নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সেচ্ছাসেবক(এফওএসএস বাংলাদেশ), গণিত বিভাগে পড়াশুনা করি, প্রচুর পরিমাণে কফি খাই, সোজাসাপটা কথা বলি, আর্চ লিনাক্স ব্যবহার করি, মন ফুরফুরা থাকলে কোডিং শিখি

রিমন সাঁই

আমি আসলে কিছুই জানিনা।

রিমন সাঁই › বিস্তারিত পোস্টঃ

সন্তান লালনপালনের ক্ষেত্রে আমরা কতটা সফল?

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৫৯

ঘটনা বর্ণনার সুবিধা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার্থে আমি কিছু ছদ্মনাম ব্যবহার করবো।
ঘটনা-১ঃ কোনো এক বিকেলে চার কিংবা পাঁচ বৎসর বয়সী অনিক, বড়বোন মুক্তার সাথে তাদের বাড়ীর পাশের মেঠো পথের ধারে বসে আছে। পথচারী হিসেবে আমি ওদের পাশ দিয়ে মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে যাচ্ছিলাম, (একই মহল্লায় থাকি সেই সুত্রে ওদের চিনি) হঠাৎ খেয়াল করলাম, বড় বোন তার ছোট ভাইটিকে কিছু একটা শেখাচ্ছে কিংবা শেখানোর চেষ্টা করতেছে। আমি আমার হাঁটার গতি কমিয়ে দিয়ে কান দু'টো খাড়া করলাম। ওরে সর্বনাশ! গালি শেখাচ্ছে [এতটুকু শুনে প্রস্থান করলাম]। দু'একদিন পর বিষয়টি পুনরায় খেয়াল করলাম। না, এবার শেখানোটা পাঁকাপোক্ত করা হচ্ছে; প্রতি দু'টো গালির জন্য একটি চকলেট। এবারও বিষয়টি না দেখার ভান করে প্রস্থান করলাম এবং পরবর্তীতে বিষয়টি ওদের মা-বাবা উভয়কেই জানালাম। জানানোর পর যা বুঝলাম, ওটা কোনো ব্যাপার না। যাই হোক, সপ্তাহখানেক পর মহল্লায় এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করলো অর্থাৎ অনিক সবাইকে গালি দিচ্ছে। আর ওদিকে ওর বড় বোন মুক্তা আড়াল থেকে মুখ টিপে হাসতেছে। মা-বাবাকে বিষয়টি অবগত করার পর কাজ না হওয়ায় আমি/আমরা ওদের এড়িয়ে যেতে লাগলাম; সুফল হিসেবে গালি শুনতে হতো না। এভাবে চলে গেল কয়েক বছর। এরপর একদিন দেখি অনিক ওর মাকে গালি দিচ্ছে। অনিকের মা, অনিককে শাসন করার চেষ্টা করলেন (ওটাকে শাসন না বলে প্রশ্রয় দেওয়া বলা উচিৎ ছিল)কিন্তু কাজ হলোনা। এই ঘটনার কয়েক বছর পর শুনি, অনিক ওর মাকে মারার উদ্দেশ্যে রূখে দাঁড়ায়! কথাটি শুনে বড্ড ব্যথিত হই। তৎখনাথ কিছু না বলে, সমস্ত বিষয়টি কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করি। আশেপাশে প্রতিবেশীরা সবাই অনিকের মায়ের দোষ দেয় এই অর্থে যে তিনি তার ছেলেকে আগে শাসন করেননি। যাইহোক একদিন অনিকের মা আমার কাছে এই বিষয়ে নালিশ করেন যে,"কিছু বললেই ছেলে মারতে আসে।" সব শুনে আমি বললাম,"ভাবী, মনে পড়ে ৬~৭ বছর আগের কথা?" ভাবী শুধু তাকিয়ে থাকে, মুখে কোনো কথা নেই।
এরপর নারী কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে পড়ে অনিক। ভূক্তভোগী মেয়ের মামা স্ব-দলবল নিয়ে অনিকের বাড়িতে আক্রমণ করে। অনিককে বাড়িতে না পেয়ে অনিকের মা-বাবাকে বেদম প্রহার করে, আমার বড়ভাই সে যাত্রায় তাদের উদ্ধার করে।
এরপর গত ৬~৭ মাস আগে পাবজি গেমস্ নিয়ে কিছুএকটা ঝামেলা বাঁধিয়ে ৳৫০০০/- জরিমানা দিয়েছে। এরমাঝে পড়াশোনায় ছাড়া-ছাড়া ভাব চলে এসেছে, করোনা কালে পড়াশোনা নেই বলে ওর পড়াশোনা নামটা এখনো টিকে আছে!
আজকাল শুনতেছি অনিক সিগারেট ছেঁড়ে মাঝেমধ্যে গাঁজা ধরে। বলে রাখা ভাল, অনিকের বাবা কিন্ত কোনো প্রকার নেশার সাথে জড়িত নয়। তিনি দরিদ্র কিন্তু কঠোর পরিশ্রমী।

ঘটনা-২ঃ আমি হাতখরচের টাকার জন্য টিউশনি করি। টিউশনি নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা খুবএকটা ভাল নয়। নিতান্তই বাধ্য হয়েই টিউশনি করি। (এই ৩টি বাক্য আমার লেখার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত না হলে উল্লেখ করতাম না)
ছাত্রকে পড়ানো শুরু করার মাসখানেক পর থেকে মুলত অভিযোগে সূচনা।
অভিযোগ ১ঃ ছেলে/মেয়ে সারাদিন টিভি দেখে, মোবাইল টিপে।
(আমার কথা হচ্ছে) - আপনি কি ঘোড়ার ঘাস কাঁটেন? কথায় কাজ হলে বোঝান নয়তো কষে দুইটা চর মারতে পারেন না? নাকি প্যারালাইসড হয়ে গেছেন?
অভিযোগ ২ঃ ছেলে/মেয়ে আমার কথা শোনে না।
(আমার কথা হচ্ছে) - একদিন শাস্তি দেন। শাসন করেন। নিজে শাসন করতে না পারলে পরিবারের অন্য কাউকে এই দায়িত্ব দেন। আর একটি কথা আমি মেনে নিতেই পারিনা,"ভাত-কাপড় থেকে শুরু করে সম্ভব হলে আকাশের চাঁদটাও এনে দিয়ে দেন।" তারপরেও কেন আপনার সন্তান কথা শুনবে না?
অভিযোগ ৩ঃ আপনার ছাত্রকে আমি পড়তে বসতে বলতে পারবোনা।
(আমার কথা হচ্ছে) - কেন? আপনার ইজ্জত চলে যাবে? নাকি জিহ্বা খোসে পড়বে? (মুখ ফুটে বলতেও পারিনা, "ভাব মারার আর জায়গা পাননা।")

ঘটনা-৩ঃ বর্তমান সময়ের তথাকথিত আধুনিক মায়েরা বাচ্চাগুলারে ঠিকমত কাঁদতেও দেয়না। আ... বলার আগেই মুখে ফিডার নয়তো হাতে মোবাইল গুজে দেন। ফিডার দেন ঠিক আছে কিন্তু মোবাইল কেন? আপনার শিশু মোবাইলে কার্টুন না দেখানে খাবার খেতে চায়না/খায়না। এই বদভ্যাসের জন্য কে দায়ী?
(আমার কথা হচ্ছে) - আপনি দ্বায়ী, এ দ্বায় কিভাবে এড়িয়ে যাবেন? কিছুকিছু বাপ-মা তো এগুলো নিয়ে রীতিমত গর্ব করে। (যত্তসব!)
মোবাইলের মাধ্যমে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ রোধে প্রবাসীদের পত্নীরা এগিয়ে। মোটামুটি 12G গতিতে এগিয়ে। এরা যা বোঝে, আমার-আপনার চৌদ্দগুষ্টিও তার এক-তৃতীয়াংশ বোঝেনা।

[কয়টা লিখবো, এগুলা বলতেও এখন ভাল লাগে না। এগুলো আমার গত ১০ বছরের পর্যবেক্ষণ। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিন্তু নয়, পোলাপাইন পড়াইতে গিয়ে দেখেছি]

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:৩৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আমাদের দেশের অনেক পিতামাতা বুঝে বা না বুঝে বাচ্চার সর্বনাশ করে, পরে পস্তায়।

অভিভাবকরা মনে করে গৃহশিক্ষক নিয়োগ দেয়া মানে তাদের বা বাচ্চার আর কোন দায় দায়িত্ব নাই। সব দায়িত্ব শিক্ষকের। এরা শুধু টাকা খরচ করে বাচ্চাকে শিক্ষিত করতে চায়। কিন্তু কিছু কাজ আছে যেগুলি বাচ্চাকে এবং অভিভাবককে করতে হবে। কিন্তু আমরা করি না। দোষ পরে শিক্ষকের উপরে।

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:৪৯

রিমন সাঁই বলেছেন: আমরা এরকম একটা হিসেব করতে পারি,
গৃহশিক্ষকের সংস্পর্শে ছেলে/মেয়ে থাকে ১ ঘন্টা কিংবা সোয়া ঘন্টা।(এর বেশি নয়)
কিন্তু মা-বাবার কাছে বিশেষভাবে মায়ের সংস্পর্শে ছেলে/মেয়ে থাকে ২৩ ঘন্টা।

তাহলে, অভিভাবকগণ কি ভাবেন? শিক্ষক কি যাদুকর কিংবা অন্যকিছু?

২| ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:৫৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: অভিভাবকরাও পুঁজিবাদী হয়ে গেছে। তারা মনে করে টাকা দিয়ে সব কিছু পাওয়া যায়। অনেক বাচ্চাও মনে করে তার পড়াশুনার চিন্তার জন্য হয় বাবা-মা আছে অথবা শিক্ষক আছে। তার কাজ শুধু পড়ার সময় হাজিরা দেয়া। এদের মধ্যে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি হয় না।

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ৮:০৮

রিমন সাঁই বলেছেন: এমনটিই ঘটতেছে।

বর্তমানে করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষাঙ্গন তো বন্ধ। একদিন ছাত্র পড়াতে গিয়ে দেখি,"ছাত্রের মা "কম্পিউটারে কিছু একটা করতেছেন(সম্ভবত অফিসের কাজ)। আর তার পাশেই আমার গুণধর ছাত্র মোবাইলে উচ্চ ভলিউমে গেমস্ খেলতেছে। অথচ ছাত্রের বাসায় প্রবেশের ১৫ মিনিট পূর্বে আমি ফোনে আমার আসবার কথা নিশ্চিত করি। এবং এটা নিয়মিতই করে থাকি"
এর থেকে আমরা কি বার্তা পাচ্ছি? বুঝেছেন আশাকরি।

৩| ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ ভোর ৬:১৭

কামাল১৮ বলেছেন: মা বাবাই জানে না বাচ্চা কিভাবে মানুষ করতে হয়।বাচ্চার আর দোষ কি।সামাজিক পরিবেশও ভালো না।স্কুলেও যথাযথ শিক্ষা দেওয়া হয় না।শিক্ষার পিছনে খুব কম বরাদ্দ থাকে।

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ৮:০১

রিমন সাঁই বলেছেন: সর্বোপরি, পরিবেশ নষ্ট করতেছে কারা?
- আমরা নিজেরাই করতেছি। কিভাবে? তথাকথিত আধুনিকতার নামে!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.