নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আবু সিদ

আবু সিদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

গর্ব (অণু গল্প)

২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০

একটা সরকারি প্রাইমারি স্কুল। ক্লাস শুরু হয়েছে বেশ আগে। স্কুলের মাঠে জন মানুষ নেই। কয়েকটা গাছ, দু'একটা পাখি আর চিরসবুজ ঘাস তাদের নিজের মতো আছে। একান্ত চুপচাপ একজন মানুষ শিক্ষক-রুমে ঢুকলেন। সেখানে প্রধান শিক্ষক একা বসে। তিনি সালাম দিয়ে বললেন, আসতে পারি? প্রধান শিক্ষক চোখের চশমা উপরে তুলে যেন বিরক্ত হলেন। বললেন, কে আপনি? কি চান? মানুষটি বললেন, আমি একজন শিক্ষা অফিসার। অধিদপ্তর থেকে আসছি। প্রধান শিক্ষক এক লাফে উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, কী লজ্জার কথা স্যার ! আপনি আসবেন আর আমি জানতেও পারলাম না ?

শিক্ষা অফিসার ধীরে সুস্থে বসলেন। বললেন, ব্যস্ত হবেন না, স্যার। আপনি আপনার কাজ করেন। প্রধান শিক্ষক এ কথায় যেন আরো উদ্যোমী হয়ে উঠলেন। অফিস সহকারীকে ডাক দিয়ে বললেন , তুই তাড়াতাড়ি বাসায় যা ! গিয়া ফল -মিষ্টি নিয়াস। শিক্ষা অফিসার উদ্বিগ্ন হলেন! বললেন, এসব কেন , স্যার? আমি এ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম - ভাবলাম স্কুলটা একটু দেখে যাই! প্রধান শিক্ষক খুব আহলাদিত হলেন। বললেন, ঠিকই তো স্যার ! আপনারা মাঝে মধ্যে না আসলে কি চলে? আপনারা না আসলে কেমন যেন এতিম এতিম লাগে !

শিক্ষা অফিসার দু'একটা ক্লাস দেখতে দেখতে শিক্ষক রুম খাবারে খাবারে ভরে গেল। এসব দেখে তিনি খুব উদ্বিগ্ন হলেন। বললেন, প্লিজ! এগুলো করবেন না। আমাকে খাওয়া দাওয়া করানো আপনাদের দায়িত্ব না । প্রধান শিক্ষক তাতে আরও যেন উৎসাহ পেলেন। বললেন, এ আর কী করলাম স্যার! অন্য একজন শিক্ষক বললেন , স্যারের মেয়ে মেডিকেলে চান্স পাইছে তাই স্যার আমাদেরও খাওয়াইছেন! শিক্ষা অফিসার বললেন, খুব ভালো স্যার! তা আপনি একজন গর্বিত পিতা বটে ! আসলে নিজের ছেলে মেয়েরা ভালো কিছু করতে পারলে তা অন্য রকম এক আনন্দ। এর সাথে কোন কিছুর তুলনা হয় না। তা আপনি এ স্কুলে কত বছর? 'দশ বছর, স্যার! ' প্রধান শিক্ষক বললেন।

অন্য শিক্ষক/শিক্ষিকাদেরও তিনি জিজ্ঞেস করলেন যে তারা কত বছর ধরে এই স্কুলে আছেন? কেউ বললেন, পাঁচ ! কেউ বললেন আট বা দশ! একজন বললেন যে তিনি আঠারো বছর ধরে এই স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। সব শুনে শিক্ষা অফিসার বললেন, তা এই পাঁচ, দশ বা আঠারো বছরে এই স্কুল থেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সমাজকর্মী, সরকারী কর্মকর্তা, লেখক, বিজ্ঞানী বা অন্য কিছু কেউ হতে পারেনি? শিক্ষক/ শিক্ষিকারা সবাই মাথা নিচু করে থাকলেন !

অফিস সহকারী ছুটির ঘণ্টা বাজালেন। শিশুদের কোলাহল চিৎকার ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। শিক্ষক/শিক্ষিকাদের নীরবতা সেই ভূবনজয়ী শব্দে তলিয়ে গেল এক নিমেষে।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:২১

রাজীব নুর বলেছেন: কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সমাজকর্মী না হতে পারলে শিক্ষকের দোষ?
অবশ্যই শিক্ষকের দোষ না।

২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪

আবু সিদ বলেছেন: ঠিক বলেছেন, রাজীব! অবশ্যই শিক্ষকের দোষ না এটা। এটা স্রেফ একটা গল্প। এর উদ্দেশ্য এটা দেখানো যে আমাদের যার যে দায়িত্ব সেটা আমরা ওন করছি না। কয়েক দশক আগেও এরকম ছিল না। কেবল নিজের সন্তান নয়, ছাত্রছাত্রীরাও শিক্ষকদের গর্বের জায়গা হবে এটাই প্রত্যাশা। এরকম শিক্ষক যে নেই তা নয় - তবে খুব কম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.