নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাংলাদেশ আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা...

বাংলাদেশ আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা...

রেজা ঘটক

ছোটগল্প লিখি। গান শুনি। মুভি দেখি। ঘুরে বেড়াই। আর সময় পেলে সিলেকটিভ বই পড়ি।

রেজা ঘটক › বিস্তারিত পোস্টঃ

অমর একুশে বইমেলার ডায়েরি-১৬

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:০০

গতকাল সোমবার ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার ষোড়শতম দিন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে টিএসসি থেকে বইমেলায় ঢোকার সময় এটাকে ঠিক বইমেলা মনে হয় না। বিশাল খাদ্যমেলা মনে করে তারা আবার উদ্যান থেকে বের হয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে চলে যান। সেখানে গিয়ে তারা পরিচিত কোনো বইয়ের স্টল আর খুঁজে পান না।

বইমেলায় নতুন আসা যে কেউই টিএসসি গেট দিয়ে বইমেলায় প্রবেশ করলে এটাকে খাদ্যমেলা ভেবে ভুল করে বসেন। বাংলা একাডেমি এসব নিয়ে চিন্তা করে না। প্রশ্ন হলো বইমেলায় এত খাবারের দোকান কেন প্রয়োজন পড়লো? বারবার আমরা এসব নিয়ে কথা বলার পরেও উদ্যানে বিক্ষিপ্তভাবে এত খাবারের দোকান কীভাবে গড়ে উঠলো? কাদের যোগসাজসে গড়ে উঠলো?

এই প্রশ্নের জবাব যদিও আমরা জানি। ঢাকায় যেভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যাম লাগে। এটাও তাই। ট্রাফিক জ্যাম থেকে পুলিশের বিশাল ইনকাম হয়। হয়তো বাংলা একাডেমি'র কিছু অসাদু কর্মকর্তা আর পুলিশের যৌথ প্রযোজনায় টাকা দিয়ে খাবারের ব্যবসায়ীরা বইমেলার সুনির্দিষ্ট চত্বরের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। যা পুরো বইমেলাকেই কলংকিত করেছে। ফলে বাইরে থেকে ঢোকার সময় এটাকে খাদ্যমেলা ভেবে নতুন আগন্তুকরা ভুল করছেন।

আমরা চাই বইমেলায় প্রবেশের মুখে এসব খাবারের দোকান বাংলা একাডেমি দ্রুত অপসারণ করবে। উদ্যানের একেবারে শেষের দিকে খাবারের দোকান রয়েছে। ওগুলোই বইমেলায় আগত মানুষের জন্য যথেষ্ট। বাংলা একাডেমি যদি এই খাবারের দোকান বসানোর সাথে কোনোভাবে জড়িতও থাকে, তাহলেও এসব দোকান দ্রুত অপসারণ করা হোক। বইমেলাকে বইমেলা হিসেবে ট্রিট করা হোক। মানুষের কাছে ভুল মেসেস যাচ্ছে। সবাই মনে করছে এটা খাদ্যমেলা।

এসব নিয়ে কথা বলতে আর ভালো লাগে না। বইয়ের কথায় আসি। পেন্ডুলাম পাবলিশার্স থেকে প্রকাশ পেয়েছে রাজু আলাউদ্দিন-এর প্রবন্ধের বই 'ভাষার প্রতিভা বিকৃতি ও বিরোধিতা'। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী দেওয়ান আতিকুর রহমান। সহজ ভাষায় কিশোর পাঠক থেকে শুরু করে প্রবীণ পাঠক সকলের জন্যই বইটি পাঠ উপযোগী। বইটিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে অনেক সহজ ভাষায় তুলে ধরেছেন রাজু আলাউদ্দিন। বইটির সূচিতে চোখ রাখলেই আপনি টের পাবেন এই বইটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ।

সূচীপত্র : ১. চর্যাপদের ভাষা, ২. ভাষার প্রতিভা ও সৃষ্টির ডালপালা, ৩. প্রমিত ভাষার প্রয়োজন ও আঞ্চলিক ভাষার ভূমিকা, ৪. প্রমিত ও আঞ্চলিকের বন্ধন, ৫. ভাষার বিকৃতি, ৬.সাধুভাষা এবং ৭.অনুবাদ, ভাষা এবং ভাষাশিক্ষা।

পাঠক সমাবেশ প্রকাশ করেছে টোকন ঠাকুরের কবিতার বই 'ক্যাপ্তেন, গভীর সমুদ্রে চলো'। বইটির বিশেষত্ব হলো বইটিতে এক পৃষ্ঠায় ইলাসট্রেশান আর অন্যপৃষ্ঠায় কবিতা। শিল্পী মাহমুদুর রহমান দীপন ও শিল্পী সাদেক আহমেদের পেন ড্রয়িং দিয়ে বইটির অঙ্গসজ্বা করা হয়েছে। গোটা বইমেলায় এত সুন্দর একটি কবিতার বই দ্বিতীয়টি রয়েছে কিনা সন্দেহ। বইটি স্কয়ার সাইজ। হাতে নিলেই যে কোনো কবিতা পাঠকের মন ভালো হয়ে যাবে নিশ্চিত। কাগজ, বাঁধাই, পেপারব্যাক সবকিছুই চমকপ্রদ।

বইমেলায় আসুন। বাছাই করে ভালো বই কিনুন। ভালো বইয়ের খবর আমাদের জানান। একটি ভালো বই আপনার সারা জীবনের বন্ধু। প্রিয়জনকে বই উপহার দিন। সবাইকে একুশের শুভেচ্ছা।

----------------------
বইমেলা থেকে ফিরে


মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:২০

পদ্মপুকুর বলেছেন: এখন পর্যন্ত মেলাতেই যাইতে পারলাম না, কি আর কমু! শুক্র শনিবারে যাইতে এখন ডর লাগে।

২| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৪৬

রাজীব নুর বলেছেন: শুধু বইমেলায় না, পাড়া মহল্লায়ও এরকম অসংখ্য দোকান। ওদের জন্য সারাদিন লম্বা জ্যাম লেগে থাকে। যদি পুলিশ ওদের কাছ থেকে টাকা না নিতো তাহলে ওড়া বসতো না। অর্থ্যাত পুলিশের জন্য জ্যামটা বেশি লাগে।

৩| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৪৩

ফয়সাল রকি বলেছেন: খাদ্যমেলা নামটা মন্দ না!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.