| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রিহ্যাব
Preamble: Urbanization is an outcome of both population growth and rural-urban migration. As urbanization increases, more and more people are becoming city dwellers. Bangladesh is not any exception to that picture. The ever-increasing urban population is catering an increasing demand for shelter. The right of shelter is a fundamental right, which is ensured by both UN declaration and the constitution of Bangladesh. But it is very difficult on the part of the government of Bangladesh alone to ensure housing for all. Here comes the need of private sector real estate development.
দেশের সেবা খাতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া। প্রথম দফা শেষ হওয়ার পর ২য় দফায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে চেয়ারম্যান হিসাবে কাজ করছেন তিনি। রাজউকের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া। নয়নাভিরাম হাতির ঝিল প্রকল্পের ফিনিশিং কাজ, কুড়িল ফ্লাইওভার, কুড়িল থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত তিনশ ফুট রাস্তা, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এবং উত্তরা তৃতীয় পর্যায় প্রকল্প সহ অনেক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন রাজউক চেয়ারম্যান। আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং রাজউক এর কর্মকান্ড নিয়ে সম্প্রতি একান্তে কথা হয় রাজউক চেয়ারম্যানের সাথে “স্বপ্নীল আবাসন” এর। নিচে সাক্ষাৎকারটির নির্বাচিত অংশটি তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন রিহ্যাবের জনসংযোগ কর্মকর্তা রশিদ বাবু
উল্লেখ্য যে স্বপ্নীল আবাসন রিহ্যাবের একটি নিজস্ব ম্যাগাজিন।
স্বপ্নীল আবাসনঃ আবাসন শিল্পে অনেকটাই মন্দাভাব চলছে, এই বাস্তবতায় রাজউকের চেয়ারম্যান হিসেবে কি অনুভব করছেন । এই খাতের একজন অভিভাবক হিসাবে এই মন্দা বা সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে আপনার কি পরামর্শ থাকবে।
প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াঃ আসলে বর্তমানে আবাসন ব্যবসায় মন্দা চলছে। এই বিষয়টা দুই ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমত হচ্ছে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে গেছে। আর দ্বিতীয়ত আসলে দেশের সার্বিক অর্থনীতি বিবেচনা করলে ফ্ল্যাটের দাম বেশ খানিকটা বেশি। রিহ্যাবের তথ্যমতে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ফ্ল্যাট অবিক্রিত। আমার মনে হয়, যে কোন কিছু তৈরি বা বিক্রির আগে মার্কেট সার্ভে করাটা জরুরী। কিন্তু যখন এতোগুলো ফ্ল্যাট তৈরি হয় তখন মনে হয় এই সার্ভেটা করা হয়নি। তবে বিষয় টা যেটাই হোক মানুষের আবাসন বা বাসস্থান দরকার। আবাসন শিল্পের এই বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে আমি মনে করি সরকারকে এ বিষয়ে একটা উদ্যোগ নেয়া দরকার। সরকার যদি খুবই নিম্নসুদে একটা তহবিলের ব্যবস্থা করে সেটা খুবই ভাল হয়। বিশেষ করে ঘূর্ণায়মান তহবিল হলে সবচেয়ে ভাল। প্রণোদনা টাইপের একটা ফান্ড হলে আমার মনে হয় বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমার মনে হয় এটা খুবই জরুরী। কারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হল বাসস্থান। দীর্ঘ মেয়াদে ঘূর্ণায়মান এই ঋণের ব্যবস্থা হলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে। ফলে নাগরিকদের বাসস্থানের ব্যবস্থাও যেমন হবে, তেমনই এই সংকট থেকে উত্তরণের একটা ব্যবস্থা হবে। আশা করি সরকার বিষয়টা ভেবে দেখবেন।
স্বপ্নীল আবাসনঃ রিহ্যাব এর বর্তমান ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মতামত কি? রিহ্যাবকে কেমন দেখতে চান। কোন দিকে রিহ্যাবের জোর দেয়া উচিৎ।
প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াঃ বাংলাদেশের আবাসন সমস্যার সমাধানে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে রিহ্যাব। আরবান এরিয়াতে চোখ খুুলে তাকালেই রিহ্যাবের ভূমিকা বুঝা যায়। বড় বড় ইমারতের দিকে তাকালেই স্পষ্ট বুঝা যায় কোনটা সরকার করেছে আর কোনটা বেসরকারি খাত রিহ্যাব এর সদস্য প্রতিষ্ঠান করেছে। সরকার তার সাধ্যমত চেষ্টা করছে। তবে নান্দনিক নগরায়নে রিহ্যাব সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কিছু অভিযোগ থাকলেও আমি মনে করি পরিকল্পিত নগর গড়তে রিহ্যাব সদস্যদের অবদান অনেক বেশি। এটা বাস্তব। আর পরিসংখ্যান যদি আমরা দেখি, দেখবো আপনাদের অবদান বেশি। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ যেভাবে অবদান রেখেছে সেই ভাবে কিন্তু সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দিতে পারেনি। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমার মনে হয় অবস্থা আরো অন্যরকম হতো। তবে রিহ্যাবের দুর্বল দিকও রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বা ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মানতে চায় না। এক সময় রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন হতো এক রকম আর ভবন নির্মাণ হতো অন্যরকম। ৬ বা ৮ তলার অনুমোদন নিয়ে তৈরি করা হতো ১০ বা ১২ তলা। আবার ভবনের সামনে পিছনে যে পরিমান জায়গা রাখার কথা সে পরিমান নকশায় রাখা হলেও বাস্তবে তা রাখা হত না। আমি মনে করি, এখন সময় এসেছে সবারই জাতীয় স্বার্থে আইন কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া দরকার। আইনের উপর শ্রদ্ধাশীল মনোভাবটা তৈরি হলে আমাদের সমাজের অবস্থাও পাল্টে যাবে। রিহ্যাব সদস্যদের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। আর এই দায়বদ্ধতা শুধু শীতকালে শীতবস্ত্র বা বন্যায় ত্রাণ দেয়া নয়। সঠিকভাবে ভবনের চারদিকে রাস্তা ছেড়ে দিয়ে নাগরিকের চলাফেরার সুযোগ করে দেয়াও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। আমি মনে করি, রিহ্যাব সদস্যরা বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে সামাজিক এই দায় বদ্ধতা পালন করবেন। আমার কাছে অনেক সময় বিভিন্ন ডেভেলপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে সময় মত বিল্ডিং বুঝে দিচ্ছে না। অভিযোগকারীরা আমার কাছে সহযোগীতা চায়। আমি মনে করি ক্রেতার সাথে চুক্তি অনুযায়ী কমিটমেন্ট রক্ষা করা টা জরুরী। এই বিষয়টাতে রিহ্যাবকে একটু নজর দেয়া উচিৎ।
স্বপ্নীল আবাসনঃ রাজউকে বর্তমানে কি কি প্রকল্প রয়েছে। সেই গুলোর বিষয়ে যদি একটু বলতেন।
প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াঃ আমাদের বেশ কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম উত্তরা প্রকল্প, পূর্বাচল প্রকল্প, ঝিলমিল প্রকল্প। প্রতিটা প্রকল্পে আমরা রাজউক থেকে এ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছি। আর এ লক্ষ্যে উত্তরা প্রকল্পের প্রথম পর্বে আমাদের ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। ৭৯ টি বিল্ডিং এর মধ্যে ৫২ টার গ্রাউন্ড কাজ চলছে। এখানে ৬ হাজার ৬শ ৩২টা ফ্ল্যাট হবে। বেশ কিছু বিল্ডিং ১২ তলা, ১৩ তলা হয়ে গেছে। কোন কোনটা আবার পাইলিং এর কাজ চলছে। আমরা আশা করছি ২০১৬ এর ডিসেম্বর থেকে বরাদ্দ দেয়া শুরু হবে। আবার কয়েকটার কাজ শুরু হয়নি। সেই গুলোর টেন্ডার দেয়ার কাজ চলছে। ২য় পর্বে ১০০টা বিল্ডিং হবে হাই রাইজ। ওই ১০০ টা বিল্ডিং এ হবে ৮ হাজার ৪ শ ফ্ল্যাট। পর্যায়ক্রমে কাজ চলতেই থাকবে।
স্বপ্নীল আবাসনঃ জলাধার তৈরি বা সংরক্ষণের বিষয়টা কোন পর্যায়ে রয়েছে। রাজধানীতে পরিবেশ রক্ষায় কি ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন।
প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াঃ জলাধার সংরক্ষণের জন্য জলাধার আইন হওয়ার পরে আমরা চেষ্টা করেছি এবং করে যাচ্ছি। কিন্তু জলাধার সংরক্ষণের ব্যাপারে রাজউক এককভাবে এটা পারবে না। বিশেষ করে ল্যান্ড ডেভেলপার এসোসিয়েশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটা বেশি। আজকেও পত্রিকায় দেখবেন আশুলিয়ায় স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান জায়গা ভরাট করছে। আমরা এটার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবো। আসলে সবাই মিলে আইন অমান্য করি। সবারই দায়িত্ব আছে জলাধার সংরক্ষণের বিষয়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা সিটি করপোরেশন, নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশন, গাজিপুর সিটি করপোরেশন সহ সবারই দায়িত্ব আছে। সবাই সম্মিলিত ভাবে এটা সংরক্ষণ করতে হবে। জলাধার ভরাটের কারণে এখন সামান্য বৃষ্টি হলে কি পরিমান নাগরিক সমস্যা হয় সম্প্রতি আমরা তা আবার প্রত্যক্ষ করলাম। এখানে ওয়াসার ব্যর্থতা যেমন আছে তেমনি জনগণেরও সচেতনতার অভাব আছে। আমরা নাগরিকরা ময়লা আবর্জনা ফেলি সরাসরি ড্রেনে বা রাস্তায়। এই ময়লা আবর্জনার কারণে পানির ফ্লো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সুতরাং জলাধার সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে পাশাপাশি আমাদের নাগরিকদের মধ্যেও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
স্বপ্নীল আবাসনঃ নতুন পলিসি প্লান কতদুর অগ্রসর হয়েছে।
প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াঃ ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ড্যাপের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাবে। ২০১৬ সালের ১ লা জানুয়ারি থেকে ঢাকা যেন ড্যাপ শূন্য ভাবে পরিচালিত না হয় সেই জন্য আমরা ইতিমধ্যে স্ট্রাকচার প্ল্যান এর কাজ শেষ করেছি। সর্বশেষ মতামত নেয়ার জন্য সেপ্টেম্বর মাসেই বড় সেমিনার হচ্ছে। সেখানে আমরা সমস্থ স্টেক হোল্ডারদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাদের মতামতের আলোকে রিভিউ হবে। আমাদের কনসালটেন্টও নিয়োগ হয়ে গেছে এবং তারা কাজ শুরু করছে। তবে এবার আমাদের কনসালটেন্টদের যে নির্দেশনা দিয়েছি তা হলো ইতিপূর্বে ড্যাপ নিয়ে অনেক বিতর্ক ছিল, তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল, এবার যেন সেরকম না হয় সেভাবে কাজ চলছে। ওই সময় অভিযোগ ছিল যেটা জলাধার নয় সেটা জলাধার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। সেই বিষয়টা এবার খেয়াল রাখা হচ্ছে। এবার ইকুইপমেন্ট অনেক উন্নত হয়েছে। আশা করা যায় নতুন প্লান বাস্তব সম্মত হবে।
স্বপ্নীল আবাসনঃ অনেক দিন থেকে শুনে আসছি ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর বিষয়টি। এর অগ্রগতি কত দুর?
প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াঃ ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর বিষয়টি নিয়ে আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেল যেসব সংস্থা থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হয় তার মধ্যে ফায়ার সার্ভিস, সিভিল এভিয়েশন, তিতাস গ্যাস, বিদ্যুৎ বিভাগ অন্যতম। এ সমস্থ সংস্থার কর্মকর্তারা এক জায়গায় বসে দাখিলকৃত নকশা দেখে অনুমোদন দেওয়াটায় কিছু সমস্যা দেখা দেয়। সেই সময়টাতে আমি ওই কমিটির সভাপতি ছিলাম। অনেকগুলো মিটিং করে আমরা মাত্র ৩-৪ টা অনুমোদন করতে পেরেছিলাম। সমস্যা হলো ওইসব সংস্থা থেকে যাকে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনিত করা হয়, দেখা গেল সে হয়তো বদলি হয়ে যায়। বদলি হয়ে গেলে কাজের আর ধারাবাহিকতা থাকে না। আর কাগজপত্র এবং নকশা দেখার জন্য সময় লাগে, মিটিং এ বসে অল্প সময়ে এটা করা খুব কঠিন। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর জন্য আমাদের আরো কাজ করতে হবে। যেমন সিভিল এভিয়েশনের কাছে যাওয়ার দরকার নাই। তারা যদি একটি ম্যাপ তৈরি করে দিয়ে বলে এখানে হাইট রিষ্ট্রিকশন এতোদুর পর্যন্ত শূন্য হাইট, তারপরে ২ তলা, এরপরে ৪ বা ৬ তলা। এমন ভাবে যদি ঠিক করে দেওয়া থাকে তাহলে কিন্তু ওনাদের কাছে যাওয়ার দরকার নেই। আমরা ম্যাপ বের করলে বুঝবো এখানে ১০ তলা পর্যন্ত। আর এখানে ৬ তলা পর্যন্ত। কিন্তু তারা এ জিনিস টা দেয় না। তারা চায় তাদের কাছ থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে আসুক। ফায়ার সার্ভিস এরও একই অবস্থা। আসলে সবারই অসহযোগীতা রয়েছে। আমি মনে করি ওয়ান স্টপ সার্ভিস যদি চালু করতে হয় তবে অন্য কোন আপেক্স বডি দিয়ে করা দরকার। আসলে রাজউক ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর বিষয়ে সফল হতে পারেনি সবার কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতার অভাবে। তবে নতুন করে পরীক্ষামূলকভাবে আবার চালু করে এটা দেখা যেতে পারে।
স্বপ্নীল আবাসনঃ ই সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু যদি বলতেন।
প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াঃ ই সেবার বিষয়ে বেশ কয়েকটা পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। যেমন রাজউকে আমাদের অনেক নকশা হারিয়ে যেত। বর্তমানে এই নকশা আমরা আর্কাইভে রাখার ব্যবস্থা করেছি। এখন কোন ফাইল হারিয়ে গেলে অসুবিধা নেই। আমরা আর্কাইভ থেকে নকশা দেখে ওটা বের করে নিতে পারবো। প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে এ টু আই প্রকল্পের আওতায় আমাদের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এতে তারা আমাদের অনেক গুলো বিষয়ে সহায়তা করতে সম্মত হয়েছে। আমরা চাই যারা প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাচ্ছে বা পাবে তাদের আইডিতে ক্লিক করলে সমস্থ ডাটা যাতে তারা বের করতে পারে সেই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বপ্নীল আবাসনঃ আগে রাজউক নাগরকিদের প্লট দিত। এর ফলে অল্প কিছু লোক সুবিধা পেত। প্লট এর পরিবর্তে ফ্ল্যাট দিলে অধিক সংখ্যক লোক আবাসন সুবিধা পাবে এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি?
প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াঃ হ্যাঁ আগে আমরা প্লট বরাদ্দ দিতাম। কিন্তু প্লট দিলে একজন ব্যক্তি বেশি লাভবান হয়, সুবিধা বঞ্চিত থেকে যায় অনেকেই। রাজউক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নয়। আমাদের জায়গা সীমিত। সেই জন্য আমরা প্লট এর চেয়ে ফ্ল্যাটের দিকে বেশি নজর দিয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা সেই লক্ষ্যে কাজও শুরু করেছি।
স্বপ্নীল আবাসনঃ আপনি আসার পর রাজউকের ইমেজ আগের চেয়ে বেশ বেড়েছে। কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন যার জন্য ইমেজ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াঃ আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে আমরা প্রতিটি স্টেপে কাজ করে যাচ্ছি। রাজউক হচ্ছে সেবা ধর্মী প্রতিষ্ঠান। জনগণ যাতে সহজে সেবা পায় সেই লক্ষ্যেই রাজউক পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের একটা দুষ্ট চক্র আছে কিছুটা চিহ্নিত আর কিছুটা অচিহ্নিত। তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি যার ফলও আমরা পাচ্ছি। আমার মনে হয় সেবার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আগের পাল্টে যাচ্ছে। আমাদের মোটিভেশনাল অনুষ্ঠান হয়। আমরা প্রতিটি মিটিং এ দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলি। যার জন্য আমার মনে হয় অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
স্বপ্নীল আবাসনঃ অনেক সময় শোনা যায় রাজউকে লোকবল সংকট। বর্তমানে এটা কি অবস্থায় রয়েছে।
প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াঃ আগের চেয়ে আমাদের পরিধি অনেক বেড়েছে। বর্তমানে রাজউক এরিয়া ১৫২৮ বর্গকিমি। নগরায়নের প্রবৃদ্ধিও বেড়েছে অনেক। আমাদের এখন মোট জনবল ১৯৮০ জন। এই জনবল নিয়ে আমরা কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছি। আরো জনবল দরকার। লোকবল সংকটের জন্য আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে আউট সোসিং করছি।
স্বপ্নীল আবাসনঃ নকশা অনুমোদন তরান্বিত করতে স্টেক হোল্ডারদের কমিটিতে রাখার উদ্যোগটি কোন অবস্থায় রয়েছে।
প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াঃ আমাদের নকশা অনুমোদনের যে বিসি (বিশেষ কমিটি) কমিটি রয়েছে সেখানে শুধু রাজউকের কর্মকর্তা আছে তা নয়। ওই কমিটিতে পিডব্লিউডি থেকে প্রতিনিধি আসে, ডিপার্টমেন্ট অব আর্কিটেকচার থেকে আসে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ থেকে আসে। এটা বলা চলে এখানে সবার অংশগ্রহণই রয়েছে। তবে আমাদের কাছে দাবি আছে রিহ্যাব থেকে প্রতিনিধি রাখার জন্য। আমি ব্যক্তিগত ভাবে রিহ্যাবের প্রতিনিধি রাখার ব্যাপারে কোন সমস্যা দেখি না। বিসি কমিটি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন করে গেজেট করতে হয়। এটা মন্ত্রণালয়ের গেজেটেড কমিটি। আমি মনে করিনা রিহ্যাব এর প্রতিনিধি থাকা বড় কোন বাঁধা।
স্বপ্নীল আবাসনঃ আপনাকে ধন্যবাদ স্বপ্নীল আবাসনকে সময় দেয়ার জন্য।
প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.