| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আজ তিনদিন হলো ফারুক-তৃণা দম্পতি কক্সবাজারে এসেছে। এই তিনদিনে তারা দুজনে অনেক জায়গায় বেড়াতে গিয়েছে,গভীর রাত পর্যন্ত সমুদ্র দেখেছে। কিন্তু যার জন্যে ঘুরতে আসাটা সেই তৃণার মন আগের মতো খারাপই রয়ে গেছে। কক্সবাজারে আসার পর এখন পর্যন্ত তৃণার মুখে হাসি দেখেনি ফারুক! সব সময়ই সুন্দর মুখটা ভার করে রাখা।
অথচ মাত্র এক মাস আগেও তৃণার মুখ আনন্দে সারাক্ষণ ঝলমল করত। সেই আনন্দ ছিল প্রথমবারের মতো মা হওয়ার আনন্দ! কিন্তু শারীরিক জটিলতার কারণে ডাক্তাররা এবরশন করতে বাধ্য হন। সেই থেকে তৃণা মানসিকভাবে একেবারেই ভেঙে পড়েছে। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে এমনকি ফারুকের সাথে কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে। তাই পরিচিতজনদের পরামর্শে তৃণাকে নিয়ে কক্সবাজারে কয়েকদিনের জন্যে বেড়াতে এসেছে ফারুক। এতে তার মনটা একটু হলেও যদি ভাল হয়!
আজ চতুর্থদিন! ফারুক স্পষ্টভাবে লক্ষ করল তৃণাকে আজ অন্যরকম লাগছে।
সকালে সে সমুদ্রতীরে বেশ কিছুক্ষণ বাচ্চাদের মত ছুটোছুটি করেছে।
দৌড়াদৌড়ি-লাফালাফি জিনিসটা মোটেও ভাল লাগে না ফারুকের। তবুও
তৃণাকে খুশি করার জন্য তাকেও কিছুটা দৌড়াদৌড়ি করতে হলো!! দিনের বাকিটা সময় দুজনে মিলে ঘুরে-ফিরে কাটিয়ে দিয়ে রাতে রুমে ফিরে এলো তারা।
রাত অনেক হওয়ায় রুমে এসেই শুয়ে পড়ল তারা। নিঝুম নিস্তব্ধ রাত। দূর হতে সমুদ্রঢেউয়ের তীরে আছড়ে পড়ার শব্দ ভেসে আসছে। এমন সময় অতি পরিচিত ভঙ্গিমাতে তৃণার নিশ্বাস ফেলবার শব্দ শুনতে পেল ফারুক! এই সংকেতের অর্থ ভালই জানা আছে তার। ধীরেসুস্থে বিছানার নিচ থেকে ছোট্ট প্যাকেটটা হাতে নিল ফারুক। এইবার তার আর কোন ভুল করা চলবে না!
লিখা: জনৈক রানা আহমদ
©somewhere in net ltd.