নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

জীবনের গল্প- ১০২

১০ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২৪



সালাউদ্দিনের সুখের সংসার।
সংসারে সদস্য সংখ্যা মাত্র তিনজন। স্ত্রী আর পুত্র কন্যা। ছেলেমেয়ে দুজনই লেখাপড়া করছে। দুটাই ছেলেমেয়েই লেখাপড়ায় প্রচন্ড ভালো। সালাউদ্দিন কৃষি ব্যাংকে চাকরি করেন। প্রিন্সিপাল অফিসার। সংসারে অভাব নেই। সপ্তাহে দুদিন তার ছুটি। ছুটির দিনে স্ত্রীকে ঘরের কাজে সাহায্য করেন। ছেলেমেয়েদের নিয়ে বেড়াতে যান। ঘটনা চক্রে এই পরিবারটাকে আমি চিনি অনেক বছর ধরে। এদের বাসায় আমি যাই। সালাউদ্দিন ও তার স্ত্রী আমাকে যথেষ্ঠ আন্তরিকতা দেখান। এদের ছেলেমেয়ে আমাকে আংকেল ডাকে। চারিদিকে সব পরিবারে ঝগড়া, মনোমালিন্য, দূরত্ব এবং অবিশ্বাস। দুই একটা ভালো পরিবার দেখলে খুশি লাগে।

সালাউদ্দিন আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
তাদের সাথে আমাদের যোগাযোগের ভাটা পড়ে। বছরের পর পর বছর চলে যেতে থাকে। মাঝে মাঝে সালাউদ্দিন ফোন করে, ব্যস এই পর্যন্তই। আমি মনে করি, সালাউদ্দিনকে ফোন দিবো। খোঁজ খবর নেওয়া দরকার। কিন্তু খোঁজ খবর নেওয়া হয় না। ব্যস্ততা। যাইহোক, মাঝে মাঝে রাস্তায় দেখা হয়- ব্যস্ততার কারণে খুব একটা কথা বার্তা হয় না। এভাবে দশ বছর পার হয়ে যায়। সময় আসলেই খুব দ্রুত চলে যায়। আমি আমার চাকরি নিয়ে ব্যস্ত। নিজের ঘর সংসারের বাইরে নজর দেওয়ার সময় পাই না। আমার সবটুকু সময় চাকরি আর ঘরসংসার নিয়ে নিচ্ছে! যেন আমার আর কিচ্ছু নেই।

সালাউদ্দিনের সাথে এক বছর আগে দেখা হয়।
লোকটা বুড়ো হয়ে গেছে। মাথা প্রায় টাক। যে ক'টা চুল আছে, সেগুলো সাদা হয়ে গেছে। মুখে খোচা খোচা দাড়ি। দাড়ি গুলোও সব সাদা। আমরা একটা রেস্টুরেন্টে বসে চা খেলাম। জিজ্ঞেস করলাম সিফাত আর নোভা কেমন আছে। সালাউদ্দিন বললেন, ছেলেমেয়ে ভালো আছে। তারা দুজনেই কলেজে পড়ছে। কিন্তু দুঃসংবাদ হচ্ছে আমার স্ত্রী মারা গেছে। ক্যান্সার হয়েছিলো তার। অনেক টাকা পয়সা খরচ করেছি। কিন্তু বাঁচাতে পারিনি। নাজমা ভাবী নেই! মহিলা আমাকে ভাই বলে ডাকতেন। একদিন বলেছিলাম, বেগুন দিয়ে ইলিশ মাছের শুটকি খেতে মন চায়। উনি খাইয়েছিলেন।

সালাউদ্দিন আর কিছুদিন পর চাকরি থেকে অবসর নিবেন।
প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি মিলিয়ে বেশ ভালো টাকাই পাবেন। সালাউদ্দিন ছেলেমেয়েদের বলেছিলেন, তোমরা শুধু মন দিয়ে লেখাপড়া করে যাও। ধীরে ধীরে মা চলে যাওয়ার কষ্ট ছেলেমেয়ে সামলে উঠেছে। এভাবেই যাচ্ছে দিন মাকে ছাড়া। দেখতে দেখতে সাত বছর পার হয়ে গেছে। সালাউদ্দিন সাত বছর পর অনুভব করলেন, ঘরে একজন স্ত্রী লোক দরকার। সালাউদ্দিন বিয়ে করলেন। নতুন স্ত্রী ঝুনুকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, তোমাকে বিয়ে করেছি, আমার ছেলেমেয়ের জন্য। তাদের যেন কোনো অনিষ্ট না হয়। খাওয়াদাওয়ার কষ্ট না হয়। হ্যা মহিলা ভালো। তিনি জান-জীবন দিয়ে দুটা ছেলেমেয়ের খেয়াল রেখে চলেছে।

সিফাত, নোভা নতুন মা পেয়ে খুশি।
তাদের সৎ মা অনেক ভালো। তাদের মায়ের মতোই ভালো। ছয় মাস পর নতুন মা ঝুনু বদলে গেলেন। তার স্বামীকে স্পষ্ট বলে দিলেন, আমি আর এদের রান্না করে খাওয়াতে পারিব না। এবং এদের সঙ্গে আমি আর বাস করিব না। আলাদা বাসা নাও। সালাউদ্দিন এখন তার নতুন স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা বাসায় থাকেন। দুই ভাইবোন এখন কোথায় যাবে? আপাতত সিফাত আর নোভা তার মায়ের এক বান্ধবীর বাড়ি উঠেছে। মায়ের বান্ধবী বলেছেন, তোমরা আমার কাছে থাকবে, আমার বাসায় থাকবে। কোনো সমস্যা নাই। সিফাত আইইএলটিএস পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়েছে। সে পড়াশোনা করতে লন্ডন চলে যাচ্ছে। নোভা দেখতে ভীষন সুন্দর। একদম মায়াবতী। নোভার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, আমার এক আত্মীয়ের সাথে।

সালাউদ্দিন সাহেব আমার সাথে দেখা করতে এলেন।
কান্না করলেন। দুই কাপ চা খেলেন। এবং বললেন, সিফাত লেখাপড়া করতে বিদেশ যাবে, খরচ আমি দিবো। নোভার বিয়ের খরচ আমি দিবো। এটা আমার দায়িত্ব। আমি বললাম, খুবই ভালো কথা। এতে আপনার পাপ কিছুটা কাটা যাবে। সালাউদ্দিন বললেন, কলুষিত আমি। আমার মন দুষিত। আমি বললাম, প্যান প্যান বাদ দেন। বাসায় যান। ঝুনু বিবি অপেক্ষা করছে। সালাউদ্দিনের সাথে কথা বলার সময় এখন আমার নেই। নোভার বিয়ের দায়িত্ব আমার আর সুরভির কাঁধে। সেটা নিয়ে আমি ব্যস্ত। বর্ষাকালটা গেলেই বিবাহের তারিখ ধার্য করা হবে। সামু ব্লগ থেকে একজনকে দাওয়াত করা হবে। তার নাম- চাঁদগাজী।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:০২

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: তাদের সৎ মা অনেক ভালো। তাদের মায়ের মতোই ভালো।
........................................................................................
সৎ মা সবসমই সৎ মা থাকে,
মেয়েরা সেক্রিফাইস করতে জানেনা,
জীবনে চ্যালেন্জ নিতেও জানেনা
কারন কাঠামোগত ও মানসিকভাবে সম সময়ই
তারা দূর্বল ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.