| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
আমার বাম চোখ কিছুটা ফুলে গেছে।
অতি সামান্য ব্যথাও আছে। দুই দিন পার হয়ে গেলো কিন্তু ফোলা কমলো না। তৃতীয় দিন ডাক্তারের কাছে গেলুম। সাধারনত আমি ডাক্তারের কাছে যাই না। কিন্তু চোখের ব্যাপার! আমার দাদা একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, তিনি কিছু দেখতে পারছেন না। তখন দাদার বয়স ৩৫ বছর। অনেক ডাক্তার দেখানো হলো। কাজ হলো না। বাকি জীবন দাদা অন্ধ হয়ে রইলেন। অন্ধ হয়েও দাপটের সাথে ও বিলাসিতা করে জীবন পার করে দিলেন। মৃত্যুর সময় দাদার বয়স হয়েছিলো। ৮২ বছর। অন্ধ মানুষ দেখলেই দাদার কথা মনে পড়ে। আমার চাচা খুব কৃপণ। অথচ রাস্তায় অন্ধ ভিক্ষুক দেখলেই, দৌড়ে গিয়ে ভিক্ষা দিয়ে আসেন। চাচাকে বললাম, আপনি ভিক্ষা দিচ্ছেন! চাচা বললেন, অন্ধ মানুষ দেখলেই বাবা'র কথা মনে পড়ে যায়!
যাইহোক, ভোরবেলা ডাক্তারের কাছে গেলাম।
রমজান মাস তাই হয়তো খুব একটা ভিড় নেই। চোখ নানান ভাবে পরীক্ষা করা ভলো। আমি বারবার বলছি, সমস্যা আপাতত চোখের পাতায়। দেখুন, বেশ ফুলে গেছে। ডাক্তার আমার কথা শুনেন না। বরং বিরক্ত হয়। নতুন করে আবার চশমা দিলেন। অথচ আমার চশমা আছে। চোখের ফোলা ভাব কমার জন্য ড্রপ দিলেন, মলম দিলেন, এন্টিবায়োটিক দিলেন। এবং বললেন, প্রতিদিন ৫/৬ বার সেক দিতে। সেক দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ন। যাইহোক, ওষুধ খেলাম, ড্রপ দিলাম, সেক দিলাম। চোখের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। ফোলা কমতে শুরু করেছে। নতুন চশমা বানাতে দিয়েছি। কিন্তু আগের দুটা চশমা কি করিব?
এ বছর অনেক দাওয়াত পাচ্ছি।
ইফতারি ছাড়াও সেহেরির দাওয়াত পাচ্ছি। সেহেরি করতে যাবে পুরান ঢাকায়। গেলাম। ভয়াবহ ভিড়! আমি অবাক! এত ভিড়! বসার জায়গা তো দূরের কথা, দাড়ানোর জায়গা পর্যন্ত নেই। যেন ঢাকা শহরের সব মানুষ পুরান ঢাকায় ইফতারি করতে চলে এসেছে। এরপর সেহেরি করতে গেলাম মাওয়া। আগে মাওয়া যাওয়া হতো না সেহেরি করতে। কিন্তু ইদানিং মাওয়া সেহেরি করতে না গেলে যেন মান থাকে না। মাওয়া গিয়ে অবাক! মারাত্মক ভিড়। এত লোক সেহেরি করতে মাওয়া কেন যাচ্ছে! চাঁদা তুলে সেহেরি করতে মাওয়া যাওয়া হচ্ছে না। একজন পুরো খরচ দিয়ে দিচ্ছেন। কারণ, সেহেরি বা ইফতার খাওয়ালে অনেক সওয়াব। মুসলমানদের সওয়াবের অনেক লোভ। অথচ লোভ মানুষকে ধ্বংস করে।
রমজান মাস সংযমের মাস।
কাউকেই দেখছি না সংযম করতে। ঘরে বাইরে সবাই বিলাসিতা করছে! সেহেরি নিয়ে বিলাসিতা, ইফতার নিয়ে বিলাসিতা। আপনি যদি মনে করেন সন্ধ্যায় পরিবার নিয়ে কোনো রেস্টুরেন্টে ইফতার করবেন, তাহলে ভুল করবেন। রেস্টুরেন্টে একটা সিটও খালি পাবেন না। এমনকি আপনি যদি আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধু বান্ধব নিয়ে ইফতার পার্টি করতে চান, কোনো রেস্টুরেন্ট খালি পাবেন না। সব বুকিং হয়ে গেছে। রমজান মাস আসলে ভন্ডামির মাস। প্রতারনার মাস। ঠকানোর মাস। উৎসবের মাস। ইনকাম করার মাস। খাওয়ার মাস। খরচের মাস। পার্টি করার মাস। বিলাসিতা করার মাস। নো সংযম। কোনো শালাকে দেখি না সংযম করতে।
আমি ঠিক করেছি, এ বছর আর কোনো ইফতার বা সেহেরি পার্টিতে যাবো না।
এত এত খাবারের অপচয়, আমার ভালো লাগে না। পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং খাবার অপচয় আমি সহ্য করতে পারি না। প্রতিদিন লোকজন এক রকম খাবার খায় কি করে! পিয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, ছোলা, ঘুমনি। জিলাপি, দইবড়া, হালিম। পেয়ারা, আপেল, আনারস। আর যারা ব্যুফে ইফতারি করে তারা অনেক রকম আইটেম দিয়ে ইফতারি করে। ছোট ভাইয়ের ছেলের জন্মদিন। গেলাম ব্যুফে। ১০০ আইটেমের খাবার। ভাত থেকে শুরু করে ভাজি ভর্তা সব আছে। কি দারুন অপচয়। একদিকে খাবারের জন্য হাহাকার করছে মানুষ। অন্যদিকে খাবারের কি দারুন অপচয়! ইসলামের পথে কেউ নেই!
২|
০৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
আমি আজ আমাদের ইউনিভার্সিটির এলামনাই এসোসিয়েশনের ইফতার পার্টিতে গিয়েছিলাম। প্রায় ৭০-৮০জন হবে। ওরা ৫৫০ টাকার প্লেটারের জন্যে ৭০০ করে নিলো।
হঠাৎ জানতে পারলাম, যে, সাউন্ড সিস্টেমের সাথে দুইজন মানুষ এসেছিলো। জানতে পারলাম, তাদের জন্যে কোন ব্যাবস্থা নেই। দরিদ্র দুইজন মানুষ, দেখেই বুঝা যায়!
আমি ঐ শুকনো মানুষ দুজনের ইফতারের টাকা দিবো বলতেই আয়োজকরা তাদের ইফতারের ব্যাবস্থা করলেন। না দিলে হয়তো ঐ লোক দুটোকে উপোস থাকতে হতো।
৩|
০৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: গেট ওয়েল সুন ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৮
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
আমি আজা মাদের ইউনিভার্সিটির এলামনাই এসোসিয়েশনের ইফতার পার্টিতে গিয়েছিলাম। প্রায় ৭০-৮০জন হবে। ওরা ৫৫০ টাকার প্লেটারের জন্যে ৭০০ করে নিলো।
হঠাৎ জানতে পারলাম, যে, সাউন্ড সিস্টেমের সাথে দুইজন মানুষ এসেছিলো। জানতে পারলাম, তাদের জন্যে কোন ব্যাবস্থা নেই। দরিদ্র দুইজন মানুষ, দেখেই বুঝা যায়!
আমি ঐ শুকনো মানুষ দুজনের ইফাতারের টাকা দিবো বলতেই আয়োজকরা তাদের ইফতারের ব্যাবস্থা করলেন। না দিলে হয়তো ঐ লোক দুটোকে উপোস থাকতে হতো।