| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিকেল থেকেই মনটা খুব খারাপ অরশার। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। এই মন খারাপ করা বৃষ্টিতে হাজারও পুরনো স্মৃতি মনের মধ্যে ভিড় করছে। মনে পড়ছে তিন বছর আগের সেই মধুর স্মৃতি এবং তার জীবনে ঘটে যাওয়া এক চরম সত্য। যেই সত্যটা সে আজ ও মেনে নিতে পারেনি। সে যেন ফিরে যায় সেই তিন বছর আগে.....................
-কিরে অরশা তুই এখানে বসে আছিস কেন একা একা? কি হয়েছে তোর? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে রাতুল।
-কিছুনা। ভারী ভারী কণ্ঠে জবাব দেয় অরশা।
-কি হয়েছে বল। তুই না আমার খুব ভাল বন্ধু। আমাকে বলবি না তো কাকে বলবি?
-আমি পরীক্ষায় ফেল করেছি। মা বাবা জানলে খুব কষ্ট পাবেন। আমাকে নিয়ে তাদের অনেক আশা। আর আমি কিনা ফেল করে বসে আছি। কাঁদতে কাঁদতে বলে অরশা।
-এটা কোন ব্যাপার? ফেল তো করতেই পারিস। এতে কান্না করার কি আছে? পাগলী...
-তুই পাশ করেছিস। তুই বুঝবিনা।
-আচ্ছা ঠিক আছে। এখন থেকে আমি তোকে পড়াব। তুই নিশ্চয়ই পাশ করবি।
এরপর থেকে ভার্সিটির ক্লাস শেষে রোজ রাতুল অরশা কে পড়াত। অরশাকে আর ফেল করতে হয়নি। তাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রুপ নেয়। বাবা মাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে অরশা। তাই মা বাবার কাছে সে কিছুই লুকোতে চায়নি। তাই তাদের ভালোবাসার কথা মাকে একদিন বলে দেয় অরশা।
-মা আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।
-বল কি বলবি।
-চল বারান্দায় গিয়ে বসে বলি।
-কি বলবি যে এখানে বলা যাবেনা?
-আহ মা চলনা।
-হুম এখন বল কি বলবি।
-আগে বল তুমি রাগ করবেনা।
-এমন কি বলবি?
-আছে। আগে তুমি বল রাগ করবেনা।
-আচ্ছা করবনা। এখন বল।
-মা আমি আমাদের ক্লাস এর একটি ছেলেকে ভালোবাসি।
-এসব কি বলছিস তুই? অবাক হয়ে বললেন মা।
-হুম আমি ঠিক ই বলছি। মা রাতুল অনেক ভাল ছেলে। তুমি ওর সাথে কথা বললেই বুঝবে।
-দেখ মা তোর উপর আমাদের ভরসা আছে। জানি তুই কখনো বিপথে যাবি না। আমি তোর কথা বিশ্বাস করলাম।
-থ্যাংক ইউ মা। তুমি প্লীজ বাবাকে বুঝাও।
-আচ্ছা আমি দেখছি তোর বাবাকে রাজি করাতে পারি কিনা।
বাবা শুনে একটু রাগারাগি করেন। কিন্তু অরশার মা তাকে বোঝাতেই সে স্বাভাবিক হয়ে যান। তিনি অরশাকে বলেন রাতুলকে তার পরিবার নিয়ে আসতে। রাতুল তার মা বাবাকে বোঝায়। এরপর দুপক্ষের সম্মতিতেই পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়ে যায় অরশা আর রাতুলের। বেশ সুখেই কেটে যায় বিয়ের প্রথম কয়েকটা দিন। অরশার খুব ইচ্ছা কক্সবাজার যাবে রাতুল কে নিয়ে। একদিন সকালে তারা রওনা দিল কক্সবাজার এর উদ্দেশে।
-আমি কখনো সমুদ্র দেখিনি। এবার দেখব তাই খুব খুশি খুশি লাগছে। খুশিতে ঝলমল করতে থাকে অরশার মুখ। রাতুলের খুব ভাল লাগে।
-যদিও আমি আগে দেখেছি। কিন্তু তোমার সাথে এই প্রথমবার দেখব। তাই আমিও ভীষণ খুশি।
বাস চলছিল। রাতুল আর অরশা গল্পে মগ্ন হয়ে ছিল। একসময় অরশা ঘুমিয়ে পড়ে রাতুলের কাঁধে।
হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় অরশার। প্রথমে কিছু বুঝতে পারেনা। একসময় খেয়াল হল সে নিঃশ্বাস নিতে পারছেনা। নাকে মুখে পানি ঢুকে যাচ্ছে। হঠাৎ কে একজন তাকে টেনে পানির উপরে উঠালো। ধাতস্থ হতে কিছুটা সময় লাগলো তার। অবাক হয়ে লক্ষ্য করল সে একটি খাল এর পারে বসে আছে। তাদের বাসটি খালের পানিতে নিমজ্জিত। সে পাগলের মত রাতুলকে খুঁজতে লাগলো। চিৎকার করে ডাকতে লাগলো রাতুলকে। কিন্তু কোথাও পেলনা তাকে। আকাশ থেকে অঝোরে বৃষ্টি ঝরছে। বৃষ্টি ঝরছে অরশার চোখ থেকেও।
আজও অরশা খুঁজে ফিরে রাতুলকে। বৃষ্টি নামলে আরও বেশি মনে পড়ে। অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। কিন্তু তার এই চোখের জল মুছিয়ে দিতে এখন আর কেউ আসবেনা। কেউ না……………
২১ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:৫৯
ডেলোনিক্স রেজিয়া বলেছেন: আমার লেখা প্রথম গল্প ![]()
২|
২১ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ৯:২৪
আশরাফুল ইসলাম দূর্জয় বলেছেন:
বুঝা গেছে। তবে শুরু করছেন এটাই কম কি।
লিখবেন, পড়বেন; লেখা ক্ষুরধার হবে।
বেস্ট অব লাক।
হ্যাপি ব্লগিং।
২৩ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ১২:২৫
ডেলোনিক্স রেজিয়া বলেছেন: ধন্যবাদ
৩|
২১ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ৯:৩৩
প্রোফেসর শঙ্কু বলেছেন: ভাল হয়েছে।
প্রথম গল্পে প্রথম প্লাস টা আমি দিলাম
শুভ হোক ব্লগিং!
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:৫২
আশরাফুল ইসলাম দূর্জয় বলেছেন:
সুইট একটা গল্পের পরিণতিটা করুন।
খারাপ লাগলো।।