| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
রমজান মাসে শাহেদ জামালের সমস্যা হয়ে যায়।
দিনের বেলা সিগারেট খাওয়া যায় না। রাস্তার পাশে আরাম করে দাঁড়িয়ে চা খাওয়া যায় না। রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকে। এই দেশ তো শুধু মুসলমানের না। এই দেশে হিন্দু আছে। বৌদ্ধ আছে। খ্রিস্টান আছে। এরা কই খাবে? শাহেদ জামালের এক বন্ধু আছে রমিজ। রমিজ রমজান মাসে খুব বিরক্ত হয়। সে বলে, যারা রোজা রাখবে রাখুক। আমি কাউরে করিনা বিমুখ। কিন্তু যারা রোজা রাখবে না। বা ধর্মের ধারধারে না, তারা কেন শান্তিতে চা খেতে পারবে না, ধূমপান করতে পারবে না। হ্যা ধূমপান করা ভালো নয়। তারপরও যেহেতু অভ্যাস হয়ে গেছে। কি আর করা! রমিজের ধারনা রমজান মাসের সৌন্দর্য হচ্ছে, সন্ধ্যায় অনেক রকম খাবার নিয়ে ইফতারি করতে বসা। অনেকে ভোরবেলা রেস্টুরেন্টে খেতে যায়, এই বিষয়টাও মন্দ নয়।
শাহেদ জামাল ভেবে পায় না-
ধার্মিকেরা সারাদিন খালি পেটে থেকে সন্ধ্যায় কি করে পিয়াজু, আলুর চপ, বেগুনী ইত্যাদি ফালতু ভাজাপোড়া খাবার খায়? নবীজি তো এসব খাবার খেতেন না। রমজান মাস যেন খাবারের উৎসব! মুঘল আমল থেকে লোকজন এইসব ভাজাপোড়া খেতে শুরু করে। সেই অভ্যাস চলে এসেছে ইফতারীতে। আমাদের নবীজি এসব দিয়ে ইফতারী করতেন না। নবীজি ইফতার নিয়ে কোনোদিন বিলাসিতা করেন নাই। সেই সময় আরবে খেজুর ছিলো সহজলভ্য। নবীজি দুটা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। নবীজি কোনোদিন ইফতার পার্টিও করেন নাই। নবীজির দেখানো পথে কেউ চলছে না। সবাই ঢংয়ের রোজা রাখছে। নবীজি দরিদ্র ছিলেন। দরিদ্র থাকাই ভালো। লোকের পয়সা হলেই বদলে যেতে শুরু করে। কেউ দরিদ্র থাকতে চায় না। শাহেদ জামাল নবীজিকে ফলো করে। সে দরিদ্র থাকবে।
শাহেদ তার বন্ধু রাজীবের বাসায় গিয়েছে।
সুরভি ইফতারে অনেক কিছু আয়োজন করেছে। সুরভি ভাবীর রান্নার হাত ভালো। যা রান্না করে তা-ই খেতে মজা লাগে। খাবার মুখে দিলেই বুঝা যায়, প্রতিটা খাবার খুব যত্ন করে রান্না করেন। বিশেষ করে হালিম আর ডিমের চপটা দারুন হয়। একদম দশে দশ। শাহেদ মেসে থাকে। মেসের বুয়ার হাতের রান্না অতি অখাদ্য। বুয়া কোনো রকমে সিদ্ধ করে দেয়। মেসের লোকজন সেটাই আগ্রহ নিয়ে খায়। কিন্তু শাহেদ জানে এটা শুধু খাওয়া। তৃপ্তি নিয়ে খাওয়া নয়। নীলার হাতের রান্না কেমন কে জানে! শাহেদ কখনও নীলার হাতের রান্না খায়নি। নীলার কথা মনে হলে, আজও শাহেদ জামালের বুকের মধ্যে হাহাকার করে ওঠে। মেয়ে গুলো ভালো ছেলেদের সাথে প্রেম- ভালোবাসা করে, তারপর ধনী বয়স্ক এবং টাক মাথা ওলাদের বিয়ে করে বিদেশে জীবনযাপন করে। শাহেদদের সাথে পড়তো তানিয়া নামে এক মেয়ে। খুব সুন্দরী। সেই মেয়ে এক আমেরিকা প্রবাসীকে বিয়ে করে। বিয়েতে শাহেদ গিয়েছে। আমেরিকান প্রবাসীর মাথায় একটাও চুল নেই। পুরো টাক।
ইফতারের জন্য শাহেদ জামাল খাবারের তালিকা তৈরি করেছে।
তাকে কেউ ইফতারের জন্য দাওয়াত দিলে, তালিকায় দেওয়া খাবার গুলো রাখতে হবে। খেজুর, পানি, ডাবের পানি বা লেবুর শরবত। দই চিড়া। দই চিড়াতে গুড়ো দুধ, কলা এবং খেজুর দিতে হবে। চিকেন স্যুপ। দেশী মূরগীর। সেদ্ধ ছোলা, সিদ্ধ ডিম। ডিম অবশ্যই গরম থাকতে হবে। সালাদ। কলা, বাদাম। তরমুজ। হালিম। হালিমে গরুর মাংস পর্যাপ্ত পরিমানে থাকতে হবে। এসব খাবার খেলেই পুষ্টি পাওয়া যাবে। খাবারের তালিকা করা সহজ। এইসব খাবার কিনতে গেলে অনেক টাকা লাগবে। দেশী মূরগী ৬শ' টাকা কেজি। আপেল- কমলা কেজি হচ্ছে সাড়ে তিন শ' টাকা। এক কেজি দইয়ের দাম পাঁচ শ' টাকা। একটা ডাব একশ' পঞ্চাশ টাকা। একটা মাঝারি সাইজের তরমুজের দাম চার শ' টাকার উপরে। এত দাম দিয়ে মানুষ খাবে কি? ধনীরা ভালো ভালো খাবার খাবে। দরিদ্ররা সস্তার ভাজাপোড়া খাবে। সারা বছর ধনী গরীবের বৈষম্য! এজন্যই স্বামী বিবেকানন্দ দারুন এক কথা বলেছেন, যে ঈশ্বর পৃথিবীতে ক্ষুধার্ত মানুষকে অন্ন দিতে পারেন না, তিনি পরকালে আমাদের পরম সুখে রাখিবেন, ইহা আমি বিশ্বাস করি না।
শাহেদ জামাল এআই কে জিজ্ঞেস করেছিলো-
বেহেশতে সম্পর্কে বলো। এআই প্রথমে ভুংভাং কথা বলেছে। শাহেদ তখন রেগে বলেছে, ভুংভাং বাদ দিয়ে সংক্ষেপে স্পষ্ট করে বলো। তখন এআই উত্তর দিয়েছে- বেহেশত হলো কল্পনাতীত চিরস্থায়ী এক শান্তির নীড়। শাহেদ জামাল বেহেশ নিয়ে অনেক ভেবেছে। বেহেশতে লেখাপড়া নেই, গানবাজনা নেই, ভালো কাজের প্রতিযোগিতা নেই। বড় বড় বিল্ডিং নেই, ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা নেই, রাজনীতি নেই, ব্রোথেল নেই, মদ নেই, বড় বড় শপিংমল নেই, টাকা নেই, ডলার নেই, সিনেমা হল নেই, চাকরি নেই, সবাই বেকার। বেহেশতে অনেক কিছুই নেই। কাজ পাগল মানুষদের কাছে বেহেশত অবশ্যই বোরিং লাগবে। বেহেশত বোরিং। বেহেশতে সহজলভ্য হচ্ছে সহবাস। পুরুষদের সাথে সহবাস করার জন্য হুর গুলো লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকিবে। শাহেদ জামালের কাছে সেক্স একটা গা ঘিন ঘিন করা বিষয়। শাহেদ জামালের বেহেশতে যাবার কোনো ইচ্ছা নেই। দোজক ভালো। টেনশন আছে, অত্যাচার আছে, এডভেঞ্চার আছে, ভয় আছে, কষ্ট আছে, যন্ত্রনা আছে। জাহান্নামে সব কিছু কাটিয়ে বেঁচে থাকার একটা তাগিদ আছে।
২|
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সুরভি ভাবীর রান্নার হাত ভালো।
...............................................................
কিভাবে বুঝব?
একদিন ইফতারের দাওয়াত পেলে যাচাই করা যেতে ।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শাহেদ জামাল কে বলুন তাবলীগ জামায়াতে যেতে। এ ছাড়া উহার হেদায়েত হওয়ার চান্স কম।