| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাব্বী হাসান সবুজ
খুব সাদামাটা একজন মানুষ
১৯৭৬ সালে মুসা বিন শামসের হাত ধরে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক বিদেশে যাওয়া শুরু হয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে ২০১৬ সালে অর্থনীতিতে বাংলাদেশ পঞ্চম। বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে আছে বাংলাদেশের শ্রমিক। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে বেশি। ২০১৬ সালের তথ্য মতে আয় এর দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে দশম আর দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয়। জিডিপি ১১% বিদেশি মুদ্রার রিজাভের্র ৬০% বর্তমানে এক কোটি শ্রমিক।
বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল হচ্ছে, অর্থনীতির জন্য খুব একটা ভালো দিক। বর্তমানে আমরা এখন গরীবের সর্দার। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি হচ্ছে প্রবাসী ভাইদের টাকায় কিন্তু কিভাবে এই টাকা গুলো আসে একবার কি ভেবে দেখেছি আমরা?
কতো ঘাম, রোদ, বৃষ্টি, শীতের সঙ্গে মোকাবেলা করে টিকে আছেন তারা। জীবনের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে দিয়ে অজানা এক গন্তব্যে পাড়ি দেয়। “ যৌবনের সর্বোত্তম সময় যখন মনে ও শরীরে সতেজতা থাকে তখনি কিছু করার শেষ সময়” এই বাক্যটি তাঁদের সম্বল। শুধু মাত্র একটু ভালো থাকা আর ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পাওয়া এই আর কি। কিন্তু এর জন্য সেই প্রবাসী ভাইকে কতো কিছু হারাতে হচ্ছে আমরা কি একবার ভেবে দেখেছি?
হারাতে হচ্ছে মা বাবার ভালোবাসা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, বড় বোনের ভাই ডাকটি,ছোট বোনের চুলের খোপা খুলে দেওয়া খুনসুটি, অভাবের তাড়নায় নিজের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়ে পরিবারের হাল ধরা। আর ছেলেটি যদি বিয়ে করে আর একটি মেয়ে থাকে তাহলে সেই আদর মাখা আব্বু ডাকটি, একমাত্র মেয়েটিকে কোলে নিয়ে আদর করা হয় না, বুকের মধ্যে নিয়ে আর ঘুম দেওয়া হয়না কলিজার কন্যাটিকে, তার কোলে আজ আর প্রসাব করে না। আজ পকেটে টাকা সত্ত্বেও মেয়েটির জন্য চিপস কিনতে পারেনা এই বাবা। কিভাবে কিনবে এই বাবা এখন যে প্রবাসী। শুধু অন্যদের মাঝে নিজে মেয়েকে নিয়ে সমালোচনা ছাড়া কোন উপায় থাকে না।
এই প্রবাসী জীবনে হারাতে হচ্ছে পরিবারের মায়া, মমতা, ভালোবাসা। টাকার অভাবে বড় বোনটির বিয়ে হয়নি আজ সেই বোনের বিয়ে, এই বিয়ে নিয়ে কতো পরিকল্পনা ছিল, সব দায়িত্ব কাধে নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকবে ছেলেটি কিন্তু তা আর হলো না। দেখা হলো না মেহেদী রাঙা বোনের হাতটি, লাল টুকটুকে শাড়ীতে বুবুকে কেমন লাগছে দেখা হলো না প্রবাসী ভাইয়ের।
এক বছরের মধ্যে মা, বাবা মারা গেল কিন্তু তাঁদের শেষ মুখটি দেখতে পেলনা ছেলেটি। মায়ের হাত ধরে বেঁড়ে ওঠা, মুখে খাবার তুলে দেওয়া, সেই কবরে মাটি দিতে পারলো না প্রবাসী ভাইটি। কিভাবে দিবে সে এখন প্রবাসী। পারলো না বাবাকে ফিরিয়ে দিতে জমি, পারলো না মায়ের ফিরিয়ে দিতে গহনা, পারলো না বাড়ি বন্ধকের টাকা পরিশোধ করতে। প্রিয়তমা স্ত্রীর কথা না আর বললাম।
আমরা মানুষ চাই শুধু আনন্দ, সুখ, উপভোগ করতে আর নিজেকে পরিপূর্ণ রাখতে। আর সুখের স্মৃতি তিল তিল করে স্মৃতির জাদুঘরে জমা রেখে দুঃখের কন্টকিত দিনগুলোকে ভুলে থাকতে। দুঃখের মতো দুঃখের স্মৃতিচারণের আপাতচক্ষে বর কষ্টের, বড় যন্ত্রণার কথা পাশ কেটে যাতে চাই এই নারী।
আসার সময় বলেছিল “আমাকে ছেড়ে না গেলে হয় না”? এই কথাটি অনুভব করার ক্ষমতা আমাদের আছে হয়তো কিন্তু বোঝার ক্ষমতা আমাদের নাই। এই হতভাগি কত রাত নিরবে কেঁদে বালিশ ভিজিয়েছে, আমরা কি তার কেউ হিসেব রেখেছি? রাখিনি, গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে ডান পাশে হাতটি বাড়ায় তখন দেখে দুঃখিনীর প্রিয় মানুষটি নাই। আমরা কি কেউ জানতে চেয়েছি কতবার এমন হয়েছে?
আজকে খুব ইচ্ছা করছে বাজারের গরম জিলাপী খেতে কিন্তু কাকে বলবে এই কথা? পাশের বাড়ির ভাবীদের দেখে মনটা চাই পুতুলের মতো করে সাজতে কিন্তু এই রমনী কার জন্য সাজবে তার প্রিয়তম যে প্রবাসী।
মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়ে যুদ্ধ করেছে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে তাদেরকে আমরা দিয়েছি সন্মান, দিয়েছি উপাধি কিন্তু আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য এই প্রবাসী ভাই ও তার অর্ধাঙ্গী তাঁদের দুজনের জীবন এবং যৌবনকে উৎসর্গ দিয়ে আমাদের মুখে হাসি দিয়ে যাচ্ছে আমরা কি কখনো এদের ঋণ শোধ করতে পারবো? দিতে পারবো কখনো সন্মান উপাধি?
২|
২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ২:১৫
চাঁদগাজী বলেছেন:
এ রকমভাবে পরিবার পরিজন ছেড়ে গিয়ে, আদম ব্যাপারীকে বিলিওনিয়ার বানায়ে, প্রশাসনকে ট্রলিলিওনার বানায়ে, বিদেশীদের জন্য শ্রম দেয়ার কি দরকার ছিলো? এই দেশে কি চাকুরী সৃস্টি করা অসম্ভব ছিলো?
আমাদের মানুষের শ্রম কি জাতির কাজে লাগানো যেতো না? যারা অকারণ এই সমস্যার সৃস্টি করেছে, তাদের ১৪ গোস্ঠীকে এই দেশ থেকে বের করে দেয়ার দরকার আছে!
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:৫৬
মিঃ আতিক বলেছেন: মালয়সিয়ায় পড়াশুনা করার সময় আমার সাথে প্রথম পরিচয়ে এক চাইনিজ বলেছিল " ও তুমি বাংলা"। বলার ভাবটা ছিল এমন যে আমি তার চে নিচু জাতের কিছু একটা।