| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
আমার সাথে কিছু হয় নাই। অথচ সব দোষ আমার।
আজিব লাগে! সকালে বাসে উঠেছি। বাস ভাড়া দিয়েছি। বাস থেকে গন্তব্যে নামার সময় কন্টাক্টর বলে, ভাড়া দেন? অথচ আমি আগেই ভাড়া দিয়েছি। যাইহোক, কন্টাকটর কে বললাম, ভাই ভাড়া দিয়েছি তো! কন্টাকটর বলে, ২০ বছর ধরে এই লাইনে আছি। যে ভাড়া মেরে খায়, তাকে দেখলেই চিনি। আপনি ভাড়া দেন নাই। আমি খুবই লজ্জার মধ্যে পড়ে গেলাম। আমি ভাড়া দিয়েছি। আমার কাছে একটাই বিশ টাকার নোট ছিলো। সেটাই দিয়েছি। ভাগ্যটাই আমার খারাপ।
মন অত্যাধিক খারাপ।
এক জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম, চাকরি হয়নি। খুবই ক্ষুধা লেগেছে। এক চায়ের দোকানে বসে দুটা বিস্কুট আর এক কাপ চা খেলাম। বিশ টাকা দিলাম। চা বিক্রেতা বলছে, এই ব্যবসা কত দিন ধরে? আমি ভীষণ অবাক হলাম! বললাম, কি হয়েছে? চা বিক্রেতা বলল, বিস্কুট খেয়েছেন চারটা অথচ বলছেন, দুটা! আমি বললাম, স্যরি। আসলে চিন্তায় ছিলাম, ক'টা বিস্কুট খেয়েছি খেয়াল করি নাই। স্যরি। আপনি ত্রিশ টাকা রেখে দেন। চা বিক্রেতা বলল, গরীবের টাকা খেয়ে কি বড় হতে পারবেন? পোড়া কপাল আমার! দুটা বিস্কুট খেয়ে মিথ্যা বলব? বাসের ভাড়া না দিয়ে মিথ্যা বলব? আমি খাই বেনসন সিগারেট। ২০ টাকা দাম।
বিকেলে মন খারাপ করে রমনা পার্কে বসে আছি।
এক মেয়ে এলো। মেয়ে নাকি হিজড়া বুঝতে পারছি না। বয়স কত হবে সেটাও বুঝতে পারছি না। বিকট সাজ সেজেছে। সস্তা মেকাপ। সেই মেয়ে বলল, কি গো মুখ গোমড়া কেন? দুই শ টাকা দাও। পানি বের করে দিবো। খুশি হয়ে যাবে। আমি বুঝলাম না, পানি বের করে দিবো মানে কি! আমি বললাম, টাকা নাই। মেয়েটা বলল, যা ভাগ শালা! ফকিন্নি। মনটা অনেক খারাপ হলো। রমনা পার্ক থেকে বের হতেই এক ফকির সামনে এসে হাত পাতলো। আমি বললাম, যা ভাগ শালা। এক পতিতা আমাকে ঠিক এই কথাটাই বলেছিল। প্রতিশোধ নিলাম।
রাতে এলাকায় ফিরলাম। মেসে আমার মিল দেয় নাই।
দুই মাসের টাকা বাকি আমার। মেসে এক রুমমেট বলল, কিছু ভাত বেচে গেছে। আপনি দোকান থেকে একটা ডিম এনে, ভেজে ভাত দিয়ে খেয়ে ফেলেন। দোকানে গেলাম ডিম আনতে। দোকানদার বলল, আপনাকে আর এক টাকা বাকি দিবো না। তিন মাস হয়ে গেছে, সাড়ে চার হাজার টাকা বাকি জমেছে। দিচ্ছেন না। চাকরি পান না ভালো কথা। রিকশা তো চালাতে পারেন! দোকানদার শালা আমাকে জ্ঞান দিচ্ছে! খুবই নরম সুরে বললাম, মামা ৩/৪ দিন পর আপনার পাওনা মিটিয়ে দিব। ডিম না দেন, দশ টাকার মুড়ি দেন। নইলে রাতে না খেয়ে থাকতে হবে। হারামজাদা মুড়িও দিলো না। মানুষ এত নিষ্ঠুর হয় কি করে!
আমার একটা মোবাইল আছে। নষ্ট মোবাইল।
সেই মোবাইল বিক্রি করলে ২০০ টাকাও পাওয়া যাবে না। বিক্রি করা তো দূরের কথা এই মোবাইল কেউ কিনবেই না। রাতে গ্রাম থেকে ফোন এসেছে। সাবিনা ফোন করেছে। কথা স্পষ্ট বুঝা যায় না। সাবিনা আমার প্রেমিকা। সাবিনা খুব সাজগোছ করে না। তার সাজ বলতে চোখে মোটা করে কাজল দেওয়া। তাতেই তাকে স্বরসতী দেবীর মতো লাগে। সাবিনা বলল, আমাকে ভুলে যাও। আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। সাবিনার কথা শুনে আমার কলিজা ছিড়ে যাচ্ছে। চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে। আমি কাদতে কাদতে বললাম, সাবিনা আমাকে আরো কিছু সময় দাও। প্লীজ। আল্লাহর দোহাই লাগে। সাবিনা বলল, নো। নেভার।
আমার হাত পা সব ঠিক আছে। সামান্য বুদ্ধিও আছে।
অথচ ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। আমার কোনো দোষ নেই। সব দোষ আল্লাহর। আমার ভাগ্য আল্লাহপাক ভালো করে লিখেন নাই। আল্লাহর ইচ্ছায় সব হয়। আমি ইশ্বরের কি ক্ষতি করেছি? বাস ওলা অপমান করে, চায়ের দোকানদার অপমান করে, মুদি দোকানদার অপমান করে, মেস মেম্বাররা অপমান করে, আত্মীয় স্বজনরা অপমান করে, বন্ধুরা অপমান করে। অপমান আর অবহেলায় জীবন পার হয়ে যাচ্ছে। মাথা উঁচু করে আর দাড়াতে পারলাম না। আজন্ম একজন ব্যর্থ মানুষ আমি। দেখি, নিয়তি আমাকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যায়। আমি অপেক্ষা করি। অপেক্ষা করতে আমার ভালোই লাগে।
©somewhere in net ltd.