| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা ও জাতির বিপর্যয়।
---------------------------------------
ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতিতে যখন ধর্মকে ব্যবহার করা হয়, তখন তা শেষ পর্যন্ত জাতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে। সাম্প্রতিক বিশ্বের দিকে তাকালেই এই বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সিরিয়া, লিবিয়া, ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তানের মতো দেশগুলো একসময় সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র ছিল; আজ তারা রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও মানবিক সংকটের প্রতীক।
এই দেশগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো রাষ্ট্রক্ষমতায় ধর্মীয় গোষ্ঠী বা ধর্মের নামে রাজনীতি করা শক্তির আধিপত্য। প্রথম দিকে তারা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ করে। জনগণও তখন মনে করে, ধর্মভিত্তিক শাসন মানেই ন্যায়বিচার, সুশাসন ও নৈতিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দেখায়।
ধর্মীয় দালালরা রাষ্ট্রক্ষমতার স্বাদ পেয়ে ধীরে ধীরে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়, বিরোধী মত দমন করতে অস্ত্র ও রাষ্ট্রীয় শক্তির ব্যবহার শুরু হয়। ধর্ম তখন আর নৈতিকতার উৎস থাকে না; তা হয়ে ওঠে ক্ষমতা রক্ষার ঢাল।
সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো এই প্রক্রিয়া বুঝতে জনগণের কয়েক যুগ লেগে যায়। ততদিনে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়ে, অর্থনীতি ধ্বংস হয়, শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যখাত বিপর্যস্ত হয়। এক সময় জনবিস্ফোরণ ঘটে গৃহযুদ্ধ, শরণার্থী সংকট, সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। তখন আর কোনো বিদেশি প্রভু বা মিত্র শক্তিও সেই রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে পারে না; কারণ ভেতর থেকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রকে বাইরে থেকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
আজ আফগানিস্তান বা সিরিয়ার দিকে তাকালে আমরা দেখি একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা কীভাবে পুরো জাতিকে ভিক্ষুকের কাতারে দাঁড় করাতে পারে। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট কিংবা ইরানের দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও একই সূত্রে গাঁথা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্র ধ্বংস করে ধর্মীয় বা আদর্শিক একনায়কতন্ত্র কায়েম করা।
বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই অভিজ্ঞতা একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হওয়া উচিত সংবিধান, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নাগরিকের সমঅধিকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় ব্যাখ্যা নয়। ধর্ম থাকবে মানুষের হৃদয়ে, রাষ্ট্র চলবে যুক্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধে এই বিভাজন স্পষ্ট না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও একই মূল্য দিতে হবে।
ইতিহাস আমাদের সামনে উদাহরণ সাজিয়ে রেখেছে। প্রশ্ন হলো আমরা কি সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেব, নাকি বারবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করব?
-- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন।
ঢাকা ১০০০ বাংলাদেশ। 
২|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫২
রাজীব নুর বলেছেন: ধর্ম কোনো কাজের জিনিস না।
কাজেই রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য ধর্মের কোনো প্রয়োজন নেই।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২৩
এ পথের পথিক বলেছেন: আপনার মস্তিষ্কে চিন্তা শক্তি নেই