নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শাড়ীকমপ্লেক্স

আমি জানতে ও শিখতে পছন্দ করি।

রমেন সাহা

আমি একজন শাড়ী ব্যবসায়ী।

রমেন সাহা › বিস্তারিত পোস্টঃ

কারও মন্তব্য আমার বেচে থাকার প্রেরনা হতে পারে।

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৩৬

আমি ১৯৯৫ সাল খেকে প্রিয়াঙ্গনে ব্যবসা করে আসিতেছি। নিজের নিকট ব্যবসা চালানোর জন্য পর্য্যাপ্ত অর্খ না থাকায় বিভিন্ন ঋণ সংস্থার নিকট থেকে ঋন নিয়ে চালাইতেছিলাম। বাংলাদেশের নামি তাঁতীদের শাড়ী, বারকোড সংযুক্ত এক দাম, মহিলা বিক্রেতা থাকায় বিক্রি প্রতি বছরই একটু একটু করে বারতে থাকে। ২০০৫ সালে প্রথম এস.সি.বি. ব্যাংক খেকে লোন নিতে পারি। মাত্র ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তারপর এক বছর পর টপ আপ মানে এক দুই লাখ বেশী, এভাবে ৫ লাখ ৮০ হাজার ধিরে ধিরে ১০ লাখ হয়ে গেল। প্রায় ৩০ হাজার করে প্রতি মাসে কিস্তি দিতে হয়, ২ বছর দেবার পর আবার নতুন মুলধন প্রয়োজন পরে। এরপর এস.সি.বি. ব্যাংকের ব্রান্চ ম্যানেজারের পরামর্শে একসংগে চার পাঁচটা ব্যাংকে নতুন লোনের জন্য ফাইল জমা দেই এবং চারটা ব্যাংক থেকে প্রায় বিশ লাখ টাকা, ও এস.সি.বি. ব্যাংকে থেকে একটা অটো লোন পাস হয়। এখন প্রায় ৮০ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে আমাকে কিস্তি দিতে হয়। দুই মাস পর গাড়ীটা একটা বিদেশী কম্পানিতে ভারা দিয়ে দেই, মাসিক ভাড়া চুক্তিতে। ব্রান্চ ম্যানেজার আমাকে বললেন আপনি আমাদের ব্যাংকে বেশি বেশি করে লেনদেন করতে থাকেন, সাবধান কখনও ডিফল্টার হবেন না মানে কিস্তি দিতি মিছ করবেন না। আমি বললাম ঠিক আছে আপনি কোন চিন্তা করবেন না। অবশ্য আমি এর আগে কখনও একবারের জন্যও মাসিক কিস্তি বাদ পরেনি। তাই আস্তে আস্তে ব্যাংকে লেনদেন বারাতে লাগলাম দুই থেকে ছয় লাখ টাকা রেখে। ব্রান্চ ম্যানেজারেরও আমার এই একাউন্টটে লেনদেন করতে পারতো। আমি তার ইচ্ছায় ব্যাংকের চেক বইয়ের চার পাঁচ টা পৃষ্ঠা তার নিকট রেখে আসতাম। সে কখনও আমার নিকট হইতে ধার বা কাজের বিনিময়ে টাকা চাইতো না, তাই আমি তাকে অন্ধের মত বিশ্বাষ করতে লাগলাম। কারন কোন কোন সময় তার নিজের টাকা আমার একাউন্টে এবং আমার টাকা তার একাউন্টে এভারে ব্যবহার করতে লাগলো একাউন্টের হিসাব বাড়ানোর জন্য। এভাবে এক বছর পার হলো এরপর একদিন ব্রান্চ ম্যানেজার আমাকে ডেকে বললেন এখন আমরা আপনাকে বিজিনেস লোন দিতে চাই, দশ লাখ থেকে এক কোটি পর্যন্ত। আমি তো খুব খুশি, কারন আমি এই দিনের আশায়ই বসে ছিলাম।আমাকে ফাইল জমা দিতে বলল, আমি ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে ফাইল রেডি করে জমা দিলাম। আমি রমেন সাহা, আমার বাড়ী যশোর জেলার অন্তরগত, আমার জন্ম ১৯৬৭ সালে, আমি ২০০২ সালে বিবাহ করি যশোর শহরে, ২০০৪ সালে আমাদের দুইটি জমজ বাচ্চা হয়, ২০০৮ সালে ওদের উয়াই, ডাবলু, সি, এ স্কুলে (গ্রীন রোড) ভর্তি করি, ক্লাশ থ্রিতে উঠলো এবার, ছোট বা সর্বোশেষ মেয়ের বয়ষ তিন, আমার স্ত্রী গৃহিনী। ফাইল জমা দেবার দু এক দিন পর ব্রান্চ ম্যানেজার আমাকে জানালেন ব্যাংকের লেনদেন বছরে যাহলে বিজিনেস লোন দিতো, এখন নতুন নিয়ম প্রায় তার দ্বিগুন লেনদেন করতে হবে বিজিনেস লোন নেবার জন্য। তার মানে এখন প্রতি মাসে কমপক্ষে বিশ লাখ টাকা করে ছয় মাস লেনদেন করতে হবে। ছয় মাস পর এ.এম.ই বিজিনেস লোনের জন্য ফাইল জমা দেওয়া হল দুই ব্যাংকে এস.সি.বি ও বি.বি.এল।বি.বি.এল আমার দেনার ১৭ লাখ টাকার কাগজগুলি দেখে ১৫ লাখ দেবার সিদ্ধান্ত নিল। লোন দেবার প্রক্রিয়া শুরু হল, ব্রান্চ ম্যানেজার আমাকে আগে খেকে জানিয়েছিল যখন আমাদের ব্যাংকে বিজিনেস লোন হবে তার আগে অন্য সকল ব্যাংকের পাওনা টাকা পরিশোধ করে আসতে হবে প্রায় ২৪/২৫ লাখ টাকা, এর মধ্যে বি.বি.এল থেকে ১৫ লাখ পাওয়ায় বাকি থাকলো ৯ লাখ। ব্রান্চ ম্যানেজার আগে থেকেই জানতো যে আমার কাছে কোন টাকা নেই, উনে আমাকে ৯ লাখ টাকার ব্যবস্হা করে দিবেন প্রতি লাখে এক হাজার টাকা প্রতি দিনের জন্য।উনি খুব ভালো মানুষ এবং আমার কাছে আরও প্রিয় হয়ে গেলেন। বি.বি.এল এর লোনটা পেয়ে এর এক মাস পর এস.সি.বি থেকে ২৯.৩ লাখ পাস হল, এখান খেকে ৮.৭ লাখ সিকিউরিটি বাবদ জমা রাখলো এস.সি.বি, কিছু পূর্বের হ্যান্ড লোন পরিশোধ করে হাতে থাকলো ১৩/১৪ লাখ। আমি ব্রান্চ ম্যানেজারকে বললাম এ টাকা আমাদের পরিকল্পনার থেকে অর্ধেকেরও কম! আর টাকাটা না নিয়েও পারছি না, কারন লোন দিতে দেরি হওয়ায় কিছু হ্যান্ড লোন করতে হয়েছিল।ব্রান্চ ম্যানেজার আমাকে বললেন দাদা ব্যাংক নিজেই আর্থিক সংকটের মধ্যে আছে, আপনি এই টাকাটা দিয়ে আপাতত চলতে লাগেন, এ বছর আরও ভালোকোরে লেনদেন করেন, ৩০ লাখ তো আপনার ইচ্ছা তা আগামিবার করে দেওয়া হবে।তার পরামর্শে চলতে লাগলাম। ছয় সাত মাস যাবার পর আমার সমস্ত টাকা ফুরায় যায়, কারন প্রতি মাসে তিন লাখ খরচ, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। ষ্টকে শাড়ী আছে তখন ৮/১০ লাখ টাকার।এই মাল বিক্রির জন্য অনেক কম টাকার মাল, নতুন করে মাল কেনার টাকা না থাকায় ব্রান্চ ম্যানেজারকে বলে গাড়ীটা বিক্রি করে দিলাম ১৪ লাখ টাকায় । গাড়ীটা ছিল এক্স করোলা-২০০৬। ১৪ লাখ টাকার মধ্যে ৬/৭ লাখ টাকা ব্যাংকের দেনা পরিশোধ করি।গাড়ীটা এস.সি. বি. থেকেই নেওয়া ছিল।আর ৩/৪ লাখ টাকা ও সহি করা চেক ব্যাংকে লেনদেন করার জন্য ব্রান্চ ম্যানেজারর নিকট দেই। লেনদেন করার দরকার হলে আমাকে ফোন করতো।আমি তার কাছে গেলে সে আমাকে চেক এবং জমার স্লিপ লিখে দিত, আমি কাউন্টারে গিয়ে লেনদেন করে তারকাছে এসে হিসাব দিতাম, এভাবে ৩/৪ বার করিয়ে আমাকে ছেড়ে দিত।এদিকে বাকী ৩লাখ ৩বার শাড়ী কিনে শেষ করলাম।১১ মাসের সময় টাকা কমে গেল।ব্রান্চ ম্যানেজার বলল টাকা জোগার করতে।বললাম আচ্ছা দেখি। তারপর বাসায় এসে আমার বৌ চন্দনাকে বুঝিয়ে সব স্বর্ন (২৫ ভরি) ৫ লাখ টাকা বিক্রী করলাম। (চলবে)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.