| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এই চুক্তি স্বাধীনতার নয়, আত্মসমর্পণের দলিল।
==================================
বাংলাদেশের ইতিহাস রক্তে লেখা স্বাধীনতার জন্য, মর্যাদার জন্য, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার অধিকারের জন্য। কিন্তু আজ যে তথাকথিত চুক্তির কথা সামনে এসেছে, তা আমাদের সেই অর্জনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জামাতী নেতা আমেরিকার দালাল ইউনূস-এর সঙ্গে আমেরিকা এর এই প্রস্তাবিত সমঝোতা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে এটি কোনো উন্নয়ন সহযোগিতা নয় এটি সরাসরি একটি রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে বশ্যতা স্বীকার করানোর প্রচেষ্টা।
এই চুক্তির প্রতিটি শর্ত যেন একেকটি শৃঙ্খল।
আমাদের বলা হচ্ছে, ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতেই হবে, অন্য কোনো দেশ যেমন ফ্রান্স থেকে কেনার সুযোগ থাকবে না। প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি একটি স্বাধীন বাজার অর্থনীতির দেশ, নাকি কারো নির্ধারিত ক্রেতা?
আমাদের বাধ্য করা হচ্ছে ১৫ বছরে ১৫০০ কোটি ডলারের তেল এবং প্রতি বছর ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য কিনতে। এই বিপুল অর্থের দায় নেবে কে? দেশের সাধারণ মানুষ, যারা ইতিমধ্যেই মূল্যস্ফীতির চাপে ন্যুব্জ?
আমাদের প্রতিরক্ষা খাতকেও শর্তের বেড়াজালে বাঁধা হচ্ছে অন্য কোনো দেশ, বিশেষ করে China থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা যাবে না। একটি স্বাধীন দেশের নিরাপত্তা নীতি কি অন্য দেশের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে?
সবচেয়ে লজ্জাজনক শর্তগুলোর একটি আমরা চাইলে অন্য কোনো দেশ থেকে পণ্য কিনতেও অনুমতি নিতে হবে! এটি কি স্বাধীনতার ভাষা, নাকি উপনিবেশিক শাসনের পুনরাবৃত্তি?
আমাদের নিজস্ব শিল্পকে রক্ষা করতে কোনো ভর্তুকি দেওয়া যাবে না, অথচ উন্নত দেশগুলো নিজেদের শিল্পকে রক্ষা করতে সব ধরনের সুবিধা দেয়। তাহলে কি আমাদের শিল্প ধ্বংস করে অন্যের বাজার তৈরি করাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য?
আরও বিস্ময়কর যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকারও থাকবে না! অর্থাৎ যা দেওয়া হবে, তা-ই চোখ বন্ধ করে কিনতে হবে। এটি কি বাণিজ্য, নাকি জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া শর্ত?
সবশেষে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে, বাংলাদেশকেও তা মেনে চলতে হবে। এর অর্থ, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আর আমাদের হাতে থাকবে না।
এটি উন্নয়ন নয় এটি নিয়ন্ত্রণ
এই চুক্তি উন্নয়নের নামে এক নতুন ধরনের নির্ভরতা তৈরি করবে, যেখানে সিদ্ধান্ত হবে বাইরে, আর বোঝা বহন করবে বাংলাদেশের মানুষ। এটি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, কৌশলগত ভারসাম্য এবং জাতীয় মর্যাদার সরাসরি হুমকি।
জাতির প্রতি আহ্বান
বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তির নয় এটি ১৮ কোটি মানুষের। এমন একটি চুক্তি যদি সত্যিই হয়ে থাকে বা আলোচনায় থাকে, তবে তা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে। জাতীয় সংসদে আলোচনা, বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শেষ কথা
আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু মাথা নত করে নয়। আমরা সহযোগিতা চাই, কিন্তু শর্তহীন আত্মসমর্পণ নয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে কারো বাজার হওয়ার জন্য নয় নিজের ভাগ্য নিজে গড়ার জন্য।
এই দেশ বিক্রির জন্য নয়।
সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৪
চয়ন আহমেদ বলেছেন: এখনও এই যুগে কে লিখে এইসব ব্লগে ভাই?