| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
১.
শালীর ঝি খারায় না ক্যারে? এতক্ষণ
কেমনে একজন মানুষ বইসা থাকতে
পারে? ভেবে কুল পাচ্ছে না
সীমান্ত। পা ব্যাথা করে না
মাইয়াডার?
লাল সেলোয়ার কামিজ ও লাল উড়না
পড়া মেয়েটা পার্কের বেঞ্জে গত ১
ঘন্টা যাবৎ বসে আছে, এবং তার ঠিক
৩০০ মিটার দুরে একটি বহুতল ভবনের
লাস্ট ফ্লোরে রাইফেলের
টেলিস্কোপ এর দিকে চোখ ফেলে
চেয়ে রয়েছে সীমান্ত।
ধুর সালার গাছটার লেইজ্ঞা নইলে
৩০ মিনিট আগেই কামডা সারতে
পারতাম!
একটা গাছ মেয়েটার শরীর এমনভাবে
আড়াল করে রেখেছে কেবলমাত্র সে
দাড়ালেই তার মাথাটা রেঞ্জে
পাওয়া যাবে।
ক্রিং ক্রিং !
মোবাইল টা হাতে নিতেই ১ আনরিড
মেসেজ।
"জান, আজকে তাড়াতাড়ি অফিস
থেকে বের হয়ে আমাদের বাসায়
এসো। আজকে আমাদের বিয়ের
ব্যাপারে বাবার সাথে তোমার
কথা বলতে হবে "
নিহার মেসেজ।
নিহা হল সীমান্তর প্রেমিকা যাকে
সে নিজের চেয়ে বেশি ভালবাসে।
সম্রাজ্ঞীর হুকুম শিরোধার্য"
মেসেজটা সেন্ড করেই মোবাইলটা
অফ করে দিল সীমান্ত।
নিহাকে সে প্রচণ্ড ভালবাসে, এমনকি
তার জন্য সে এই কাজ শেষ বারের মত
করতে যাচ্ছে। এই কাজের টাকাটা ঘুষ
হিসেবে দিয়ে একটা সরকারি
অফিসে কাজ নিতে চাচ্ছে সে।
এমন সময়ে লাল সেলোয়ারের উড়না
পড়া মেয়েটা উঠে দাড়াল। মাথাটা
রেঞ্জে আসতেই শুভকাজে দেরী
করতে নেই, ভেবে ট্রিগারটা চেপে
দিল সীমান্ত।
মেয়েটাকে পড়ে যেতে দেখে
একধরণের বুনো উল্লাস জেগে উঠল তার
মধ্যে। ঠিক তখনি মেয়েটার চেহারার
দিকে চোখ পড়ল সীমান্তর। সাথে
সাথে যেন পাহাড় ভেঙ্গে পড়ল তার
উপর।
নিজ হাতেই নিহাকে খুন করেছে সে!
২.
ভ্রু কুচকে নিজের চেয়ার এ বসে,
সামনের লোকটার দিকে তাকিয়ে
আছেন ওসি মিরাজ সাহেব। তো,
আপনি বলতে চাচ্ছেন আপনার
ভাই সীমান্ত, তার নিজের প্রেমিকা
নিহাকে খুন করেছে!
জী, হ্যা। আসলে সীমান্তর একটা রোগ
আছে,
সে তার চারপাশের সবাইকে সন্দেহ
করে। এই সন্দেহর কারণে সে
ছোটখাটো সমস্যার মুখামুখি হলেও
আজকে সে শুধুমাত্র সন্দেহর বশে
নিহাকে খুন করে ফেলেছে।
কথাগুলো বলে রুমাল দিয়ে ঘাম মুছলেন
হাসান সাহেব।
সে আপনার ভাই তারপরেও আপনি
তাকে ধরিয়ে দিতে চাচ্ছেন কেন?
স্যার, আমি তাকে ধরিয়ে দিচ্ছিনা,
আমি তাকে বরং বাচাতে চাচ্ছি,
এখন যদি আমি তাকে আমার ভাই বলে
তার অপরাধ লুকিয়ে রাখি তাহলে সে
ভবিষ্যৎ এ আরো অনেক বড় অপরাধ করবে
এবং একদিন তাকে বিচারের সম্মুখীন
হতে হবেই। তাই আমি আপনাকে এসব
খুলে বললাম।
আপনার ভাই এখন কোথায় আছে?
তাকে আমি বাসায় আটকে রেখেছি।
সে নিহাকে খুন করার পর অনেক
ভায়োলেন্ট হয়ে গেছে তাই তাকে
তালা দিয়ে এসেছি।
চলুন আপনার ভাইকে দেখে আসা যাক।
হাসান সাহেবের বাড়িটা বেশ বড়ই
অনেক টাকা পয়সা আছে বলতে হবে!
ধীরে ধীরে দরজাটা খুললেন হাসান
সাহেব।
ভিতরে আসুন, এই রুমটাতে সীমান্তকে
বেধে রেখেছি।
সামনের তালামারা একটা রুমের
দিকে আংগুল দেখিয়ে বললেন হাসান
সাহেব।
চাবিটা দেন তো আমাকে।
আস্তে আস্তে দরজাটা খুললেন মিরাজ
সাহেব। বেশ বড় সড় একটা রুমে ঢুকলেন
মিরাজ সাহেব।
অই যে অইদিকে বেধে রেখেছি
সীমান্ত কে। হাসান সাহেবের দিক
করা জায়গায় তাকানো মাত্র হা হয়ে
গেল মিরাজ সাহেবের মুখটা।
একটা চেয়ারকে দড়ি দিয়ে বেধে
রাখা হয়েছে, এবং উল্লেখযোগ্য হল
চেয়ারটা খালি!
৩.
বলেন আপনার সমস্যা কি?
আমি একটা খুন করেছি!
কি খুন করেছেন!
ভ্রু কুচকে উঠলো এসপি আজাদ
সাহেবের।
এতদিন ভাবতেন খুন করে
এসে আত্মসমর্পন করা শুধুমাত্র
সিনেমাতেই সম্ভব, এ রকম কিছু যে
বাস্তব হতে পারে এ বিষয়ে কোন
ধারনাই ছিল না তার।
আপনি কি বলতে চাচ্ছেন খুলে বলুন।
নিজের সকল কাহিনী খুলে বলল
সীমান্ত , খুলে বলল নিহাকে খুনের
কথা ও।
সব শুনে তার এসিস্ট্যান্ট কে ডেকে
সীমান্তর ব্যাপারে খোজ নিতে
বললেন তিনি। কিছুক্ষণ পর এসিস্ট্যন্ট যা
জানাল তা শুনে একদম তন্দা খেয়ে
গেলেন আজাদ সাহেব।
দেরী না
করেই ফোন করলেন তার কলেজের বন্ধু
দেশের বিখ্যাত সাইকোলজিস্ট অরণ্য
মাহমুদ কে।
৪.
অরণ্য মাহমুদ দেশের অন্যতম সেরা একজন
সাইকোলজিস্ট এই মুহুর্তে তার
চেম্বারে বসে এক তরুনের দিকে
তীক্ষ্ণ ভাবে তাকিয়ে আছেন।
আমি আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করব,
সবগুলার ঠিক ঠিক জবাব দিবেন।
ওকে স্যার।
-নাম?
-সীমান্ত
-বয়স?
-২৫
-পেশা?
-বেকার
-রক্তের গ্রুপ?
-AB+
-এই লোকটাকে চিনেন?
-এটাত আমার ছবি!
-না, এটা আপনার ভাই হাসান
সাহেবের ছবি।
-না, আমার কোন ভাই নেই,আর এটা
আমার ছবি।
-আচ্ছা আপনি শান্ত হন। আচ্ছা দেখেন
এনাকে চিনেন?
পুলিশ এর ইউনিফর্ম পড়া একটা ছবি
বাড়িয়ে দিয়ে বললেন অরণ্য সাহেব।
নাহ, এর মাথাটা অস্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে
না।
-এনি মিরাজ সাহেব।
-তো, এর ছবি আমাকে দেখানোর
মানে কি?
-কারন আপনিই মিরাজ, আপনিই হাসান
আবার আপনিই সীমান্ত।
বলেই পুলিশের ইউনিফর্ম পড়া আরেকটা
ছবি এগিয়ে দিলেন তিনি।
আশ্চর্যের সহিত সীমান্ত লক্ষ করলো
চেহারাটা তার।
না এ হতে পারেনা, বিড়বিড় করতে
থাকল সীমান্ত উরফে হাসান উরফে
মিরাজ।
৫.
স্যার এরপর কি হয়েছিল।
জিজ্ঞাসা করল এক কৌতুহলী স্টুডেন্ট ।
চিকিৎসক ছাড়াও মেডিকেল এ
সাইকোলজির ক্লাস নেন, অরণ্য মাহমুদ
সাহেব।
এরপর আর কি, সে আমাদের
কাস্টাডিতে আছে, এবং তার
চিকিৎসা চলছে।
স্যার তার এই সাইকোলজিক্যাল
প্রব্লেম হবার কারন টা কি?
মিরাজ সাহেবেরা তিন ভাই ছিলেন
খুব ছোট বেলা মিরাজ সাহেবের এক
ছোট ভাই হাসান মারা যায় যা
মিরাজ সাহেবের মনে আঘাত হানে।
এর পরে তার ভিতরে জন্ম নেয়
হাসানের, কিন্তু সেটা আর বড় হয় নি,
কিন্তু যখন তার ছোট ভাই সীমান্তর
প্রেমিকা হত্যা মামলায় ফাসি হয় তখন
তার মধ্যে জন্ম নেয় সীমান্তর এবং সুপ্ত
হাসান জাগ্রত হয়ে উঠে! বাকিটা
তো তোমাদের আগেই বললাম৷
তাহলে কি মিরাজ আর হাসান সাহেব
এর দেখা করাটা কল্পনা!
হ্যা পুরোটাই কল্পনা।
বলে ক্লাসটা শেষ করলেন অরণ্য মাহমুদ।
২|
১৩ ই মে, ২০১৫ রাত ২:০২
প্রোফেসর শঙ্কু বলেছেন: এরকম একটা গল্প পড়েছিলাম কদিন আগে। ভালই হয়েছে।
৩|
১৩ ই মে, ২০১৫ রাত ৩:৪২
স্যার অ্যালান কোয়াটারমেইন বলেছেন: ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই মে, ২০১৫ সকাল ৮:০০
কেএসরথি বলেছেন: আর একটু চরিত্র গুলোকে বড় করা দরকার ছিল। কিন্ত আপনার ভাবনা ঠিকই আছে।