নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা পরিচয়ে আমরা সবাই সমান।

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৫০

ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা পরিচয়ের ভেদাভেদ নয় সমান অধিকারই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। সংবিধানও সে কথাই বলে। কিন্তু বাস্তব রাজনীতির মঞ্চে যখন সমতার ভাষণ আর বাস্তব আচরণের মধ্যে তীব্র বৈপরীত্য দেখা যায়, তখন প্রশ্ন উঠবেই এই রাজনীতি কাদের জন্য, কোন নীতির ভিত্তিতে?

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির যে প্রবাহ, তার মধ্যে অন্যতম সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি নিজেকে ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়। কিন্তু একই সঙ্গে এই দলীয় কাঠামোর ভেতরে একজন অমুসলিম ব্যক্তি কখনোই ‘রোকন’ বা পূর্ণ সদস্য হতে পারেন না এমন নীতিগত বাস্তবতা নিয়ে বহুদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদে ধর্মীয় পরিচয় বাধা, সেখানে হঠাৎ করে অন্য ধর্মের একজনকে নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার নৈতিক ভিত্তি কী?
এখানেই আসে কৃষ্ণ নন্দী নামটি। একজন হিন্দু ধর্মগুরু পরিচয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে তিনি যদি এমন একটি দলে এমপি প্রার্থী হন, যার আদর্শিক ভিত্তি ও সাংগঠনিক কাঠামো অমুসলিমদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে না তবে সেটি নিছক রাজনৈতিক কৌশল, নাকি নীতির সঙ্গে আপস? এই প্রশ্ন আজ অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
২০২৪ থেকে ২০২৬ এই সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, নির্যাতন, ভাঙচুর ও ভয়ভীতির নানা অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। এসব ঘটনার জন্য কে কতটা দায়ী, তা নির্ধারণ করা অবশ্যই রাষ্ট্র ও আইনের কাজ। তবে একজন ধর্মীয় নেতা হিসেবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় নৈতিক অবস্থান নেওয়ার প্রত্যাশা জনগণের থাকতেই পারে। যখন সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না, তখন হতাশা ও ক্ষোভ জমাট বাঁধে।
প্রশ্ন হলো একজন ধর্মগুরু কি কেবল রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে পারেন, যেখানে তাঁর নিজ সম্প্রদায়ের মানুষ সমান মর্যাদা পায় না বলে অভিযোগ রয়েছে? নাকি তাঁর দায়িত্ব ছিল স্পষ্টভাবে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া?
আজ সময় এসেছে পরিষ্কার প্রশ্ন করার।
সমতার কথা বললে সমতার নীতি মানতে হবে।
ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললে তার চর্চা করতে হবে।
সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষার কথা বললে বাস্তব অবস্থান দেখাতে হবে।
যে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির প্রতি সমর্থন বা বর্জন এটি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। তাই সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ বিবেক দিয়ে বিচার করা কে সত্যিই সমতার পক্ষে, আর কে কেবল সমতার ভাষা ব্যবহার করছে।
গণতন্ত্রে সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ।
আর জনগণের সচেতন সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে ভবিষ্যৎ রাজনীতি কেমন হবে: বৈষম্যের, নাকি সমঅধিকারের।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১৪

কাঁউটাল বলেছেন: নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে একজন "হাউয়ামী ছাগল" হিসাবে আপনার অনুভুতি কি?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.