| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
আজ সকালে হোটেলে নাস্তা করেছি।
ইচ্ছা ছিলো ঘুম থেকে উঠবো ১২ টায়। কিন্তু এক ছাগলে অকারণে ফোন করে ঘুমটা নষ্ট করে দিয়েছে। রাতে যে মোবাইলের সাউন্ড বন্ধ করে ঘুমাবো, সেটা ভুলে গিয়েছিলাম। সকাল ৭ টায় এক ছাগলে ফোন দিলো। আমার ঘুম একবার ভেঙে গেলে, আর আসে না। আমার ঘুমের প্রয়োজন আছে। গড়ে রাতে ৫ ঘন্টার বেশি ঘুমাতে পারি না। একজন মানুষের ৭/৮ ঘন্টা ঘুমানো দরকার। খাওয়া ঘুম মানুষের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অগত্যা ফ্রেশ হয়ে বাইরে গেলাম।
রেস্টুরেন্টে গেলাম। রেস্টুরেন্ট ভরা লোকজন। হইচই প্রচন্ড। নেহারি নিলাম। স্বাদ ভালো নয়। রুটি দিয়ে নেহারি খেলাম। শেষে চা। চায়ের মানও ভালো নয়। নেহারি নিয়েছে ১৭০ টাকা। দুটা রুটি ৩০ টাকা। চা এক কাপ ত্রিশ টাকা। ওয়েটারকে দিলাম বিশ টাকা। সব মিলিয়ে ২৫০ টাকা। ছোট বেলা নাস্তা করতে লাগতো ১৫ টাকা। একটা রুটি ছিলো ২ টাকা। এরপর দুই টাকা থেকে হয়ে গেলো ৫ টাকা। এখন ১৫ টাকা। সব যুগেই জিনিসপত্রের দাম বাড়তির দিকে থাকে। একটা বেনসন সিগারেট হয়ে গেছে ২৩ টাকা!
বাইরে বের হয়ে একটা বেনসন সিগারেট ধরালাম।
আকাশের অবস্থা শরৎ কালের মতোন হয়েছে। এই রোদ, এই মেঘ! আগের বর্ষাকাল এখন আর নেই। সব কিছুর মধ্যে ঘাপলা। আজ আমার কোনো কাজ নেই। সুরভি মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গেছে। ফিরতে ফিরতে দুপুর একটা বেজে যাবে। মেয়ের জন্য ফল কিনতে হবে। এখন আপেলের কেজি ৪২০ টাকা। কিছুদিন আগেও ২৮০ টাকা ছিলো। মেয়ে বাসায় ফিরেই বলবে, বাবা আজ তুমি আমাকে গোছল করিয়ে দিবে। এবং বিকেলে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাবে। মেয়ের ঘুরা মানে, তাকে কিছু কিনে দিতে হবে। শেষে বাসায় ফেরার পথে তাকে বড় রেস্টুরেন্টে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে সে তার পছন্দ মতো খাবার অর্ডার দিবে।
আমার পরিচিত একজন সকালে নাস্তা করেন চা বিস্কুট।
উনি অনেক ভোরে অফিসে আসেন। চা বিস্কুটে আমার পোষাবে না। আমার দরকার ভারী খাবার। বুদ্ধিমান এবং সৃষ্টিশীল মানুষদের ক্ষুধা কম লাগে। আমি বুদ্ধিমান ও সৃষ্টিশীল নই। ক্ষুধা পেলে আমার মেজাজ খারাপ থাকে। মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলি। পেট ভরা থাকলে মেজাজ ভালো থাকে। এজন্য আমার যথাসময়ে নাস্তা করা প্রয়োজন। তবে আজকাল আমার কি হয়েছে, ক্ষুধা লাগে না। কিছুই খেতে ইচ্ছে করে না। অনুভব করছি ওজন কমানো দরকার। ডায়বেটিস আছে। ডায়বেটিসের ভয়ে আজকাল কোনো কিছু খেতেও ভয় করে। ফ্রিজ ভরতি চকলেট, খেতে পারি না।
মূলত আমি ছোট বেলা থেকেই হোটেলে নাস্তা করি।
বাসায় নাস্তা খাওয়া হয় না। কেন জানি ঘরের চেয়ে হোটেলের নাস্তাই বেশি ভালো লাগে। সুরভি আবার বাইরের নাস্তা খেতে পারে না। ঘরে নাস্তা করলেও আমি আবার বাইরে গিয়ে নাস্তা করি। ঢাকা শহরের কোন রেস্টুরেন্টের খাবারের স্বাদ কেমন সেটা আমি জানি। মাঝে মাঝে সুরভিকে খুশি করার জন্য ঘরে নাস্তা করি। সে আফগানি পরোটা বানায়। এই পরোটা একটা খেতে পারলে, দুপুরে আর কিছু না খেলেও চলবে।
০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬
রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। সুন্দর মন্তব্য করছেন।
ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।
২|
০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩০
ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা বলেছেন: পেট ভরা থাকলে মেজাজ ভালো থাকে"—আপনার এই দর্শনের সাথে আমি ১০০ ভাগ একমত! ক্ষুধা পেলেই মেজাজ খিটখিটে হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। সকালের ঘুম নষ্ট হওয়া আর চড়া দামে বাজে নেহারি খাওয়ার দুঃখটা আহারে! তবে মেয়ের সাথে আপনার সুন্দর সময় কাটানোর পরিকল্পনা পড়ে খুব ভালো লাগলো। আর হ্যাঁ, ভাবীর বানানো স্পেশাল আফগানি পরোটা একদিন খাওয়ার দাওয়াত পাওনা রইলো!
০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯
রাজীব নুর বলেছেন: ওকে ওকে।
৩|
০২ রা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: খেতে থাকুন ..
০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০
রাজীব নুর বলেছেন: খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি।
৪|
০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২
এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে একটু সংযমী হোন। অতিরিক্ত খেলে শুধু পেটই বাড়ে না, নানা ধরনের রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাবার বেছে নেওয়াটাও আজকাল খুব জরুরি। কারণ অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁয় কী দিয়ে কী তৈরি করা হয়, নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাও কঠিন।
তবে পুরান ঢাকার নেহারির কথা আলাদা। সেই ঐতিহ্যবাহী স্বাদ এখনো মন ভরিয়ে দেয়।
একদিন সময় করে চলে আসুন, পুরান ঢাকার আসল নেহারি আমি নিজেই খাওয়াবো।
০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪২
রাজীব নুর বলেছেন: হ্যা আসবো।
পুরান ঢাকায় অনেক এলাকায় আমি প্রায়ই যাই। কলতাবাজার এবং গেন্ডারিয়ায় আমি নিয়মিত যাই।
৫|
০২ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:২৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ঘরের চেয়ে হোটেলের নাস্তাই বেশি ভালো লাগে।
.............................................................................
ঘরে যদি প্রতিদিন একই রকম নাস্তা বানায় তাহলে খারাপ
লাগবেই । আমি নিজে প্রয়োজনে সকালে নানান রকম নাস্তা
বানাতে পারি এবং কারো জন্য অপেক্ষা না করে ক্ষুধা পেলে খেয়ে নেই ।
...............................................................................................
সাধারন হোটেলের নাস্তা বা তৈলে সমস্যা থাকতে পারে, যা আমার
সহ্য হয়না ।
০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫
রাজীব নুর বলেছেন: কেন আপনার সহ্য হয় না? লোহা খেয়ে হজম করে ফেলতে হবে।
৬|
০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:৫৮
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
আপনি বড় লোক মানুষ।
ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি -
বড় লোকের বিরাট কারবার।
০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২
রাজীব নুর বলেছেন: আমি বড় লোক নই।
দুটো ডাল ভাত খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি বড় ভাই।
৭|
০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫১
কালো যাদুকর বলেছেন: আমিও আজ রেস্টুরেন্টে নাস্তা করেছি।
০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮
রাজীব নুর বলেছেন: চিমটি।
৮|
০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩
আফলাতুন হায়দার চৌধুরী বলেছেন: আপনার লেখাটা পড়তে খুব ভালো লেগেছে। অনেকদিন গ্যাপের পর একটু আধটু ঢু মারছি। আপনাদের ছবিটা অসাধারণ। শুভ কামনা রইলো।
০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১১
রাজীব নুর বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।
৯|
২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
আজকাল আমি সকালের নাস্তা মোহাম্মদপুর টাউনহলের জান্নাত হোটেলে করছি।
সেই হোটেলের নেহারি খুবই উপাদেয়।
গুরু কলিজা ভুনাও বেশ।
২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:২৭
রাজীব নুর বলেছেন: একদিন সকালে চলে আসবো।
নাস্তা করাতে হবে।
নেহারি আমার পছন্দ।
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:২৫
সুব্রত দত্ত বলেছেন: দীর্ঘদিন পর এখানে এসে প্রথমেই আপনার পোস্ট পেলাম ভাই। সঙ্গে ছবিটা ফ্রি। আমাকে চিনবেন না হয়তো। এখানে যুক্ত হওয়ার প্রথম থেকে আপনার পোস্ট দেখছি, আপনিও আমার কিছু লেখার কমেন্ট করেছেন। আজকের আপনার লেখাটা পড়লাম। কিছুটা হতাশাব্যঞ্জক টোন থাকলেও আপনার লেখার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক সম্ভবত নির্লিপ্ততা এবং নিজস্ব রায়-প্রদানের প্রবণতার অনুপস্থিতি। একজন শক্তিশালী গদ্যশিল্পীর সম্ভবত বড় গুণ এই দুটো। জানি না আপনি লেখক হিসেবে কতটুকু প্রতিষ্ঠিত কিংবা কোনো বইপত্র প্রকাশ করেছেন কিনা- তবে আপনার লেখা দারুণ। শুভ কামনা।
আর লেখা সম্পর্কে একটা বক্তব্য আমার কাছে ঢাকা শহরের সকালের নাস্তা সব জায়গায় একই রকম লাগে। খাবারগুলোকেও মনে হয় প্রবল বিরক্তি নিয়ে তারা জন্মেছে আমাদের পেটে ঢোকার অপেক্ষায়।