| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
১।
আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটা
কালো বিড়াল দেখলো সাফিন।
কালো বিড়াল নাকি অশুভ কিছুর
লক্ষণ, দিনটা কি খারাপ যাবে
নাকি!
তবে ভাবার বিষয় হল তাদের এই
আলিশান বাংলো তে বিড়াল এলো
কিভাবে?
এনিয়ে ভাবার আগেই সাফিনের
মোবাইল বেজে উঠল।
নীলার মেসেজ!
নীলাকে কালকে প্রপোজ করেছিল সাফিন, একদিন সময় চেয়েছিল নীলা এবং সাফিনও খুশিমনে সময় দিল তাকে।
আজকে কি এটার উত্তর দিল নাকি?
ভাবতে ভাবতে মেসেজটা খুলল সাফিন।
'The answer is yes '
নীলার এই মেসেজটা দেখে খুশিতে মনটা ভরে গেল সাফিনের।
জীবনে অনেক মেয়ের সাথে ভালোবাসার নাটক করলেও নীলাকে সত্যিকারের ভালোবেসেছে সে।
কালো বিড়াল তো আমার জন্য শুভ হল, এবং আজকে ১৩ তারিখ সেটাও তো দেখছি শুভ হলো আমার জন্য, ভাবলো সাফিন।
২।
সেদিন দুপুরবেলা।
নীলার ভার্সিটির সামনে দারিয়ে আছে সাফিন।
আসছে না কেন এই মেয়েটা, ক্লাস শেষ হয়েছে তো আরো ১৫ মিনিট হয়েছে!!!
ভার্সিটির ভেতরে ডুকবে কিনা ভাবছে, এমন সময় নীলাকে ভার্সিটির গেটের পাশে দেখতে পেল সাফিন।
পিছনে কয়েকটা ছেলে টিজ করছে তাকে।
সাফিনকে দেখেই দৌড়ে এসে কাঁদতে লাগল নীলা।
এমনিতেই নীলাকে টিজ করতে দেখে মাথা গরম হয়ে গেছিল সাফিনের, আবার নীলার কান্না দেখে নিজেকে আর থামাতে পারলনা। সামনে গিয়ে লিডারের মত দেখতে ছেলেটাকে চড় মেরে বসল।
সাথে সাথেই আশেপাশের ছেলেগুলা উঠে সাফিনকে ঘিরে ধরল।
৬ জনের বিরুদ্ধে একজন, শুধুমাত্র সিনেমাতেই জিততে পারে বাস্তবে না-এর বাস্তবিক প্রমান পেল সাফিন।
তার দু-একটা ঘুসি-লাথি সুদ সহ ফেরত দিচ্ছে তারা।
ফলাফল, ১ মিনিটের মদ্ধে ধরাশায়ী হল সে, এবং জ্ঞান হারাল।
জ্ঞান থাকলে হয়ত দেখতে পেত সেখান দিয়েও হেটে যাচ্ছে একটা কালো বিড়াল।
৩।
জ্ঞান ফিরতেই একটা বদ্ধ ঘরে নিজেকে শয়নরত অবস্থায় পেল সাফিন।
এই ঘরে সে আগে এসেছিলো মনে হচ্ছে, কিন্তু জায়গাটা চিনতে পারছে না।
'আমি এখানে এলাম কি করে!,
নীলা কই? '
এসব চিন্তা এসে আকড়ে ধরল সাফিনকে।
এমন সময় নীলাকে ঘরটাতে ডুকতে দেখল সাফিন।
-কি সাফিন সাহেব, জ্ঞান ফিরলো তাহলে।
এই মার খেয়ে আমার তো মনে হয়েছিল আপনার জ্ঞান আজকে ফিরবেই না।
-তুমি এভাবে কথা বলছ কেন?
-এখনো বুঝতে পারছেন না!!! এই ঘরটার কথা মনে পরে???
এতক্ষণ এই ঘরটাকে চেনা চেনা লাগছিলো সাফিনের কাছে, নীলার কথা শুনে একটু ভাবতেই চিনতে পারল,
আরে এটা তো নিধিদের বাসা।
সেই নিধি যাকে সাফিন পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে।কিন্তু নীলা নিধির ব্যাপারে জানল কিভাবে?
-তুমি কে??, তুমি নিধির বোন নাকি?
-আমিই নিধি।
-তুমি নিধি হতে পারো না, নিধিকে আমি...
কথা বন্ধ করে দিলো সাফিন।
-কি হল, বলেন আপনি আমাকে কি করেছেন?
-নিধিকে আমি নিজ হাতে খুন করেছি।
-কই, আমি তো বেচেই আছি।
-তুমি নিধি না, আমি নিধিকে পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছি।
-হ্যা, তুমি পাহাড় থেকে আমাকে ধাক্কা দিয়েছিলে কিন্তু আমি মরিনি, তাতো দেখতেই পাচ্ছো আমি নতুন চেহারা নিয়ে ফিরে এসেছি, তোমার উপর প্রতিশোধ নিতে।
পালানোর জন্য বিছানা থেকে উঠার চেষ্টা করতেই বিস্ময়ের সাথে সাফিন লক্ষ্য করল, তার হাত-পা সে নাড়াতে পাচ্ছে না। এবং সেগুলা বিছানার সাথে শক্ত করে বাধা।
এবং আরো দেখতে পেল জানালা দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে সেই কালো বিড়ালটা।
৪।
-স্যার আমাদের মিশন সফল হয়েছে হয়েছে,সাফিন তার অপরাধ স্বীকার করেছে।
-ধন্যবাদ নীলা, তোমার অভিনয় সুন্দর হয়েছে। আজ তোমার জন্য আমরা এই ভয়ংকর অপরাধী সাফিনকে প্রমানসহ ধরতে পারলাম।
-আপনাকেও ধন্যবাদ, স্যার আমাকে এই কাজটা করার সুযোগ দেয়ার জন্য।
'যাক অবশেষে এই সাফিনকে ধরা গেল',
নিজের কালো বিড়ালটাকে আদর করতে করতে ভাবল জেনারেল আহসানুল হক।
জেনারেল আহসানুল হক (অবঃ) একটি সিক্রেট এজেন্সি চালান যেটা আইনের চোখ ফাকি দিয়ে অপরাধ করে এমন অপরাধী দেরকে প্রমানসহ আটক করে।
সাফিন তাদের অন্যতম শিকার!!!
এই সাফিনকে ধরার জন্য গত ১ মাস জাল বিছিয়ে রেখেছিলেন তিনি, আজ তার ফলাফল পেলেন।
©somewhere in net ltd.