নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ক্ষোভের দাবানলে পুড়ছে খোমেনির তখত-তাউস।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

ক্ষোভের দাবানলে পুড়ছে খোমেনির তখত-তাউস।
=============================
ইরান আজ আর শুধু বিক্ষোভের দেশ নয় ইরান এখন একটি ক্ষুব্ধ জাতির নাম। খামেনির নেতৃত্বাধীন মোল্লাতান্ত্রিক জঙ্গি শাসনের বিরুদ্ধে যে গণজাগরণ শুরু হয়েছে, তা কোনো হঠাৎ রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের দমন, লুটপাট ও ব্যর্থ শাসনের অনিবার্য পরিণতি। নির্বাসিত রেজা পাহলভির আহ্বানে তেহরান, মাশহাদ, ইসফাহানসহ একাধিক শহরে মানুষের ঢল প্রমাণ করে ভয়ের দেয়াল ভেঙে পড়েছে।

এই বিস্ফোরণের মূল কারণ অর্থনীতি। খামেনির শাসনে ইরানের অর্থনীতি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সীমাহীন দুর্নীতি, ধর্মীয় এলিটদের লুট, বিদেশে প্রক্সি যুদ্ধ ও সামরিক আগ্রাসনে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ আজ নিঃস্ব। মুদ্রাস্ফীতি লাগামছাড়া, কর্মসংস্থান নেই, নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরে। একটি পুরো প্রজন্মকে ভবিষ্যৎহীন করে দেওয়া হয়েছে।
এর ওপর আগুনে ঘি ঢেলেছে মাহসা আমিনি হত্যাকাণ্ড। শরিয়া পুলিশের হেফাজতে এক তরুণীর মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয় এটি ছিল রাষ্ট্রীয় বর্বরতার প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি। এরপর থেকে ‘নৈতিকতা পুলিশ’-এর নামে নারীদের ওপর যে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, তা মধ্যযুগীয় অমানবিকতার প্রতিচ্ছবি। এই আন্দোলনে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা তাই কাকতাল নয় এটি বেঁচে থাকার লড়াই।
প্রশ্ন উঠছে এই বিক্ষোভে কতজন নিহত? ইরানের মতো দমনমূলক রাষ্ট্রে এ প্রশ্নের সৎ উত্তর পাওয়া অসম্ভব। নিহতের সংখ্যা গোপন রাখা, লাশ লুকানো, পরিবারকে হুমকি দেওয়া এসবই খামেনি শাসনের পুরনো কৌশল। তবে ইতিহাস বলে, যে রাষ্ট্র মৃত্যুর হিসাব লুকায়, সে রাষ্ট্র নিজেই মৃত্যুপথযাত্রী।
খামেনির ইরান একটি ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়; এটি একটি আদর্শিক জঙ্গি কারাগার। এখানে ভিন্নমত অপরাধ, প্রশ্ন করা রাষ্ট্রদ্রোহ। কিন্তু রাজপথে আজ যে কণ্ঠ ধ্বনিত হচ্ছে, তা স্পষ্ট আর নয়।
স্বৈরশাসন বন্দুক দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, কিন্তু ইতিহাসকে বন্দি করতে পারে না। ইরান আজ সেই ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।
-- সালাউদ্দিন রাব্বী
সভাপতি- সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৩৫

অগ্নিবাবা বলেছেন: আমার বেশ কয়েকজন ইরানী বন্ধু আছে। খোমেনীর শাসনে তারা ধাওয়া খেয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে, এখন সবাই বিদেশে থাকে। ওদের একটাই কথা—খোমেনী গেলেই তারা আবার দেশে ফিরবে। আর সেদিন নাকি আমাকে ধরে নিয়ে যাবে ভালো একটা বারে, দামী মদ খাওয়াবে।

আমি বেশ আনন্দ নিয়েই সেই দিনের অপেক্ষায় বসে আছি। কারণ একটাই—ফ্রি মদের পিনিক আলাদা লেভেলের হয়।

২| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৫

অগ্নিবাবা বলেছেন: ইরানিদের সঙ্গে কথা বললে একটা বিষয় খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়—
অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, “আগে কত সুন্দর দিন কাটাতাম।”

খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের পর রাষ্ট্রীয়ভাবে অতিরিক্ত ইসলামিকরণ শুরু হয়,
যার ফলে সমাজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপন অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

এর পরিণতিতে বহু ইরানি আজ নিজ দেশ ছেড়ে বিদেশে শ্রমিক বা সাধারণ কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।
এই অভিজ্ঞতার কারণে অনেকের মধ্যেই ধর্মীয় শাসনের প্রতি হতাশা তৈরি হয়েছে।

ফলে একটি অংশ ধীরে ধীরে ইসলাম থেকে দূরে সরে গিয়ে
ইরানের প্রাচীন ঐতিহ্য—বিশেষ করে জরাথুস্ত্রবাদ—এর প্রতি নতুন করে আকৃষ্ট হচ্ছে।

এটা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ নয়,
বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে ধর্ম মিশে গেলে
একটি সমাজ কীভাবে তার ভারসাম্য হারাতে পারে—তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।

আফশোষ, নকীবভাই এটা বুঝতে চায় না।

৩| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইকোনমি সঠিক ভাবে পরিচালনা না করতে পারলে পতন ঘটবে । শেখ হাসিনাকে দেখে খোমেনির হুশ হয় নি। ইরান আমি-ডামি ইলেকশনের আগে শেখ হাসিনা রেজিম কে সাপোরট করেছিলো। রাশিয়ার নেক নজরে থাকতে ।

৪| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪১

অগ্নিবাবা বলেছেন: কুতুবভাই, ইকোনমি পরিচালনা করবেন কি দিয়ে? কোরান হাদিস দিয়ে? সুদ ছাড়া কোন ইকোনোমি চলে?

৫| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: অগ্নিবাবা@এরদোয়ান টিকে গেলে ইরান কেন পারছে না ? সওদি টিকে গিলে ইরান কেন পারছে না ? আগে এটা বুঝতে হবে । আমি খোমেনিকে দেখতে পারি না । উহা বাশার আল আসাদ কে হেলপ করার নামে মিলিশিয়া পাঠিয়ে নিরীহ মানুষ খুন করেছে। শুধু সুদের কারণে ইরানে খোমেনি রেজিম টলে যায় এমন না । ইরানিরা বলছে: আমার জীবন লেবানন, সিরিয়া , কিংবা গাজার জন্য নয় । ইহার মানে আগে বুঝতে হবে । আপনি মিলিশিয়া আর আরমস কিনতে বিলিয়ন ডলার খরচ করবেন এদিকে দেশের মানুষ ভাত পায় না খাইতে তাহলে কি ভাবে চলবে ? । রাশিয়া ও চায়না কি সুদ ছাড়া ইরান কে কিছু দেয় ?

৬| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৪২

রাজীব নুর বলেছেন: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলোর মধ্যে ইরান উন্নত।
যারাই মন্দ কাজ করবে তাদের পতন হবেই।

৭| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:০৫

আলামিন১০৪ বলেছেন: অগ্নিবাবা, সুদের বিষয়ে আমার একটা ব্যক্তিগত মত আছে,
কাগজের টাকার মূলত কোন অর্ন্তুনিহিত মূল্য নেই, ইহা আরোপিত, সরকারের নানাভাবে এই টাকাকে অবমূল্যায়িত করে মূল্য কমাতে পারে ফলে দেশে মূদ্রা স্ফীতি হয় এখন যদি সরকার আপনাকে মূদ্রাস্ফীতির বিনিময়ে একটা কমপেনসেশন দেয়, তা সুদ হয় কিভাবে? তবে কোন ব্যাংক বা ব্যক্তি যদি মূদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেশি সুদ দেয় তা ইসলামিক মতে বৈধ হবে না তবে সরকার দিলে তা বৈধ কারণ কাগুজে টাকা হলো সরকারের সাথে আপনার চুক্তিপত্র।
ব্যাংক নোটে একটা কথা লিখা থাকে, চাহিবামাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক ইহার বাহককে .....টাকা দিতে বাধ্য থাকিবে, অর্থাৎ ইহা একটি চুক্তিপত্র....

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.