে যাওয়ার জন্য কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে। এদের বেশীরভাগ মানুষই মূলত মধ্য কিংবা নিন্ম-মধ্যব্ত্তি শ্রেনীর মানুষ। মূলত আয়ের জন্য কিংবা কিছু খরচ ও সময় বাঁচাতেই তারা বাইক ব্যবহার করেন। বাংলাদেশে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ভালো থাকলে হয়তো বাইকারের সংখ্যা আরো অনেক কম হতো। সেদিকটায় সম্ভবত সরকারের আরো বেশী নজর দেয়া জরুরী।
বাংলাদেশে এলাকা ভিত্তিক যোগাযোগরে বিরাট একটা অংশ জুড়ে আছে রিকশা কিংবা দেশী টেসলা। দৈনন্দিন যোগাযোগের খরচ হিসেব করলে, এদের ভাড়াও কম নয়। এলাকা ভিত্তিক ভাড়ার পার্থক্য থাকলেও সব মিলিয়ে এটাকে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যের একটা বড় খরচের হিসেব হিসেবেই দেখতে হয়। আমাকে দিয়েই বলি, গড়ে প্রতিদিনই আমার ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মত রিকশা ভাড়া খরচ হচ্ছে। ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত, বিগত দুই বা আড়াই বছরে গড়ে ১২০ টাকা হিসেবে আমি প্রায় ৯০ হাজার টাকার রিকশা ভাড়া দিয়েছি। তাও মাঝে মাঝে রিকশা পাওয়া যায় না, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়, কখনো কখনো তারা আমার গন্তব্যেও যেতে চান না। সম্প্রতি তাই আমিও যাতায়াতের জন্য একটি বাইক কেনার বিষয়টি বেশ জোরেশোরেই ভাবছিলাম।
বিষয় হলো যারা বাইকের উপর এভাবে জীবন-জীবিকার জন্য নির্ভরশীল তারা কেউই আদতে ধনী লোকজন নন। তেমনটা হলে তাদের বাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা কিংবা দৈনন্দিন কারনে বাইকের প্রয়োজন হতো না। তাই তাদের উপর এভাবে করের বোঝা বসিয়ে দেয়া আমার কাছে অযৌক্তিক বলে মনে হয়। তবে হায়ার সিসি বা ১৫০ সিসির উপর বাইকে যারা মূলত সৌখিন বাইকার, যারা ৪-৫ লাখ টাকা দিয়ে বাইক কেনেন তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেকটাই ভিন্ন বলে আমার মনে হয়।
সবাইকে আয়কারের আওতায় আনা হোক, সেটা নিয়ে সমস্যা নয় তবে সেটা হতে হবে ন্যায্য ও যুক্তি সঙ্গত। ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সরকার আয়ের আগেই খরচের খাতা খুলে বসেছে । এখন প্রচুর টাকা দরকার ; সেকারণেই হয়তো এতো এগ্রেসিভ।