নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বেলাল হোসাইন রাহাত

বেলাল হোসাইন রাহাত › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও নারী

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:১৯

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নারীর জীবন অধ্যয়নের একটি বড় দিক। এই যুদ্ধে নারীর ভূমিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নারী তার সর্বাত্মক শক্তি নিয়োগ করেছিল স্বাধীনতার মতো একটি বড় অর্জনে। পুরুষের পাশাপাশি নারীর অংশগ্রহণ ছিল তার জীবনবাজি রাখার ঘটনা। অথচ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নারীকে মূলধারায় স্থাপন না করার ফলে নারীর প্রকৃত ইতিহাস যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। নারী মুক্তিযুদ্ধে যে গৌরবগাথা রচনা করেছিল, তা ধর্ষিত এবং নির্যাতিত নারীর ভূমিকায় অদৃশ্য হয়ে আছে। প্রকৃত অবদান খুঁজে নারীকে মূলধারায় না আনার আরো একটি কারণ, নিম্নবর্গের নারীরাই ব্যাপকভাবে এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। নিম্নবর্গের নারীর ইতিহাস ক্ষমতাসীন সুশীল সমাজের কাছে ইতিহাসের উপাদান হিসেবে গৃহীত হতে শুরু করে স্বাধীনতার তিন দশক পরে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ বিষয় গবেষণা পর্যায়ে খানিকটা কাজ হয়েছে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষিতজন এবং নিরক্ষর অধিকাংশ মানুষের প্রচলিত ধারণায় মুক্তিযুদ্ধে নারীর অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেনি। নারীযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন গুটিকয়েক নারী। যুদ্ধের অনিবার্য পরিণতি হিসেবে নারীকে ধর্ষণের ঘটনা প্রচার লাভ করেছে অনেক বেশি। যে কারণ নেতা-নেত্রী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষিতজনরা অবলীলায় বলে যান, ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা...। ধর্ষণ, নারী নিপীড়নের ঘটনা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা। যুদ্ধের সময়ে নারী ধর্ষণ শত্রুপক্ষের যুদ্ধ-কৌশল। এর দ্বারা লড়াকু প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে, নৈতিকভাবে দুর্বল করে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এখানে ইজ্জতের প্রশ্ন ওঠে না। যুদ্ধে নারীর মর্যাদা সমানভাবে যোদ্ধার। ধর্ষিত নারী বলে তাকে অভিহিত করলে আজীবনের জন্য একটি চিহ্ন তাকে বয়ে বেড়াতে হয়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.