নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জনৈক রানা

জনৈক রানা › বিস্তারিত পোস্টঃ

একজন ফিলিস্তিনি নারীর স্বপ্ন

০৮ ই আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ২:১১

পড়ন্ত বিকেল। শুন্য দৃষ্টিতে জানালার বাইরে চেয়ে রয়েছে মাইসুন আবু রাহমা। কিছুদিন আগেও যেখানে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল হাজারো ফিলিস্তিনির ঘরবাড়ি, এখন সেখানে কেবলই ধ্বংসস্তূপ! সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো লাগছে রাহমার। এমন তো হওয়ার কথা ছিল না! তবে তাদের সাথে কেন সবসময় এমন হয়?



রমজান মাসের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে রামাল্লা শহরের হামজা জাবারিন নামের এক ছেলের সাথে তার বিয়ে হয়। ছেলেটি গাজার সরকারি কোন এক পদে কর্মরত। প্রথম দেখাতেই তাকে ভাল লেগে যায় রাহমার। যুবকটির কঠোর চেহারার আড়ালে কেমন জানি নিষ্পাপ মায়াবী এক হাসির অস্তিত্ব খুঁজে পায় সে। বিয়ের প্রথম রাতেই স্বপ্নবাজ হামজা তার স্বপ্নের ডালা খুলে বসে।



“দেখো আমাদের প্রথম সন্তান মেয়ে হবে! আমরা মেয়ের নাম রাখব আয়শা। কি,সুন্দর না নামটা?” জবাবের অপেক্ষা না করে বলে চলে হামজা। আর মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকে রাহমা। স্বপ্ন দেখতে পারা আর অন্যকে স্বপ্ন দেখানো— এ অসাধারণ দুটো ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টিকর্তা হামজাকে সৃষ্টি করেছেন। রাহমা স্বপ্ন দেখতে শেখে। নিজেদের বুনা স্বপ্নজালে জড়িয়ে যায় দুজনে। বুঁদ হয়ে থাকে অনাগত দিনগুলির রঙ্গিন ভাবনায়!



গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে হামজার সাথে কোন দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি রাহমার। হামজা আল কাসেম ব্রিগেডের একজন কমান্ডার হিসেবে প্রতিরোধ যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। আর রাহমা তার পরিবারের সাথে রাফা শহরে আরোও লক্ষ লক্ষ গাজাবাসীর মতোই আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় দিন পার করতে লাগল।



কতোক্ষণ জানালার বাইরে তাকিয়ে রয়েছিল বলতে পারবে না রাহমা। হঠাৎ বোমা আর মর্টারের প্রচন্ড শব্দে কানে তালা লেগে যাওয়ার জোগাড় হলো। কিছু বুঝে উঠার আগেই পুরো বাড়িটা বারকয়েক কেঁপে উঠল। বাড়ির সবাই দ্রুত বাড়ির একেবারে মাঝখানে জড়ো হতে চাইল,বোমা হামলার সময় সব ফিলিস্তিনি পরিবার যা করে থাকে। কিন্তু সেই সময়টুকুও ছিল না তার। চোখের সামনে দেখল শক্তিশালী শেলের আঘাতে তার চার বছরের বোনটি ভাঙ্গা কংক্রিটের দেয়ালের সাথে উড়ে গিয়ে পড়ল। চিৎকার দেওয়ারও সুযোগ পেল না রাহমা। মুহুর্তের মধ্যেই তার পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেল।



রাহমার জ্ঞান ফিরল তীব্র ফিনাইলের গন্ধে। চারদিক থেকে মানুষের কোলাহলপূর্ণ আওয়াজ ভেসে আসছে। অনেক কষ্টে চোখ মেলল সে। নিজেকে হাসপাতালের বিছানায় আবিষ্কার করল।

কী ঘটেছিল মনে করতে গিয়ে শরীরটা কেঁপে কেঁপে উঠতে লাগল। মা,বাবা,নানি,দুই ভাই আর ছোট্ট বোনটির কথা মনে পড়ল তার। তাদের কী অবস্থা? চিৎকার করে কাঁদতে চাইল সে। কিন্তু গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হল না তার।



হঠাৎ খুব ক্লান্ত বোধ করতে লাগল রাহমা। হামজার কথা খুব করে মনে পড়ল। সে কি এখনো বেঁচে আছে? খুব ইচ্ছে হচ্ছে তার হাত ধরে স্বাধীন ফিলিস্তিনে হেঁটে বেড়াই। রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে এক ফালি জ্যোৎস্না এসে আলোকিত করে যাবে ফিলিস্তিনের রাজপথ। সেই রাজপথে স্বাধীনভাবে বিচরণ করবে রাহমা-হামজার মতো অসংখ্য পুষ্পকলি,বিশ্বের যতো ভন্ডামি আর আগ্রাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। সেই স্বপ্ন রাহমারা দেখতেই পারে। স্বপ্ন দেখা মানুষের জন্মগত অধিকার।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.