| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রায়হান জুয়েল
ধর্মানুভুতি তে আঘাত লাগার চেয়েও গুরুত্ত্বপূর্ণ হচ্ছে সত্য কথা বলা
নাস্তিকতাও একটি ধর্ম। রাজাকারের ফাঁসির রায় হবার পর বিএনপি 'নো কমেন্টস' বলে কমেন্ট করে এবং এই কমেন্টের মানে কি তা বুঝতে তেমন কারও বাকি থাকে না। ফেসবুকে যাদের যাদের প্রোফাইলে religion হিসাবে no religion দেয়া আছে তাদের ধর্মানুভূতি সম্পর্কে আঁচ করতে তেমন কারো অসুবিধা হবার কথা না।
হাঁ, নাস্তিকতাকে যারা ধর্মহীনতা ভাবে তারা ভুল। নাস্তিকতাও একটি ধর্ম। মানুষকে যা ধারণ করে তাই ধর্ম। এ যুগের ভাষায়, দেহ যদি হয় hardware তবে ধর্ম হচ্ছে software. এই software ছাড়া মানুষ চলে না, নাস্তিকরাও না। পৃথিবীর অনেক দেশের জনসংখ্যার ধর্মের পরিসংখ্যান লিখার সময় উল্লেখযোগ্য একটা অংশ (percentage) বরাদ্দ থাকে তাদের জন্য যারা প্রচলিত কোন ধর্মই পালন করেন না।
দুঃখের বিষয় বাংলাদেশে এমনটা হয় না। প্রচলিত ৪টি ধর্মের বাইরের মানুষের কোন পরিসংখ্যান এখানে নাই। এখানে নাস্তিকতা একটি অপরাধ। তাই এটি প্রকাশযোগ্য নয়।
কেও আস্তিক বা নাস্তিক হয়ে পৃথিবীতে জন্মায় না। কারও না কারও কাছ থেকে তাদের আস্তিকতা বা নাস্তিকতার শিক্ষা নিতে হয় এ পৃথিবীতেই। আস্তিকদের শিক্ষা সুরু হয়ে যায় বলা যায় জন্মের পর থেকেই। তাই নিজের ধর্মটা তাদের কাছে বাতাস কিম্বা বাবা-মার মতই সর্বগ্রাসী অনুভূতি যার বাইরে অন্য কোন চিন্তা অসম্ভব। আস্তিকতাই তাদের মানবিক সত্ত্বার নিয়ন্ত্রক হয়ে যায়। নাস্তিক শব্দটি তাদের কাছে গালির সমান। নাস্তিকদের দেখলে তারা আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়ে, হয়তো গালিও দেয়।
পক্ষান্তরে, নাস্তিকতা অর্জন করে নিতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জীবনের কোন না কোন সময় আস্তিকতার বেড়া ভেঙ্গে উত্তরণ ঘটে নাস্তিকদের। একটি বই-এ মহাবিশ্বের সব রহস্যের সমাধান করা আছে এবং আমি তা না জানলেও কেও না কেও তা জানে ভেবে আস্তিকরা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে। অন্যদিকে নাস্তিকদের ঘুম এত সহজে আসে না। খুব সহজে তারা মহাবিশ্বের সব রহস্যের সমাধানও করতে পারে না। অনেক অধ্যবসায় আর মগজে হাল দিতে হয় তাদের।
আর একটি বড় সমস্যা হচ্ছে এইটা ভাবতে পারা যে, এই মহাবিশ্ব আমরা ফ্রি পেয়েছি, এটা কেও বানিয়ে দেয় নি বা কাওকে এর জন্য মূল্য চুকাতে হয় নি আমাদের। এই মহাবিশ্বের ব্যাপ্তি আমাদেরকে এতটাই অভিভূত করে যে আস্তিক নাস্তিক যে কারও পক্ষে এটা একটা কঠিন ভাবনা। তবে, স্টিফেন হকিং সাহেব স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন, আমাদের মহাবিশ্ব একা নয়, আরও এরকম অসংখ্য মহাবিশ্ব আছে এবং যত কষ্টই হোক না কেন আমাদেরকে ভাবতেই হবে যে আমরা এর সবকিছুই পেয়েছি বাই-চান্স এবং একদম ফ্রি! এটা যদিওবা নাস্তিকরা কোনভাবে গিলতে পারে, আস্তিকদের খাদ্যের তালিকাতেই এটা নেই।
হ্যাঁ, আমি নাস্তিকদের হয়ে সাফাই গাচ্ছি। আমি একজন নাস্তিক বলতে আমার কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি নাস্তিক নই। আমি আমার মত করে আস্তিক। তবে, সব আস্তিক ভাই বোনদেরকে বলবো, ভালবাসতে হবে সমস্ত জীব জগতটাকেই, কিছু ভালবাসা রাখতে হবে নাস্তিকদের জন্যও। নিশ্চিন্তে প্রেম করুন কিম্বা বিয়ে করুন নাস্তিকদের, অন্তত আমি যে কয়জন নাস্তিককে চিনি তারা সবাই মানুষ হিসেবে খুবই ভাল, বলতে গেলে অসাধারন! আমি আস্তিক বলে কেও নাস্তিক হবে না, এমনটা ভাবার তো কোন কারণ নায়; অন্তত এক্ষেত্রে, শুধু আমি কেন, বলতে গেলে কেওই প্রশ্নাতীত নয়।
আর নাস্তিক ভাই-বোনদের বলবো, আপনারা নিজেদের মত লুকিয়ে রাখবেন না, সগর্বে তা প্রকাশ করুন। আপনার ধর্মের যৌক্তিকতা আপনাকেই তুলে ধরতে হবে। তাতে অন্য ধর্মের কেও হেও প্রতিপন্ন হবার কোন সম্ভাবনা দেখছি না, তাও যদি হয় তবে কিছু করার নায়। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্থান দিতে হবে সবার আগে।
ধর্ম-মতের ঊর্ধ্বে যে কোন বাঙ্গালীর স্থান আছে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে - দম্ভ ভরে ঘোষণা দেয়া হবে এমনটাই আশা ছিল আমার। কিন্তু কলম-যোদ্ধা রাজীব নাস্তিক ছিল না, এমনটা প্রমাণের জন্য কিছু মানুষ উঠে পড়ে লেগেছে দেখে আমি মর্মাহত। ঠিক যেন নাস্তিক হওয়া একটা অমার্যনীয় অপরাধ কিম্বা রাজীব নাস্তিক হলে তাকে কোন কৃতিত্ব দেয়া যায় না। আমি হুশিয়ার করে দিতে চাই, এরকম নড়বড়ে যদি হয় প্রজন্ম চত্বরের অবস্থান, তবে ভবিষ্যৎ কিন্তু আপনাদের কাছ থেকে খুব বেশি শিক্ষা নেবে না।
যারা বলেন, কোন ধর্মকেই হেও করা যাবে না, তাদেরকে বলবো, নাস্তিকতাও যাতে হেও না হয় সে খেয়ালও রাখতে হবে। অবশ্যই হবে। যে যত বেশি সত্যের আরাধনা করে, তার কাছে ঈশ্বর তত বেশি সত্য হয়ে ধরা দেয়। কে জানে হয় তো প্রকৃত ঈশ্বরের বসবাস হয়তো কোন এক নাস্তিকেরই হৃদয়ে।
২|
০৩ রা মার্চ, ২০১৩ সকাল ৭:১৭
ঊষালগ্ন হুতাশন বলেছেন: হ বন্ধ টেলিভিশনও একটা চ্যানেল।
আজব।
০৪ ঠা মার্চ, ২০১৩ রাত ২:০৯
রায়হান জুয়েল বলেছেন: বন্ধ টেলিভিশনও একটি টেলিভিশন, আর বন্ধ চ্যানেল ও একটি চ্যানেল যেমন বেশ কয়েক বছর ছিলো ইটিভি
বন্ধ টেলিভিশনও একটা চ্যানেল হতে যাবে কোন দুঃখে!
আজব।
৩|
০৩ রা মার্চ, ২০১৩ সকাল ৭:৩৩
মন যাযাবর বলেছেন: নির্মল লেখা।
আমাদের দেশে সব রাজনীতিবিদ রাই ভন্ডামি করছে একটা মাত্রায়। আলি করছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, জামাত করছে ইসলাম নিয়ে, বিএনপি এর সৃষ্ঠিই ভন্ডামি দিয়ে। কিছু ডানের আবার শুরু কোন একটা চেতনা থেকে, তারপর সিস্টেমের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পেরে জগাখিচুড়ি করে ফেলে।
আর বামরা ভন্ডামি করছে বহুমাত্রায়। এরা বিশ্বাসে নাস্তিক, পারিবারিকভাবে সামাজিকতার কথা বলে আস্তিকদের আচার ব্যবহার অনুসরন করে। কমরেড ফরহাদ তার মৃত্যুর আগে পরিবারকে বলে গেছিলেন তার জানাযা যেন বা.মো. এর ঈমাম সাহেব করে। হায়রে ভন্ডামি!!!!
শরিফ আর উয়ালগ্নকে বলছি - এটা নিশ্চিত আপনারা মারা গেলে আপনাদের সহযোদ্ধারাই বলে বেড়াবে আপনারা যে বিশ্বাস নিয়ে লিখছেন তা অন্য কেউ আপনাদের নামে লিখছে এবং আপনার একেকজন বড় বড় মুসুল্লি ছিলেন।
৪|
০৩ রা মার্চ, ২০১৩ সকাল ৭:৫৫
বাক স্বাধীনতা বলেছেন: মহাবিশ্ব নিয়ে চিন্তা করে শেষপর্যন্ত জানা গেল যে, এটি আসলে মাগনা। আর এটা জেনে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে গেলেন রায়হান জুয়েল ভাই।
৫|
০৩ রা মার্চ, ২০১৩ সকাল ৯:৫১
চৌকশ বলেছেন: নাস্তিকতা যদি ধর্ম হয়, তাহলে তা পৃথিবীর সকল ধর্মের চাইতে নিকৃষ্ট ধর্ম । যে ধর্মে অন্য সকল ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করতে শেখায় । ভন্ডামী ছাড়েন, নিজের নাস্তিকতা নিয়ে নিজের মতো করে থাকেন । দেশে এমনিতেই রাজাকার নামক জঞ্জালের জ্বালায় বাঁচতেছি না আবার আপনাদের মতো জঞ্জালের আমদানী ।
৬|
০৩ রা মার্চ, ২০১৩ সকাল ৯:৫৭
শরীফ উদ্দিন সবুজ বলেছেন: মন যাযাবর ভাই আমি নাস্তিক না। আমি আস্তিক। মুসলমান। আজ সকালে ফজরের নামাজ পড়ে কাজে বের হয়েছি। তবে ধর্মান্ধদের অপছন্দ করি। জ্ঞান চর্চাকে ভালবাসি। শাহবাগের আন্দোলনকে সমর্থন করি।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা মার্চ, ২০১৩ সকাল ৭:০৭
শরীফ উদ্দিন সবুজ বলেছেন: নাস্তিকতা কোন ধর্ম না। গোজামিলের দরকার কি ভাই ? নাস্তিকতা নাস্তিকতাই। এটা ঠিক বাংলাদেশের মানুষ নাস্তিকতাকে গালি হিসেবে মনে করে।