| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রায়হান জুয়েল
ধর্মানুভুতি তে আঘাত লাগার চেয়েও গুরুত্ত্বপূর্ণ হচ্ছে সত্য কথা বলা
অনেক কসরত করে আমাদেরকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বেশ কিছু বিষয়। একটা বৃহত্তর দাবি আদায়ের জন্য তরুণ সমাজ শাহবাগকে ঘিরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে বলে ভাবার কোন কারণ নায় যে তারা আগে পিছে সব কিছু ভুলে গেছে।
১। শেখ হাসিনা পাকিস্তানের গন্ধ একেবারে সহ্য করতে পারে না। এমন কি 'শাহবাগ' নামটাতেও তিনি পাকিস্তানি গন্ধ পান। এটা খুবই ভাল কথা। কিন্তু কিছু ধর্মান্ধ মানুষের ভোট হারাবার ভয়ে তিনি সেই পাকিস্তানকেই অনুসরণ করতে দ্বিধা করেন না। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর মাত্র দু'টি দেশে YouTube বন্ধ আছে - বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। কি বিচিত্র এই ডিজিটাল বাংলাদেশ!
২। মানবতা বিরোধীদের বিচার হবে - একথা প্রচার করে ক্ষমতায় এসেছে হাসিনার সরকার। এখানেও সব কুল রক্ষা করার ধান্দার প্রশ্রয় নেয়া হল আবারও। এমন এক রাজাকারকে ফাঁসির রায় দেয়া হল যাকে কখনই ধরা হবে না। তারপর এক রাজাকার দোষী প্রমাণ হওয়া সত্ত্বেও পেল যাবজ্জীবন। এরপরে কি আসতো তা সহজেই অনুমেয়। যথেষ্ট প্রমাণের অভাবে নিঃশর্ত খালাস। রায় ঘোষণার মাত্র কিছুদিন আগে সামান্য ছুতায় বিচারকের অব্যাহতি। এসব কিছু দেখে কি মনে হয় না যে কেও আড়ালে বসে কলকাঠি নাড়ছে। শেখ হাসিনা এক কথায় উত্তর দিতে পারে, ‘বিদেশি শক্তি’। কিন্তু এক্ষেত্রে বিদেশি শক্তি কোন হঠাৎ আবির্ভূত অজানা বিষয় নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিদেশী শক্তিকে প্রতিহত করার কথা কি কোন জৈতিসি বা পীর বাবার করার কথা ছিল না কি সেটা এই সরকারেরই দায়িত্ব ছিল? আর কোন বিদেশী শক্তি দেশের ভেতরের বিচার ব্যবস্থায় যদি হস্তক্ষেপই করতে পারে তাহলে দেশে একটা সরকার কি আছে আঙ্গুল চুষার জন্য! আসল কথা হল, এই বিচারটা সুসম্পন্ন করার সার্বিক দায়িত্ব এই সরকারের কাঁধেই ছিল, ১০০ ভাগ সরকারি প্রভাবমুক্ত বিচার ব্যবস্থার নজির বাংলাদেশে নায় এবং সরকারের ভেতরের লোকজনকে সাথে না নিয়ে দেশি বিদেশী কোন শক্তির পক্ষেই বিচারকার্যে প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব নয়। মনে করি, যদি আ-লীগ এরকম মুহূর্তে বিরোধী দলে থাকতো, তাহলে তারা কি সরাসরি তখনকার সরকারকে দোষারোপ করে আন্দোলনে নামতো না? তারা কি বলতো না যে সরকার বিচারের ব্যাপারে আন্তরিক নয় কিম্বা লোক দেখানো বিচার করা হচ্ছে? এখন আ-লীগ তরুণ ব্লগারদের ডাকা শাহবাগের এই আন্দোলনকে এমনভাবে আওয়ামী-করন করতে চাচ্ছে যেন এটা আওয়ামী লীগেরই আন্দোলন। হাস্যকর বটে। তবে আ-লীগের উপকার হচ্ছে চতুর্মূখী -
- বিচার প্রকৃয়া সঠিকভাবে চালাতে না পারার দুর্বলতা ঢাকা পড়ে গেল
- বিরোধী দলের আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে গেল
- পদ্মা সেতুর মত চরম ব্যর্থতা নিয়েও মানুষ দু’কথা বলার সুযোগ পেল না
৩। বিশ্ব ব্যাঙ্ক-কে না বলে দিয়ে আমাদের লাভটা কি হল? অন্তত তার চেয়ে দশগুণ হার সুদে ঋণ নিতে হবে অন্য কারও কাছ থেকে এবং সঙ্গে থাকবে আরও জঘন্য রকমের অনেক শর্ত। কারণটা খুবই সোজা। এক ডঃ ইউনুসকে অপদস্থ করা আর কিছু আবুল কাবুলকে মহা-দেশপ্রেমিক বানানো। একজন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত নিজের ব্যক্তিগত লিপ্সা পূরণের জন্য সমগ্র একটা জাতিকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলার নজির কি পৃথিবীতে খুব বেশি আছে?
৪। আমরা যদি অনবরত ভাবতে থাকি যে আমরা পঙ্গু, তাহলে হয় তো একসময় আমরা সত্যই সত্যই পঙ্গু হয়ে যাবো। বাংলাদেশ কোন ভাবেই পঙ্গু দেশ নয়। কিন্তু আমাদেরকে যেভাবে একধরনের মানসিক অনুশাসনের মধ্যে রাখা হচ্ছে এবং সমস্ত বিষয়ে ভারতের উপর নির্ভরশীল করে ফেলা হচ্ছে তাতে আমরা অচিরেই পঙ্গু হতে চলেছি।
ক) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বইটা ছাপানোর মত দক্ষতা বাংলাদেশের একটা প্রতিষ্ঠানেরও নাই! কোলকাতা থেকে বই ছাপিয়ে নিয়ে আসতে হবে?!
খ) পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের জন্য এত সব দেশের অফার-গুলকে ফিরিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতকেই সুযোগ দিতে হবে? অন্যান্য উন্নয়ন খাতের টাকা পয়সা সব পদ্মা সেতুতে লাগিয়ে দিয়ে দেশের উন্নয়নের ফর্মুলা কে দিল আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে!
গ) এবার নিয়ে আস কোলকাতার সিনেমা বাংলাদেশের সিনেমা হলে! বিনা শর্তে। হিন্দি সিনেমা বিশ্বজুড়ে বেশ ভাল একটা বাজার তৈরি করেছে। কিন্তু কোলকাতার সিনেমা কোলকাতাতেই সীমাবদ্ধ। তাই শেখ হাসিনা এবার সুযোগটা দিচ্ছে ওদের বাজারটাকে বাড়িয়ে ওদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিটাকে উন্নত করতে! আমি মাঝে মাঝে ভাবি, চারিদিকে ভারতকে নিয়ে যে দেশটি তার নাম বাংলাদেশ না হয়ে যদি ব্রিটেন হতো, কতভাবেই না তারা এই ভারতকে ব্যবহার করতো। ভারতের সিনেমা বাংলাদেশের হলে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে দিয়ে দেখুন সামান্য কিছু শর্ত তারপর দেখেন কি হয়:
- সিনেমাটিতে অন্তত ৫ জন বাংলাদেশী আর্টিস্ট থাকতে হবে
- অথবা, বাংলাদেশে অর্ধেক অংশ শুটিং করতে হবে
- অথবা, বাংলাদেশকে নিয়ে কাহিনী লিখতে হবে
তাহলে কি হবে ভাবছেন? দক্ষিণ ভারতের আর্টিস্টরা যেমন বলিউড দখল করে ফেলেছে, বাংলাদেশের আর্টিস্টরা তার চেয়েও শক্তপোক্ত-ভাবে বলিউড দখল করে ফেলবে। তাদেরকে যেমন আমরা ১৮ কোটি দর্শক দিবো, বিপরীতে তাদের আয় করা অর্থের একটা বড় অংশ বাংলাদেশি কলাকুশলীরা আবার দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে এবং তাদের তৈরি করা প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বিশ্ব-দরবারে পরিচিত হবে।
কি দুর্ভাগ্য আমাদের, না ওরা ভাবে আমাদের স্বার্থ নিয়ে, না আমদের নেতারাও ভাবে আমাদের স্বার্থ নিয়ে।
২|
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৭:২১
ধীবর বলেছেন: যা বলেছেন, তাতে দ্বিমত পোষণ করার অবকাশ নেই । তবে এর বিরোধীতা করতে গিয়ে, মতলববাজ দলীয় অন্ধ ব্লগাররা কি অযুহাতের আশ্রয় নেয়, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি।
৩|
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৭:৫৫
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ বলেছেন: ধীবর বলেছেন: যা বলেছেন, তাতে দ্বিমত পোষণ করার অবকাশ নেই । তবে এর বিরোধীতা করতে গিয়ে, মতলববাজ দলীয় অন্ধ ব্লগাররা কি অযুহাতের আশ্রয় নেয়, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি।
৪|
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৯:৩২
পথহারা সৈকত বলেছেন: নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ বলেছেন: ধীবর বলেছেন: যা বলেছেন, তাতে দ্বিমত পোষণ করার অবকাশ নেই । তবে এর বিরোধীতা করতে গিয়ে, মতলববাজ দলীয় অন্ধ ব্লগাররা কি অযুহাতের আশ্রয় নেয়, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি।
৫|
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৯:৪১
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: হুমম...
৬|
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৩৭
ঢাকাবাসী বলেছেন: আ.লী.র লাভ:
--বিচার প্রকৃয়া সঠিকভাবে চালাতে না পারার দুর্বলতা ঢাকা পড়ে গেল
- বিরোধী দলের আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে গেল
- পদ্মা সেতুর মত চরম ব্যর্থতা নিয়েও মানুষ দু’কথা বলার সুযোগ পেল না
--হলমার্ক এর চুরি, শেয়ার বাজারের চুরি চাপা পড়ে গেল।
৭|
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৩৯
ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বলেছেন: এখন কিছু দালাল এসে বলবে আপনি রাজাকার...
আব্বে হালার পো....তোরা যে খিচুড়ীর কাছে দেশটাকে বিক্রি করে দিয়েছিস...তা টের পাবি।
৮|
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:২৮
রূপসা ০০৭ বলেছেন: কথায় বলে নিন্দুকের নিন্দার অভাব নাই। ভাল কোন কিছু যখন ঘটে পিছন নিন্দা বা সমালোচনাগুলো এমনভাবে আসে যখন সাধারণ মানুষও বিভ্রান্ত হয়ে যায়, আসলে ব্যাপারটা কি? শাহবাগের গণজাগরণকে নিয়ে আপনার এই সমালোচনা অনেকটা সেরকমই। হাজার হাজার মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনাকে হেয় করে নিজের উর্বর মস্তিষ্কের কল্পনা প্রসুত ঘটনা এখানে রটাচ্ছেন। বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের মধ্যে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী, মানবতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। কারণ এ বিচার দেশের প্রতিটি মানুষের প্রাণের দাবী। সরকার দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ও চিহ্নিত রাজাকারদের সুষ্ঠু বিচারের লক্ষ্যে দুইটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। এ ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচার কার্যক্রমে দেশ বিদেশের বহু পর্যবেক্ষক ইতিমধ্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না যে, এ বিচার বহু প্রতীক্ষিত। এরই মধ্যে ৪১ টি বছর পার হয়ে গেছে। সুতরাং তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও তা বিশ্লেষণ সাপেক্ষেই বিচারের রায় হবে। এ নিয়ে কাঁদা ছিটানোর তো কিছু নেই। আর যেহেতু এ বিচার দেশবাসীর সমর্থনেই হচ্ছে তাহলে কাউকে ভুলিয়ে ভালিয়ে রাখার কোন বিষয় নয়। মনে রাখবেন এই আন্দোলনের মুল ইস্যু একটি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। এখানে রাজনৈতিক কোনও ইস্যু নিয়ে কেউ সমবেত হয়নি।
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:২৮
রায়হান জুয়েল বলেছেন: আপনার ধারণা বিচারকার্য এগিয়ে নিয়ে যাবার কাজটা এই সরকার সঠিকভাবে করেছে এবং জনগণের এতো বড় দাবি নিয়ে কোনো টালবাহানা হয়নি অর্থাৎ সবাই কে খুশি করার ফন্দি করা হয় নি যাতে করে জনগনের বিচারের দাবি ও পুরন হয় আর কাদের মোল্লার মতো মানুষেরা ভি চিহ্ন দেখিয়ে উল্লাস ও করতে পারে। তাহলে এরকম আস্থা ভাজন সরকারের উপর আস্থা রেখে ঘরে বসে থাকলেই তো হতো , আন্দোলনের কি দরকার ছিলো? ম্য'ম আমার যে মনে হয় , এরকম একটা গন জাগরণ হয়ে যাবে তা হাসিনার সরকার কল্পনাই করতে পারেনি আর হাসিনার সরকারের উপর চরম আস্থা রেখে ঘরের কোনে চুপটি করে মানুষ বসে থাকেনি বলেই আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি শাহবাগের এই আন্দোলন ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৭:১৩
ম্যাংগো পিপল বলেছেন: এখন আ-লীগ তরুণ ব্লগারদের ডাকা শাহবাগের এই আন্দোলনকে এমনভাবে আওয়ামী-করন করতে চাচ্ছে যেন এটা আওয়ামী লীগেরই আন্দোলন। হাস্যকর বটে। তবে আ-লীগের উপকার হচ্ছে চতুর্মূখী -
- বিচার প্রকৃয়া সঠিকভাবে চালাতে না পারার দুর্বলতা ঢাকা পড়ে গেল
- বিরোধী দলের আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে গেল
- পদ্মা সেতুর মত চরম ব্যর্থতা নিয়েও মানুষ দু’কথা বলার সুযোগ পেল না