নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাস্তবতা নিয়ে কথা বলতে চাই।

সৈয়দ মশিউর রহমান

লিখতে চাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে। রাজনীতি,সাংস্কৃতিক বা ধর্মের ব্যাপারে মতামতের ভিন্নতা থাকা সত্বেও মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে আক্রমনাত্বক বা উষ্কানীমূলক কিছু না লিখে সকলের সহনশীলতার পরিচয়ই লেখার উৎকর্ষ সাধনের একমাত্র হাতিয়ার।যদিও লেখার হাত পাকা না। বাংলা মাতৃভাষা হলেও বানানে হয় অনেক ভুল। তার পরেও চেষ্টা করছি কিছু লেখার। সত্য বলার মতো সাহসী লোকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এখন দেখি সবাই দু\'ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেউ আওয়ামী লীগ কেউবা বিএনপি। সঙ্গত কারণেই লেখা হয়ে উঠে আওয়ামী পন্থী অথবা বিএনপি পন্থী।পন্থী নিয়ে লিখতে লিখতে আমরা মূল স্রোতধারা থেকে ছিটকে পড়ছি। কি লিখছি বোঝাই দায়। মনে হয় কোন দলকে গালি দিচ্ছি।

সৈয়দ মশিউর রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা. জাল রতন প্যাটেল এবং ডা. জাল দায়েবু জিন্নাহকে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে তিনি তখনকার মরণব্যাধি যক্ষ্মা রোগে ভয়ংকরভাবে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সম্ভবত একেবারেই জীবনের শেষ লগ্নে পৌঁছে গেছেন। ডাক্তাররা আশঙ্কা করলেন, যেকোনো সময় তার জীবনাবসান ঘটে যেতে পারে। সে সময় ভারতীয় মুসলমানদের ১৯০ বছরের গোলামির অবসান হয়ে তাদের জন্য পৃথক স্বাধীন আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার ত্রিপক্ষীয় (ব্রিটিশ কলোনিয়াল শাসক, মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেস) দর-কষাকষি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। সেই দর-কষাকষিতে মুসলমানদের পক্ষে জিন্নাহ প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। মুসলিম লীগের নেতাদের মধ্যে একমাত্র তাকেই ভারতীয় কংগ্রেস এবং ব্রিটিশরা সমীহ করতেন। জিন্নাহর মারাত্মক অসুস্থতার খবর কলোনিয়াল শাসক এবং কংগ্রেস জানতে পারলে উপমহাদেশের মুসলমানদের মুক্তি বাধাগ্রস্ত হতে পারে ধারণা করে জিন্নাহ দুই ডাক্তারকেই অসুখের বিষয়টি গোপন রাখতে অনুরোধ করলেন। উভয় ডাক্তার তার মৃত্যু পর্যন্ত সেই অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন।

আমাদের পিতা ও পিতামহরা ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন উপমহাদেশের শেষ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক পন্থায় রীতিমতো ভোট দিয়ে মুসলমানপ্রধান পূর্ববঙ্গকে স্বাধীন পাকিস্তানের অংশ বানিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ পূর্ববঙ্গে প্রায় সবকটি আসনে জয়লাভ করেছিল। ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারত এবং পাকিস্তান আমলের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সম্পাদক এবং লেখক আবুল মনসুর আহমেদ তার রাজনৈতিক ক্ল্যাসিক ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ বইতে পাকিস্তান সৃষ্টি সম্পর্কে লিখেছেন, ‘ইসলাম রক্ষার জন্য পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দরকার ছিল না। ভারতীয় মুসলমানদের রক্ষার জন্যই এর দরকার ছিল। এখানে ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম জাতির স্বার্থের পার্থক্য বুঝিতে হইবে। ইসলাম ধর্মকে দুনিয়ায় টিকাইয়া রাখিতে রাষ্ট্রশক্তির দরকার, একথা যাঁরা বলেন, তাঁরা ইসলামকে ধর্ম হিসাবে ছোট করিয়া দেখেন। ইসলাম ধর্ম হিসাবে নিজের জোরেই বিশ্ব-জগতে প্রচারিত হইয়াছে এবং আজও হইতেছে। নিজের জোরে চিরকাল বাঁচিয়াও থকিবে। অতএব, ইসলাম ধর্ম নয়, ভারতীয় মুসলমানদের রক্ষার জন্যই পাকিস্তানের সৃষ্টি।’ একই বইয়ে আবুল মনসুর আহমেদ আরেক জায়গায় পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে নিজের দেওয়া এক বক্তৃতা উদ্ধৃত করে লিখেছেন, ‘প্রথমতঃ আমি বলিয়াছিলাম, পাকিস্তান দাবিটা প্রধানতঃ কালচারাল অটোনমির দাবি। বলিয়াছিলাম, রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার চেয়েও কালচারাল অটোনমি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই দিক হইতে পাকিস্তান দাবি শুধু মুসলমানের সাম্প্রদায়িক দাবি নয় এটা গোটা ভারতের কালচারাল মাইনরিটির জাতীয় দাবি।’

আজকের কট্টর হিন্দুত্ববাদী ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের জীবনধারণের মর্মান্তিক চেষ্টা দেখে যেকোনো চিন্তাশীল মানুষ নিশ্চয়ই আবুল মনসুর আহমেদের সেদিনের লেখার যৌক্তিকতা স্বীকার করবেন। আবুল মনসুর আহমেদ পাকিস্তান সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই শেরে বাংলার কৃষক প্রজা পার্টি ছেড়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্ব মেনে নিয়ে মুসলিম লীগে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৪৬ সালেই জিন্নাহ যক্ষ্মা রোগে মারা গেলে এবং সেদিন পাকিস্তান আন্দোলন সফল না হলে আজকের বাংলাদেশের মুসলমানদের কথিত অখণ্ড হিন্দু ভারতে কী অবস্থা হতো, সেটা বোঝার জন্য বিজেপির শাসনে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের দিকে তাকালেই চলবে।

আজ ভারতের মুসলিমরা একজন জিন্নাহকে খুঁজছে। চলবে........

সূত্র শেষ পর্বে দেওয়া থাকবে।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

রাসেল বলেছেন: ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনে ধর্মীয় বিভাজন, রাজনৈতিক স্বার্থ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষকে কচুকাটা হতে হয়েছে; অসংখ্য মানুষ হারিয়েছেন ভিটেমাটি। এই ইতিহাসে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ও মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর রাজনৈতিক বিরোধ, মতপার্থক্য এবং তৎকালীন বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হওয়া প্রয়োজন।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৪

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: পরে চেষ্টা করে দেখবো লিখতে পারি কি না?

২| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৪০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জিন্নাহ কে জেনে কি লাভ ?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.