নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও কেউ নেই। সবাই ইদের ছুটিতে বাড়ি গেছে। ইদের দিনে একজন পথের ফকির বা একজন রিকশাচালকও ভালো মন্দ খায়। মেসে বুয়া নেই। বুয়া দশ দিন পর আসবে। চাকরীজীবিরাও এত দিন ছুটি পায় না। বুয়া'রা সব সময় ছুটি বেশি পায়। আসলে বুয়া'রা ছুটি নিজেরাই নিয়ে নেয়। শাহেদের কাছে খুব বেশি টাকা নেই। আর টাকা থাকলেও লাভ হতো না। ভাতের হোটেল সব বন্ধ। অবশ্য ফাস্ট ফুডের দোকান গুলো খোলা আছে। শাহেদ জামালের মতো পোড়া কপাল কারো নেই। ইদের দিন ক্ষুধা পেটে নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। এদিকে শাহেদ জামাল ক্ষুধা একদম সহ্য করতে পারে না। তার এখন খেতে ইচ্ছা করছে পোলাউ আর ইলিশ মাছ ভাজা।

ইদের দিন তো রমনা পার্কে যাওয়া'ই যাবে না।
প্রচন্ড ভিড় হয়। ভিড় শাহেদ জামাল সহ্য করতে পারে না। শাহেদ জামাল ইদের নামাজও পড়েনি। কারন ইদের দিন নতুন পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে নামাজে যেতে হয়। সে পাঞ্জাবি কিনতে পারেনি। তাকে কেউ পাঞ্জাবি গিফটও করেনি! ইদের দিন পুরান পাঞ্জাবি পড়ে নামাজ পড়ার কোনো মানে হয় না। শাহেদ জামাল বিছানায় শুয়ে আছে। তার মন মেজাজ অত্যাধিক খারাপ। প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছে। ক্ষুধা পেলে লজিক এলোমেলো হয়ে যায়। আল্লাহ তো সব মানুষের রিজিকের মালিক। আল্লাহ কি আজ ইদের দিন তার রিজিক রাখেন নাই? শাহেদ জামালের ভাবতে ভালো লাগছে, সে খেতে বসেছে। টেবিলে সব রকম খাবার আছে। গরুর মাংস ভূনা। রোস্ট। তাও আবার দেশী মূরগীর। টিকা। কাবাব। প্লেন পোলাউ। বোরহানি। জর্দা। পায়েস। দই, মিষ্টি। আরো আছে- নুডুলস, চটপটি, সেমাই, নেহারী এবং রুটি। যেটা ভালো লাগে- নিয়ে নিয়ে ইচ্ছে মতো খাও। তৃপ্তি করে খাওয়া শেষে এক কাপ চা। লাইভ ইজ বিউটিফুল!

ক্ষুধার্থ পেটে কিচ্ছু ভালো লাগে না।
শাহেদ জামাল একটা বই হাতে তুলে নিলো। বইয়ের নাম- আমি ও আমার মওলানা ভাসানী। বই পড়লে হয়তো মন খারাপ ভাব চলে যাবে! মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৬৩ সালে চীনে যান। দেশে ভাসানী লুঙ্গি আর পাঞ্জাবি পড়ে থাকলেও চীনে লুঙ্গি- পাঞ্জাবী পরে যান নাই। অনেকের ধারনা চীন যাওয়ার পরই ভাসানী বদলে যেতে শুরু করেন। ভাসানী নিজেই বলেছেন, ''আমার চীন সফরে আমার অনেক বন্ধুই দুঃখ পাইয়াছেন। অনেকে চীনের বদলে যদি আমি যুক্তরাষ্ট্রে যাইতাম তবে খুশী হইতেন''। মুক্তিযুদ্ধের সময় চীনের ভূমিকা ছিল বাংলাদেশের বিরোধী। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে চীনের ভূমিকা ও ভাসানীর কিছু দায় কি নেই? শাহেদ জামালের বই পড়তে ইচ্ছা করছে না। পেটে ক্ষুধা থাকলে কিচ্ছু ভালো লাগে না। ভাসানী যুদ্ধ করেন নাই। কৌশলে ভারত চলে গিয়েছিলেন। অবশ্য ভারত নয় তার লন্ডনে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো। ভারত গিয়ে হয়তো ইন্দিরা গান্ধীর সাথে দেখা হয়েছিলো! মুক্তি যুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনী তার ঘরবাড়ি সব জ্বালিয়ে দিয়েছিলো।

শাহেদ জামাল একটা পুরনো পত্রিকা তুলে নিলো।
পৃথিবীর তিনভাগ জল, এক ভাগ স্থল। হোয়াংহো নদী চীনের প্রধান নদী। চীনা ভাষায় হো মানে নদী। আর হোয়াং এর বাংলা হলো- হলুদ। অর্থ্যাত হলুদ নদী। নদীটির পানি হলুদাভ। যীশুর জন্মের বহু বছর আগে- হোয়াংহো'র তীরে চীনা সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। এই নদী ৫ হাজার বছরের পুরনো চীনা সংস্কৃতি ও সভ্যতার জন্মস্থল। আমাদের নবীজি কখনও চীনে যান নাই। যীশুও কখনও চীনে যান নাই। যাইহোক, এখন চীনের মোট জাতীয় উৎপাদনের ১৪% এই নদীর উপর নির্ভরশীল। প্রাচীন কালে প্রায়ই হুয়াংহো নদী ছাপিয়ে উঠে সবকিছু বন্যায় ভাসিয়ে দিত বলে এই নদীর নাম ছিল "চিনের দুঃখ"। ছাব্বিশ বার এই নদীর গতিপথ বদল হয়েছে। এক সময়ের চীনের দুঃখ আজ বহু মানুষের জন্য আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে। আমাদের পদ্মা নদীর আরেক নাম সর্বনাশা পদ্মা নদী। পদ্মা হাজার হাজার বাড়িঘর, মসজিদ, মাদ্রাসা- খেয়ে ফেলেছে। লাখ লাখ মানুষকে করেছে নিঃস্ব।

বই পড়তে পড়তে শাহেদ জামাল ঘুমিয়ে গেছে।
গভীর ঘুম। স্বপ্ন দেখলো! স্বপ্নটা এই রকমঃ নীলা আর সে বেইজিং থেকে প্লেনে করে হোংয়াহো নদীর কাছে যাচ্ছে! তাদের পাশের সীটে বসে আছেন গ্রেট মাওলানা ভাসানী! শাহেদ তাকে দেখে খুশীতে লাফিয়ে উঠে বলল, স্যার কেমন আছেন? মাওলানা ভাসানী শাহেদের সাথে কথার কোনো আগ্রহ দেখালেন না। একটা হাই তুলে চোখ বন্ধ করে ফেললেন! মনিটরে শাহেদের চোখ। সেখানে লেখা উঠেছে- আপনাকে স্বাগতম! বর্তমান বিশ্বে চীন শুধু অর্থনীতিতেই নয়, শিক্ষা-দীক্ষাসহ বিজ্ঞানচর্চা ও স্থাপত্যবিদ্যায় অনেক এগিয়ে। কিশোর-কিশোরী, নারী-পুরুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আয়তনের দিক থেকে রাশিয়া আর কানাডার পরই চীনের অবস্থান। মোট ২৩টি অঙ্গরাজ্যের দেশ চীন। চীনে খাবার খেতে হয় কাটি দিয়ে। দুটা কাঠি। এ কাঠির নাম ‘চপস্টিক’, চায়নিজরা বলে 'খোয়াইজ্যা'।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.