নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রফিকুল হক ভারতীয়

রফিকুল হক ভারতীয় › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার চিন্তা

১৫ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৫:২৫

আমি পূর্ববাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ) র মূলের আসাম বাসী ভারতীয়। তাই ভাষা ও সংস্কৃতিতে আমার এই জনগোষ্ঠীর(এখানে জনগোষ্ঠী বলেই বলা হচ্ছে, কারণ জাতীয় পরিচয় বললে এখানে অসমীয়া জাতীয়তাকেই বুঝান হয়।) সবচেয়ে বেশি মিল রয়েছে ঐ দেশের সাথে। আর এ কারণেই খুব স্বাভাবিক ভাবেই ঐ দেশটার সাথে আমাদের সাংস্কৃতিক মেল বন্ধন ঘটে বারবার। এ দেশে অপ্রিয় হলেও সত্যি কথা যে, আমাদের এই জন গোষ্ঠীটাকে হকে বিহকে বাংলাদেশীর (তুচ্ছার্থে) তকমা পড়িয়ে দেয়া হয়। আমাদের পুর্বপুরুষরা, সেই বৃটিস ভারতের এক অংশ থেকে আর এক অংশে এসেও, আজ এত বছর পর আমরা এখনো ভারতীয় হতে পারিনি। বংগের কোনও আঞ্চলিক ভাষায় (বাংলার ডাইলেক্ট) কথা বলা, লুঙ্গি, সার্ট অথবা ধুতি পরিহিত, কোন লোক দেখলেই বাংলাদেশী বাংলাদেশী গোন্ধ আসার প্রমান অনেক মেলে। আর এখানে আমাদের ভারতীয় হবার পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হচ্ছে অসমীয়া জাতীয়তাবাদ। অসমীয়া জাতীয়তা বাদীরা প্রায়শই আমাদেরকে বাংলাদেশী, মিয়াঁ (তুচ্ছার্থে), চরুয়া(চর বাসী), পমুয়া(পাম বাসী, অর্থাৎ যারা স্থায়ী নয়), অনা-অসমীয়া, বাঙাল ইত্যাদি নানা শব্দে ভূষিত করিয়া থাকেন। (তবে এখানে খুব নগণ্য হলেও, আমাদেরকে নতুন অসমীয়া বলে গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা লোকো আছে। তবে এটাও একপ্রকার ষড়যন্ত্র, কারণ এ কথা বলেই এই জনগোষ্ঠীকে ভাষাহীন করা হয়েছে।) বার বার নেমে আসে ঘৃণ্য আক্রমণ। ১৯৭৯ থেকে ৮৩ র বহিরাগত আন্দোলনের কথা আমরা জানি। যা পড়ে আসাম আন্দোলন বলে পরিচিতি লাভ করে। আর এর শেষ উদাহরণ বিটিএডি(বড়োলেণ্ড) র আক্রমণ। তাই পশ্চিম আসামের অনেক মানুষ এক প্রকার আতঙ্কে বাস করেন।

নানা প্রকার সমস্যায় জর্জরিত এই জনগোষ্ঠীর ভাষা সংস্কৃতিকে এখানে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। অথচ দেশের সংবিধান প্রতিটি জাতি-জনগোষ্ঠীকে তার নিজস্ব ভাষা সংস্কৃতি বাজিয়ে বেচে থাকার অধিকার দেয়। এঁদের ভাষায় এঁরা কথা বলতে পাড়েনা। এ জনগোষ্ঠীর উঁচু মানের সঙ্গীত কোন জায়াগায় স্থান পায়না। এক জন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তার মুখের ভাষা। সেই ভাষাকে ছিনিয়ে নিয়ে এঁদেরকে একপ্রকার বোবা করে দেয়া হয়েছে। আর এটাই সুস্থ মানসিক বিকাশের প্রধান অন্তরায়। তাই অস্বাস্থ, অশিক্ষা, বাল্য বিবাহ, শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর উচু হার, চুরি, ডাকাতি, হানা হানি এবং সর্বোপরি দারিদ্রতা ও ক্ষুধা এঁদের মধ্যে প্রবল। নানা খবরে পাই, বাংলাদেশ এ গুলি ক্ষেত্রে প্রভুত উন্নতি করেছে। তবে আমরা অনেক পিছিয়ে। গোটা দেশের পরিসংখ্যান উন্নত হলেও, এই জনগোষ্ঠীর অবস্থা অনেক নিচে। আজ এ পর্যন্তই। পড়ে এ বিষয়ে আর বিস্তারিত লেখার আশা রইল।



মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৫:৫২

বিজন রয় বলেছেন: ভাল লিখেছেন।
++++

২| ১৫ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ৯:১০

অগ্নি সারথি বলেছেন: সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই। পুরো আসামের অবহেলিত জনতার জন্য রইল শুভ কামনা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.