নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...............

শ্রাবণধারা

" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

শ্রাবণধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

"বাংলাদেশ কি একটি "ব্যর্থ রাষ্ট্রে" পরিণত হতে যাচ্ছে? - জঙ্গিবাদ ও পাকিস্তানপন্থার উত্থান"

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৮


বাংলাদেশ কি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে পারবে - যেখানে আইন, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় পরিচয় কিংবা জনতুষ্টিমূলক ও সুবিধাবাদী রাজনৈতিক কৌশল দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে? নাকি দেশটি একটি পশ্চাৎমুখী কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে - যেখানে পরাশক্তিগুলো ইসলামপন্থি রাজনীতি ও জঙ্গিবাদকে নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করবে, আর বাংলাদেশ পরিণত হবে তাদের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, ডিপ স্টেট ও সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের একটি ক্ষেত্র হিসেবে?

উপরের এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে, বাংলাদেশ কি অচিরেই একটি "ব্যর্থ রাষ্ট্রে" পরিণত হবে - যেখানে সরকার দেশের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ হারাবে এবং জনগণকে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা দিতে ব্যর্থ হবে? নাকি রাষ্ট্র এখনো তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করার ক্ষমতা রাখে?

রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যখন যুক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও আত্মসমালোচনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং পশ্চাৎমুখী, অযৌক্তিক ও ইসলামপন্থি ধারণায় আচ্ছন্ন হতে শুরু করে, তখন সেই রাষ্ট্রের পক্ষে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধরে রাখা সম্ভব হয় না। ঘটনাপ্রবাহে এখন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, বাংলাদেশে সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির পতন শুরু হয়েছে। সুস্থ ও যুক্তিশীল চিন্তা আর সামাজিক পরিসরে কাজ করছে না। রাজনীতি তৌহিদি জনতার মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে। যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তিগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন বিলুপ্তির পথে। ব্যক্তির অধিকার ও নারী স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এবং ধর্মীয় কর্তৃত্বের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রবণতা শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেই শূন্যতার ভেতর দিয়েই একের পর এক অশুভ শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় প্রবেশ করছে। ইতিহাসে লিবিয়া, ইরাক ও সিরিয়ার মতো দেশে আমরা দেখেছি, পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে পড়ার পর সৃষ্ট শূন্যতা কীভাবে নানা উগ্র, সহিংস ও ভূরাজনৈতিক শক্তির প্রবেশের পথ তৈরি করে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি তাদের হুবহু পুনরাবৃত্তি না হলেও ক্ষমতার শূন্যতার মধ্য দিয়ে নতুন অশুভ শক্তির প্রবেশের সাদৃশ্য রয়েছে।

এই পরিবর্তনের প্রথম উদ্বেগজনক দিক হলো জঙ্গিবাদ। জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের পুরোনো সমস্যা হলেও, বর্তমানে আমরা যে ধরনের জঙ্গিবাদের উত্থান দেখছি, তার চরিত্র আগের তুলনায় ভিন্ন। এর সঙ্গে এখন বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা জড়িত যা বাংলাদেশের অতীতের জঙ্গিবাদী ঘটনায় অনুপস্থিত ছিল। জঙ্গিবাদ এখন কোনো বিচ্ছিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সহিংসতা নয়, একে বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় ও ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশে পরিণত করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকার তার রাজনৈতিক ক্ষমতা রক্ষার বিনিময়ে যে ভারতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল, তার ভিত্তি ছিল মূলত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে যে পাকিস্তানপন্থি শক্তির প্রভাব তৈরি হল, তাদের স্বার্থ কেবল অর্থনৈতিক নয়; এর সঙ্গে সামরিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থও যুক্ত ছিল। এই স্বার্থের একটি দিক ইসলামপন্থি রাজনীতি ও জঙ্গিবাদকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক কৌশলের সাথে যুক্ত করা।

জঙ্গিবাদ নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা একজন গুরুত্বপূর্ণ আমেরিকান কূটনীতিকের গবেষণার দিকে তাকাবো। তিনি এস পল কাপুর, বর্তমানে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশের সাথে আমেরিকার সাম্প্রতিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে তাঁর অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি জিহাদ ও জঙ্গিবাদ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ।

কাপুরের লেখা বই "জিহাদ অ্যাজ গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি: ইসলামিস্ট মিলিটেন্সি, ন্যাশনাল সিকিউরিটি, অ্যান্ড দ্য পাকিস্তানি স্টেট", এ তিনি দেখিয়েছেন, পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ কোনো আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। পাকিস্তানে রাষ্ট্রের জন্মের পরপরই তার দুর্বলতা ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে পাকিস্তান সেটিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল এবং গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজিতে পরিণত করে। এখানে জিহাদ ছিল সেই কৌশলের আদর্শিক ভিত্তি, আর জঙ্গিবাদ ছিল তার রাজনৈতিক ও সামরিক হাতিয়ার। এই কৌশলের মাধ্যমে পাকিস্তান একদিকে জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক সংহতি জোরদার করার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে ভারতের তুলনায় তার সামরিক সক্ষমতার ঘাটতি মোকাবিলা করেছে। একইভাবে, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে পাকিস্তান কাশ্মীরে ভারতের নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং আফগানিস্তানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজের কৌশলগত লক্ষ্য পুরণ করেছে।

কাপুরের-এর বিশ্লেষণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এর "জিহাদ প্যারাডক্স" ধারনাটি। যে জঙ্গিবাদ একসময় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়, সময়ের সাথে সাথে সেই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে রাষ্ট্র তাদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে। রাষ্ট্র যে শক্তিকে নিজের কৌশলগত স্বার্থে ব্যবহার করেছিল, একসময় সেই শক্তিই রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

এখানে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, কাপুরের আলোচনায় পাকিস্তানের জঙ্গিবাদী কৌশলের সঙ্গে আমেরিকার ভূমিকার বিশদ আলোচনা নেই। অথচ গত কয়েক দশকের ইতিহাসে জঙ্গিবাদ ও সশস্ত্র ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিকাশে আমেরিকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা আছে। আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী মুজাহিদিনদের প্রতি মার্কিন সহায়তা তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। পরবর্তী সময়ে ইরাক ও সিরিয়ার সংঘাতেও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন বা পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।

আমেরিকা তার সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে বরাবরই কৌশলগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। দুর্বল বা অনুন্নত রাষ্ট্রে গণতন্ত্রকে তারা সন্দেহের চোখে দেখেছে এবং নিজেদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে বিবেচনা করেছে। এসব দেশে তাদের পছন্দ সামরিক ও কর্তৃত্ববাদী শাসন। সোভিয়েতবিরোধী আফগান যুদ্ধে আমেরিকার ভূমিকা দেখিয়েছিল যে, নির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসলামপন্থি সশস্ত্র শক্তিকেও একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

এই দৃষ্টিভঙ্গির গভীরে আছে ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। যেখানে উপনিবেশিত জনগণকে সমান রাজনৈতিক ও মানবিক মর্যাদার অধিকারী নাগরিক হিসেবে না দেখে শাসন, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারের বস্তু হিসেবে দেখা হয়। বর্ণগত শ্রেণিবিন্যাস, আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক অধিকার সীমিত রেখে শক্তি প্রয়োগের এই শাসন-পদ্ধতি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল।

এখানে পাকিস্তানি লেখক তারিক আলীর "মৌলবাদের সংঘাত: ক্রুসেড, জিহাদ ও আধুনিকতা" বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। আলী লিখেছেন, "...মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণে অনেক ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু এটা বিস্ময়কর নয় যে, কাজ শেষ হবার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের জন্য আর তহবিল এবং অস্ত্র সরবরাহ করার প্রয়োজন বোধ করে না।...একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আমার বোঝার সুবিধার জন্য সংক্ষেপে বললেন: আফগানিস্তানে প্রবেশের জন্য পাকিস্তান ছিল আমেরিকানদের ব্যবহৃত কনডম। আমরা তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করার পর তারা আমাদেরকে টয়লেটে ফ্লাশ করার জিনিস মনে করে।"

পাকিস্তানের পথ ধরে বাংলাদেশও কি একই ধরনের ভূরাজনৈতিক খেলায় বড় শক্তিগুলোর ব্যবহৃত আবর্জনায় পরিণত হওয়ার পথে হাঁটছে? কে এই সম্ভাবনা থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করবে?

সংযুক্তি: উপরের লেখাটির সাথে গত দুই বছরের প্রাসঙ্গিক কয়েকটি খবর যুক্ত করলাম।

১। জুলাই - আগস্ট ২০২৪: কারাগার ভাঙা ও জঙ্গিদের মুক্তি:
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশের একাধিক কারাগারে হামলা ও বন্দি পালানোর ঘটনা ঘটে। নরসিংদী কারাগার থেকে ৮২৬ জন বন্দি পালিয়ে যায়; তাদের মধ্যে নয়জন ছিল জেএমবি ও আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি বন্দি পালিয়ে যায়। পরে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে ৭০ জন জঙ্গি ছিল।

২। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর - উগ্রপন্থিদের জামিনে মুক্তি:
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর উগ্রপন্থিদের একটি অংশ জামিনে মুক্তি পেতে শুরু করে। ২০২১–২০২৫ সালের মধ্যে জামিনে মুক্ত হওয়া উগ্রপন্থিদের মধ্যে ৩৮০ জন ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর মুক্তি পেয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এদের মধ্যে জেএমবি, আনসার আল ইসলাম, হুজিবি ও নব্য জেএমবির সদস্যদের নাম এসেছে।

৩। জানুয়ারি ২০২৫ - তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা:
বাংলাদেশ ও তুরস্ক প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তুরস্ককে বাংলাদেশে প্রযুক্তি নিয়ে আসা ও প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

৪। অক্টোবর ২০২৫ - পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সম্পর্কের নতুন ঘনিষ্ঠতা:
পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটি এর চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা ঢাকা সফর করেন। বাংলাদেশের তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, সন্ত্রাস দমন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় আলোচনা হয়।

৫। ২০২৫ - পাকিস্তানের নৌবাহিনী প্রধানের বাংলাদেশ সফর:
পাকিস্তানের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ বাংলাদেশ সফর করেন। ১৯৭১ সালের পর কোনো পাকিস্তানি নৌবাহিনী প্রধানের এটি ছিল প্রথম বাংলাদেশ সফর। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।

৬। জুন ২০২৬ - সামরিক ইউনিটের ধর্মীয় নামকরণ:
নতুন "২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন" -এর চারটি কোম্পানির নাম আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর নামে রাখার খবর প্রকাশিত হয়।

৭। আগস্ট ২০২৬ - জঙ্গিদের একটি অংশ এখনও পলাতক:
২০২৪ সালের কারাগার ভাঙার দুই বছর পরও ২,২৪৭ জন পলাতক বন্দির মধ্যে ৬৯০ জনকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জঙ্গিদের মধ্যেও কয়েকজন তখনও পলাতক ছিল। একই সময়ে কিছু মুক্তিপ্রাপ্ত সন্দেহভাজন জঙ্গি পুরোনো নেটওয়ার্ক পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশিত হয়।

৮। আগস্ট ২০২৬ - সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিস্তার:
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান "আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট" উদ্বোধন করেন। তিনি আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থানে এর শাখা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হয়।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৪৯

মাথা পাগলা বলেছেন: আম্রিকা বেনামে জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করে। মুসলিম দেশগুলোর প্রধান শত্রু আমেরিকা - উদাহরন আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়ার মতো দেশগুলার অবনতি। তবে বাঙালিরা জাতিগতভাবে সহজ-সরল, মানবিক যা DNA/বংশপরম্পরায় চলে আসছে। সমস্যা তীব্র হলে জনগণ মাঠে নামবে।

২| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই। হাসিনা ভারতের পরামর্শে জঙ্গিবাদের নাটক লিখে বাহিনীগুলোকে দিয়ে মঞ্চস্থ করতো ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য। ইহা ছিল নির্মম সত্য। আর আপনারা বিদেশে থেকে জঙ্গিদের স্বপ্নে দেখছেন এই হলো সমস্যা।

সরকার যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠা না করতে পারে তাহলে হাসিনার মতোই টেনে হিচড়ে নিচে নামাবে।

৩| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: অনেক দিন পর আপনার লেখা পড়লাম। ভেবেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ওপর শুল্ক বাড়ানোর পরের পরিস্থিতি নিয়ে আপনার কাছ থেকে কিছু জানতে পারব। সময় পেলে একদিন লিখবেন। এবার জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে আসি। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের মতো বড় আকার ধারণ করেনি। তবে তৌহিদি জনতার নামে যে ধরনের উগ্রতা আমরা দেখছি, সেটা নিয়ে ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে।

আমার মনে হয়, এর পেছনে শুধু ধর্মীয় কারণ খুঁজলে ভুল হবে। আমাদের বড় সমস্যা হলো সাধারণ শিক্ষার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়া। ২০২৫ সালে স্কুল থেকে ৪.৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে গেছে, অথচ মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ১.৫৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রশ্ন হলো, মানুষ মাদ্রাসার দিকে যাচ্ছে কেন? এর একটা বড় কারণ অর্থনৈতিক। স্কুল কলেজে পড়ানোর খরচ বাড়ছে, অথচ পড়াশোনা শেষ করেও ভালো চাকরির নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে মাদ্রাসায় তুলনামূলক কম খরচে পড়ানো যায়। তার সঙ্গে অভিভাবকের মনে একটা ধারণাও তৈরি হয়েছে যে ধর্মীয় পরিবেশে সন্তান অন্তত নৈতিকভাবে নিরাপদ থাকবে।

যদিও বাস্তবতা এত সহজ নয়। মাদ্রাসাতেও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। তাহলে শুধু মাদ্রাসায় পড়লেই সন্তান নৈতিকভাবে ভালো মানুষ হবে, এই ধারণার ভিত্তিটা কোথায়? আরেকটা বিষয় ভেবে দেখুন। সাধারণ শিক্ষায় পড়া একজন ছেলে যদি শেষ পর্যন্ত সৌদি গিয়ে কম বেতনের চাকরি করে, আর মাদ্রাসায় পড়া একজনও যদি একই কাজ করতে পারে, তাহলে একজন দরিদ্র বাবা কেন এত টাকা খরচ করে সন্তানকে সাধারণ শিক্ষায় পড়াবেন? এখানেই সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সংকটটা বোঝা যায়।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আমাদের সাংস্কৃতিক শূন্যতা। স্কুলে শুধু পরীক্ষা আর প্রতিযোগিতা। নাটক, গান, খেলাধুলা, সাহিত্য, বিতর্ক এসব দিয়ে সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জায়গাটা ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। সমাজেও অন্যায়, অবিচার আর অনিয়ম বাড়ছে। ফলে মানুষ নিরাপত্তা খুঁজছে। অনেকের কাছে ধর্ম সেই নিরাপত্তার জায়গা হয়ে উঠছে। তাই আমি মনে করি, সমস্যাটা পুরোপুরি মাদ্রাসা নয়। সমস্যাটা হলো সাধারণ শিক্ষা, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রের ওপর মানুষের আস্থার সংকট।

মানুষ যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আশ্বস্ত থাকে না, তখন সে কোনো একটা নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে। সেই জায়গাটা যদি শিক্ষা, সংস্কৃতি আর রাষ্ট্র দিতে না পারে, অন্য কোনো মতাদর্শ এসে সেটি দখল করবে। আমার কাছে মৌলবাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ধর্ম নয়, মানুষের এই অনিশ্চয়তা ও শূন্যতা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.