| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অন্ধবিশ্বাস ভেঙে যুক্তির পথে মানবসভ্যতা।
==========================
কার্ল মার্কস, লেনিন, স্ট্যালিন, ম্যাক্সিম গোর্কি, ফিদেল কাস্ত্রো, চে গুয়েভারা, হো চি মিন ও মাও সে তুংএই সকল ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সময় পেলেই অল্প বিস্তর পড়ার চেষ্টা করেছি এবং এখনো করছি। তাঁদের জীবন, দর্শন ও সংগ্রামের ইতিহাস পড়তে গিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্বের বহু দেশে ধর্মের নামে শাসক শ্রেণী শ্রমজীবী ও দুর্বল মানুষের উপর এক প্রকার অদৃশ্য কিন্তু নির্মম শোষণের ব্যবস্থা কায়েম করে রেখেছিল। ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছিল মানুষের চেতনা নিয়ন্ত্রণের এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে, যাতে সাধারণ মানুষ ভয়ের বৃত্তে আবদ্ধ থেকে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে না পারে।
এই প্রেক্ষাপটে উল্লিখিত মহান ব্যক্তিত্বরা সমাজের সামনে এক ভিন্ন চিন্তার দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। তাঁরা মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, অন্ধ বিশ্বাস ও ভয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে যে কাঠামো প্রতিষ্ঠিত ছিল, তা অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের মুক্তি ও অগ্রগতির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাঁদের চিন্তা ও আন্দোলন মানুষের মধ্যে প্রশ্ন করার সাহস জাগিয়ে তোলে, যুক্তি ও বাস্তবতার আলোকে সমাজকে দেখার মানসিকতা তৈরি করে এবং শোষণমুক্ত, সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখায়।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই সাহসী ও চিন্তাশীল মানুষদের জন্ম না হলে মানবসভ্যতার বোধ, যুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ধারণা এতদূর এগিয়ে আসা কঠিন হতো। ধর্মীয় ভয় ও অন্ধ আনুগত্যের বেড়াজাল ভেঙে মানুষ যখন যুক্তিবাদ, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানবিক মূল্যবোধের দিকে অগ্রসর হয়েছে, তখনই পৃথিবী জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করতে পেরেছে। তাঁদের চিন্তা ও সংগ্রাম মানুষের মুক্তচিন্তা ও সামাজিক পরিবর্তনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
--- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন।
বাংলাদেশ।

©somewhere in net ltd.