| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নবী-রসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম সম্পর্কে বক্তব্যঃ
(১) নবীপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কেঃ
“আল্লাহ তা’য়ালার নিকট কাতর কন্ঠে এই আবেদন করুন, যে কাজের দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছিল, তা সম্পন্ন করার ব্যাপারে আপনার দ্বারা যে ভুল ত্রুটি হয়েছে কিংবা তাতে যে অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে তা যেন তিনি ক্ষমা করে দেন।” [তাফহিমুল কোরআন (বাংলা), ১৯শ খন্ড, ২৮০ পৃষ্ঠা, ওরিয়েন্টাল প্রেস, ঢাকা, ১৯৮০ ইং]
“মহানবী (স.) মানবিক দূর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না। অর্থাৎ তিনি মানবিক দূর্বলতার বশীভূত হয়ে গুনাহ করেছিলেন।” [তরজমানুল কোরআন, ৮৫তম সংখ্যা, ২৩০ পৃষ্ঠা]
“মহানবী (স.) নিজে মনগড়া কথা বলেছেন এবং নিজের কথায় নিজেই সন্দেহ পোষণ করেছেন।” [তরজমানুল কোরআন, রবিউল আউয়াল সংখ্যা, ১৩৬৫ হিজরী]
“মহানবী (দঃ) তের বছর পর্যন্ত আরবের লোকদের মধ্যে ইসলামের মৌখিক ওয়াজ ও দাওয়াতের সর্বাতœক প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর শেষে যখন অস্ত্র ধারণ করেছিলেন তখন মানুষের মন আপনা-আপনি সত্য গ্রহণের জন্য বিগলিত ও ইসলামে শামিল হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল।” [ আল জিহাদ ফিল ইসলাম, ১৭৩-১৭৪ পৃষ্ঠা, ২০০২ ইং]
দাজ্জাল সম্পর্কিত হাদীছ শরীফগুলোর আলোচনা প্রসঙ্গে সে বলেছে, “এ সম্পর্কে যেসব কথা হুজুরের নিকট থেকে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, মূলত এগুলো ছিল তাঁর অনুমান (কিয়াস)। এসব সম্পর্কে তিনি নিজেও সন্দিগ্ন ছিলেন। এসব কথা তিনি ওহী লাভের ভিত্তিতে বলেন নি,বরং অনুমান করে বলেছিলেন। ........” [রাসায়েল ও মাসায়েল, ৫৫-৫৬ পৃষ্ঠা]
(২) হযরত আদম আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ
“হযরত আদম (আঃ) মানবিক দূর্বলতায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি শয়তানী প্রলোভন হতে সৃষ্ট তড়িৎ জযবায় আত্মভোলা হয়ে নিজ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেন। ফলে আনুগত্যের উচ্চ শিখর হতে নাফরমানীর অতল গহ্বরে গিয়ে পড়েন।” [তাফহিমুল কোরআন, ৩য় খন্ড, ১৩৩ পৃষ্ঠা]
(৩) হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ
“হযরত দাউদ (আ.) এর কাজের মধ্যে নফস ও আভ্যন্তরীণ কুপ্রবৃত্তির কিছুটা দখল ছিল। অনুরূপভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের সাথেও তার কিছুটা সম্পর্ক ছিল। আর তা ছিল এমন ধরনের কাজ, যা হক পন্থায় শাসনকারী কোন মানুষের পক্ষেই শোভা পায়না।” [তাফহিমুল কোর আন, ৪র্থ খন্ড,৩৭২ পৃষ্ঠা, অক্টোবর ১৯৬৬ ইং]
“ উরইয়ার স্ত্রীর ব্যাপারটির মূলতত্ত্ব শুধু এতটুকু ছিলো যে, হযরত দাউদ (আ.) সমকালীন ইসরাঈলী সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উরইয়ার নিকট তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার অনুরোঢ করেছিলেন।।...............” [তাফহিমাত, ২য় সংস্করণ, ২য় খন্ড, ৪২ পৃষ্ঠা]
(৪) হযরত নূহ আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ
“হযরত নূহ (আ.) চিন্তাধারার দিক থেকে দ্বীনের চাহিদা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তার মধ্যে জাহিলিয়াতের জযবা স্থান পেয়েছিলেন।” [ তাফহিমুল কোরআন, ৩য় সংস্করণ, ২য় খন্ড, ৩৪৪ পৃষ্ঠা, ১৯৬৪ ইং]
(৫) হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ
“হযরত ইউনুস (আ.) থেকে রিসালাতের দায়িত্ব আদায় করার ব্যাপারে কিছু দূর্বলতা হয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত তিনি ধৈর্যহারা হয়ে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই আপন স্থান ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন।” [তাফহিমুল কোরআন, ৩য় সংস্করণ, ২য় খন্ড, সূরা ইউনুস (টিকা দ্রষ্টব্য), ১৯৬৪ ইং]
(৬) হযরত মূসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ
“নবী হওয়ার পূর্বে মুছা (আ.) দ্বারা একটি বড় গুনাহ হয়েছিল। তিনি এক ব্যাক্তিকে কতল করেছিলেন।” [রাসায়েল ও মাসায়েল, ১ম খন্ড, ৩১ পৃষ্ঠা]
“মুছা (আ.) এর দৃষ্ট্রান্ত হচ্ছে ঐ অধৈর্য্যশীল বিজয়ীর মত যে তার শাসন ক্ষমতা সুপ্রতিষ্ঠিত না করেই মার্চ করে সম্মুখ চলে যায় আর পিছনে ফেলে যাওয়া এলাকায় বিদ্রোহের দাবানল দাউ দাউ করে ছড়িয়ে পড়ে।” [তরজমানুল কোরআন, ২৯তম খন্ড, ৪-৫ পৃষ্ঠা]
(৭) হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ
“এখানে আর একটি প্রশ্নের উদ্রেক হয় যে, হযরত ইব্রাহীম (আ.) যখন নক্ষত্র দেখে বলেছিলেন, এটা আমার প্রতিপালক এবং চন্দ্র-সূর্য দেখে এগুলোকেও নিজের প্রতিপালক হিসাবে অবহিত করেন, তখন সাময়িক ভাবে হলেও কি তিনি শিরকে নিপতিত হননি?” [তাফহিমুল কোরআন, ১ম খন্ড, ৫৫৮ পৃষ্ঠা]
(৮) হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ
“আমাকে মিসরের রাজকোষের পরিচালক নিয়োগ করুন – এ কথাটি হযরত ইউসুফ (আ.) শুধু অর্থমন্ত্রী হওয়ার জন্যই প্রার্থনা করেননি। করো কারো ধারণা, বরং তিনি এ বলে ডিকটিটরীই চেয়েছিলেন মৌলিকভাবে। এরই ফলশ্রুতিতে বর্তমান ইতালীর মুসোলিনির যে মর্যাদা তিনিও এর কাছাকাছি মর্যাদার অধিকারী হয়েছিলেন।” [ তাফহীমাত, ৫ম সংস্করণ, ২য় খন্ড, ১২২ পৃষ্ঠা]
(৯) হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ
“হযরত ইসা (আ.) মারা গেছেন একথাও বলা যাবেনা, বরং বুঝতে হবে ব্যাপরটি অস্পষ্ট।” [তাফহিমুল কোরআন, ১ম খন্ড, ৪২১ পৃষ্ঠা]
(১০) নবী-রসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম সম্পর্কেঃ
“ইসমত বা নিষ্পাপ হওয়াটা মূলতঃ নবীদের প্রকৃতিগত গুণ নয়। বরং নবুয়তের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য আল্লাহ তায়ালা কৌশল্গতভাবে তাঁদেরকে ভুলত্রুটি ও পদস্খলন থেকে নিরাপদ রেখেছেন। নতুবা তাঁদের ওপর আল্লাহ তায়ালার হেফাজত ক্ষণিকের জন্য ঊঠে গেলে সাধারণ মানুষের মত তাঁরাও ভুলভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। এখানে একটি সূক্ষ বিষয় এই যে, আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছা করেই প্রত্যেক নবীর উপর থেকে কোন না কোন সময় তার হেফাজত উঠিয়ে নেন এবং তাদেরকে দুএকটি গুনাহে লিপ্ত হতে দেন। যাতে করে মানুষ যেন খোদা বলে ধারণা না করে এবং জেনে রাখে এরাও মানুষ।” [তাফহীমাত, ৪র্থ সংস্করণ, ২য় খন্ড, ৫৬-৫৭ পৃষ্ঠা]
“কোন কোন নবী দ্বীনের চাহিদার উপর স্থির থাকতে পারেন নি। বরং তারা আপন মানবীয় দূর্বলতার কাছে হার মেনেছেন।” [ তরজমানুল কোরআন, ৩৫তম সংখ্যা, ৩২৭ পৃষ্ঠা]
২|
০৮ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৪:৩৬
নাটক বলেছেন: একজনের লেখা দেখলাম আপনার উল্টা। তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো নাকি তার উপর অপবাদ এবং সেগুলো ভিত্তিহীন।
একটু সময় করে দেখবেন লেখাটা?
(কয়েকমাস আগে ব্লগে একটা লেখা দিয়েছিলাম "আরব ইসলামিক স্কলারদের চোখে মাওলানা মউদুদী " শিরোনামে। সেখানে অনেকে পরামর্শ দিয়েছিলেন মাওলানা মউদুদীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ নিয়ে লিখতে। এখানে আমি সংক্ষেপে কিছু কথা লেখার চেষ্টা করেছি মাত্র।)
কয়েক দশক আগেও আলিয়া মাদ্রাসার অধিকাংশ শিক্ষক ছিলেন দেওবন্দী তথা কওমী মাদ্রাসায় পড়ুয়া। আমার আব্বা আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র হলেও সে হিসেবে কওমি মাদ্রাসায় পড়ুয়া আলেমদের ছাত্র ছিলেন। তার অধিকাংশ শিক্ষক ছিল দেওবন্দ ফারেগ বিভিন্ন ওলামায়ে কেরাম।
এরকম একটা আলেম পরিবারের সন্তান হওয়ার সুবাদে সেই ছোটকাল তথা যখন কিছুটা বুঝার বয়স হয়েছে তখন থেকেই আব্বার মুখে শুনে আসছিলাম যে, মাওলানা মওদুদী তার তাফসীর বা অন্যান্য লেখনীতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি করেছেন অনেক স্থানে নিজের মনগড়া তাফসীর করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে, ইসলামী আন্দোলনের পথে মাওলানা মউদুদীর ভুমিকাকে তিনি আগে থেকেই প্রশংসা করেন।
ছোটবেলা থেকেই মনে আছে যখন আমি ক্লাস থ্রিতে পড়তাম তখন ঘরের বারান্দায় আম্মা সেলাই মেশিনের কাজ করতেন তার পাশে রাখা কাঠের বাক্সের পাশে দাঁড়িয়ে দাড়িয়েই মাসিক মদীনাসহ বিভিন্ন ইসলামী পত্র-পত্রিকা ও বই পুস্তক পড়তাম। এগুলো পড়তে তখন মজাই লাগত। আরও বড় হয়ে মাওলানা মউদুদীর লেখার ব্যাপারে এসব ব্যাপার জানার পর থেকেই যেন আমার মধ্যে মাওলানা মউদুদীর কোন লেখা পড়ার ক্ষেত্রে বিতৃষ্ণা এসে গিয়েছিল। কোনদিন ভুল করেও আমি তার লেখা তেমন পড়তে যাইনি।
ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে যেগুলো আমাদের দেশে আছে সেগুলো সম্বন্ধে আমার বক্তব্য ছিল-ইসলাম অনুযায়ী যারাই কাজ করবে আমি নির্দ্বিধায় তাদেরকে সাপোর্ট দেব। হোক, তারা জামায়াতে ইসলামী, ইসলামি ঐক্যজোট বা অন্য কেউ। তবে, তাদের কোন অন্যায়কে আমি সাপোর্ট করব না।
বিভিন্ন সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভাইয়েরা আমার অবস্থান জিজ্ঞাসা করলে আমি বলতাম আপনাদের কাজকর্ম ভাল; আপনাদের কাজকর্মকে আমি সাপোর্ট করি তবে, মাওলানা মওদুদীর কিছু কিছু লেখার ব্যাপারে আমার আপত্তি আছে। ফলে, আমি তার বইকে প্রায়ই এড়িয়ে যেতাম।
হয়ত আমার অবস্থান এমন ছিল যে, মাওলানা মউদুদী বিরোধী পৃথিবীতে যদি কেউ থেকে থাকে তাহলে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রথম সারিতে ছিলাম আমি নিজে।
কিন্তু, যখন বাস্তবতা যাচাই করতে গেলাম তখন আতকে উঠলাম। আশ্চর্যের সাথে লক্ষ্য করলাম যে, তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ আনা হচ্ছে তার অধিকাংশই মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত যা তার মধ্য আদৌ নেই। ইচ্ছামত বিভিন্নভাবে মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে তার বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করা হচ্ছে। তিনি যে কথাগুলো আদৌ বলেননি তা তার নামে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু, যারা তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগগুলো করছেন তারা আদৌ তা যাচাই করার প্রয়োজন মনে করছেন না যে, আসলে অভিযোগগুলো বাস্তবে আছে কিনা? যেটা আমার আব্বার ক্ষেত্রেও ঘটেছে। সবাই শোনা কথার উপর ১০০% বিশ্বাস করেই অন্যদের কাছে বলা শুরু করে দিয়েছেন। মনে করছেন এমন যে, এত বড় একজন আলেম এ কথা বলেছেন তিনি কি মিথ্যা কথা বলতে পারেন? না, কক্ষনোই তার মুখ থেকে মিথ্যা বের হতে পারেনা। কিন্তু, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উক্ত কথাগুলোর কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। অথচ, শোনা কথা বলার আগে যাচাই বাচাই করে তারপর তা অপরের কাছে বলার প্রতি নির্দেশ এসেছে পবিত্র কুরআন মাজীদে।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ (6)
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ,যদি কোন ফাসেক তোমাদের কাছে কোন খবর নিয়ে আসে তাহলে তা অনুসন্ধান করে দেখ। এমন যেন না হয় যে,না জেনে শুনেই তোমরা কোন গোষ্ঠীর ক্ষতি করে বসবে এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে। (সুরা হুজুরাত: ৬)
কিন্তু, আমরা মনে করছি এত বড় একজন আলেম এ কথা বলেছেন নিশ্চয় তিনি মিথ্যা বলেননি তাই, তার কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেই অন্যদেরকে তা বলছি। শ্রোতা মনে করল এ হুজুর তো মিথ্যা বলতে পারেন না। ফলে, তারা এক বাক্যে সত্য বলে স্বীকার করে নিল। এভাবে একের পর এক লোক এক প্রজন্মের পর আরেক প্রজন্ম যাচাই না করেই শোনা কথায় বিশ্বাস করে যাচ্ছে।
এ ছাড়াও আশ্চর্য হতে হয় যে,বাংলাদেশের প্রায় সব কওমী মাদ্রাসাতে (সবগুলোতে আছে কিনা আমি নিশ্চিত নই)একটা সাবজেক্ট পড়ানো হয়।তার নাম হচ্ছে-"ফেরাকে বাতেলা" যার অর্থ হল "বাতিল দলসমুহ"। সেখানে মাওলানা মউদুদীকে নিয়েও একটা চেপ্টার আছে। বইটি অবশ্য আমি এখনও দেখি নাই। বইটি সংগ্রহ করা দরকার।
এবার আসুন! আমরা একটু খতিয়ে দেখি যে, মাওলানা মউদুদীর বিরুদ্ধে যা অভিযোগ করা হয় তা তার বিরুদ্ধে কতবড় মারাত্মক অপবাদ।
১। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কওমি মাদরাসার (মাদ্রাসার নাম এখানে উল্লেখ করতে চাই না) মহাপরিচালক বাংলাদেশের আলেম সমাজের মধ্যে প্রথম কাতারে যার অবস্থান তিনি কয়েকমাস আগে উক্ত মাদ্রাসার খতমে বুখারী অনুষ্ঠানের আলোচনায় বলেছিলেন- "মাওলানা মউদুদী কুরআন শরীফের মনগড়া তাফসীর করেছেন। সুরা নাসরের ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন: রাসুল (সাঃ) রিসালাতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অবহেলা করেছেন।" (এই মুহুর্তে রেফারেন্স টা পাচ্ছি না। তাই, হুবহু তার বক্তব্যটা দেয়া সম্ভব হল না।)
আমি তার এ বক্তব্যটা পড়েই আশ্চর্যান্বিত না হয়ে পারলাম না। তিনি বিষয়টা ভালভাবে যাচাই না করেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অথচ, সুরা নাসরের ব্যাখ্যায় মাওলানা মওদুদী তার তাফসীরে নিজের কোন কথা নিয়ে আসেননি। সেখানে তার সব কথা এসেছে পুর্ববর্তী ইসলামিক স্কলার ও তাফসীর কারকদের লেখা থেকে।
আসুন! আরেকটু গভীর মনযোগ দিয়ে বাস্তবতা দেখে নিই। মাওলানা মওদুদী সুরা নাসরের ৩ নং আয়াতের ৪ নং টীকায় বলেছেন:
"অর্থাৎ তোমার রবের কাছে দোয়া করো। তিনি তোমাকে যে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন তা করতে গিয়ে তোমার যে ভুল - ত্রুটি হয়েছে তা যেন তিনি মাফ করে দেন। ইসলাম বান্দাকে এ আদব শিষ্টাচার শিখিয়েছে। কোন মানুষের দ্বারা আল্লাহর দীনের যতবড় খিদমতই সম্পন্ন হোক না কেন,তাঁর পথে সে যতই ত্যাগ স্বীকার করুক না এবং তাঁর ইবাদাত ও বন্দেগী করার ব্যাপারে যতই প্রচেষ্টা ও সাধনা চালাক না কেন,তার মনে কখনো এ ধরনের চিন্তার উদয় হওয়া উচিত নয় যে,তার ওপর তার রবের যে হক ছিল তা সে পুরোপুরি আদায় করে দিয়েছে। বরং সবসময় তার মনে করা উচিত যে তার হক আদায় করার ব্যাপারে যেসব দোষ - ত্রুটি সে করেছে তা মাফ করে দিয়ে যেন তিনি তার এ নগণ্য খেদমত কবুল করে নেন। এ আদব ও শিষ্টাচার শেখানো হয়েছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে । অথচ তাঁর চেয়ে বেশী আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা ও সাধনাকারী আর কোন মানুষের কথা কল্পনাই করা যেতে পারে না। তাহলে এ ক্ষেত্রে অন্য কোন মানুষের পক্ষে তার নিজের আমলকে বড় মনে করার অবকাশ কোথায়৷ আল্লাহর যে অধিকার তার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল তা সে আদায় করে দিয়েছে এ অহংকার মত্ত হওয়ার কোন সুযোগই কি তার থাকে ৷ কোন সৃষ্টি আল্লাহর হক আদায় করতে সক্ষম হবে,এ ক্ষমতাই তার নেই।"(সুরা নাসরঃ ৪ নং টীকা)
এখানে তার কথা থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে,তিনি কাজটাকে আমাদের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ভালভাবে সম্পাদন করেছেন।এছাড়া আল্লাহ তায়ালার দৃষ্টিতে তার কাজটা ভাল হলেও আরও ভালোর চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। সেজন্য তিনি ইস্তিগফার ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেছেন। এ সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত জানতে এ বিষয়ে তার লেখা পড়তে পারেন।
এবার দেখুন প্রখ্যাত মুফাসসিরদের ব্যাখ্যা-
আইসারুত তাফসীর প্রণেতার বলেন:-
{وَاسْتَغْفِرْهُ} أي اطلب منه المغفرة لما فرط منك مما هو ذنب في حقك لقربك وكمال علمك وأما غيرك فليس هو بالذنب الذي يستغفر منه
অর্থাৎ,তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন আল্লাহর অধিকতর নৈকট্যপ্রাপ্ত হওয়া ও অধিক জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার কারণে আপনার থেকে যে "জাম্ব" (ভুল কিংবা গুনাহ) হয়ে গেছে তা থেকে। (আপনার ছাড়া) অন্যদের জন্য এটা গুণাহ নয় যা থেকে তাদের ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। (এখানে গুণাহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হওয়ার কারণে)
তাফসীরে আবি সাউদে এসেছে-
واستغفره هضما لنفسك واستقصارا لعملك واستعظاما لحقوق الله تعالى واستدراكا لما فرط منك من ترك الأولى
অর্থাৎ,তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার কাজে ত্রুটি,আল্লাহর হকের সুমহানত্ব ও অধিক ভালো ছেড়ে দেয়ার কারণে।
তাফসীরে বায়জাবীতে বলা হয়েছে-
واستغفره ( هضما لنفسك واستقصارا لعملك واستدراكا لما فرط منك من الالتفات إلى غيره
অর্থাৎ,আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার দায়িত্বে কমতি করা এবং অন্যদিকে মনোনিবেশ করার কারণে।
তাফসীরে ফাতহুল কাদীরে এসেছে-
أي اطلب منه المغفرة لذنبك هضما لنفسك واستقصارا لعملك واستدراكا لما فرط منك من ترك ما هو الأولى
অর্থাৎ,আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন নিজের "জাম্ব"(ভুল-ত্রুটি,গোনাহ, অপরাধ ইত্যাদির সমার্থবোধক শব্দ) হতে এবং আপনার দায়িত্বে ত্রুটি এবং সর্বোত্তমের বিপরীতে কাজ করার কারণে।
এবার দেখুন!না জেনে এবং যাচাই বাছাই না করে কিভাবে একজন লোকের বিরুদ্ধে এ ধরণের অপবাদ ও বিষোদগার করা হচ্ছে?
মাওলানা মউদুদী পাক-ভারত উপমহাদেশের লোক এবং সমকালীন হওয়ার কারণে আমরা তার বিরুদ্ধে এ ধরণের কথাবার্তা ও অপবাদ দিচ্ছি;অথচ,একই কারণের আবির্ভাব ঘটেছে তার আগেকার সমগ্র বিশ্বের কাছে গ্রহনযোগ্য তাফসীর কারক "বায়জাবী,ফাতহুল কাদীর,আয়সারুত তাফসীর ও তাফসীরে আবি সাউদ"প্রমুখের লেখায়।
যদি একই কারণে একজনকে দোষারোপ করা হয়,তাকে এজন্য গালি দেয়া হয় এবং অন্যজনকে কিছু না বলা হ্য় তাহলে,সেটা হবে ন্যায়বিচার পরিপন্থী কাজ।এ বিচারককে বলা হবে যে নিশ্চয় উনি পক্ষপাত দোষে দুষ্ট।
তাহলে,পাঠকদের কাছে প্রশ্ন:উপরোক্ত কারণে ,মাওলানা মউদুদীকে কি গোমরাহ,কাফের,বা ইসলাম বিদ্বেষী বলা যাবে? নাকি বুঝতে হবে যারা এটা নিয়ে কথাবার্তা বলে তাদের পড়াশুনার দৈন্যতাই এর মূলকারণ?
ইদানিং আমাদের সোনার বাংলাদেশ ব্লগের একজন সম্মানিত ব্লগার "মুহাজির আল শাইখ"ভাই, মাওলানা মউদুদীর বিরুদ্ধে একটা মিশন নিয়েই মাঠে নেমেছেন।উনার একটা লেখা পড়লাম কয়েকদিন আগে তাবলীগ জামায়াতের ব্যাপারে।তার সে লেখায়ও আমি আশ্চর্য হয়েছি ।
এখানে উনি তাবলীগের চিল্লা ইত্যাদি বিষয় প্রমাণ করতে এমন সব দলীল নিয়ে এসেছেন যা তাদের পক্ষে দলীল হওয়ার উপযুক্ত নয় বলেই আমার সামান্য জ্ঞানের দ্বারা বুঝতে পারলাম।তবে,ইদানিং ব্যস্ততার কারণে ব্লগে বেশী সময় দিতে পারছিনা; ফলে,মন্তব্য আদান প্রদানের মাধ্যমে আলোচনা করাও সম্ভব হচ্ছে না।
যাহোক,উনিসহ অনেকেই এ ব্লগে মাওলানা মওদুদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। আসুন!সেগুলোর কয়েকটা আমরা যাচাই করে দেখি।
মাওলানা মউদুদীর বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ :
মাওলানা মউদুদী নাকি তার তাফসীরে লিখেছেন-
“এখানে আর একটি প্রশ্নের উদ্রেক হয় যে,হযরত ইব্রাহীম (আ.) যখন নক্ষত্র দেখে বলেছিলেন,এটা আমার প্রতিপালক এবং চন্দ্র-সূর্য দেখে এগুলোকেও নিজের প্রতিপালক হিসাবে অবহিত করেন,তখন সাময়িক ভাবে হলেও কি তিনি শিরকে নিপতিত হননি?” [তাফহিমুল কোরআন ১ম খন্ড,৫৫৮ পৃ.]
এখানে তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে-একথা জানানো যে,ইব্রাহীম (আঃ) সাময়িক সময়ের জন্য হলেও শিরক করেছেন।এটাই নাকি মাওলানা মউদুদীর অভিমত।
আসুন! আমরা দেখে নিই- আসলেই কি মাওলানা মউদুদীর তাফসীরে এমন কথা আছে।নিচে তাফহীমুল কুরআন থেকে হুবহু কপি পেস্ট করে দিলাম।
এ প্রসংগে আর একটি প্রশ্নও দেখা দেয়। সেটি হচ্ছে,হযরত ইবরাহীম (আ) যখন তারকা দেখে বলেন,এ আমার রব আবার যখন চাঁদ ও সূর্য দেখে তাদেরকেও নিজের রব বলে ঘোষণা দেন,সে সময় কি তিনি সাময়িকভাবে হলেও শিরকে লিপ্ত হননি?
এর জওয়াব হচ্ছে,একজন সত্যসন্ধানী তাঁর সত্য অনুসন্ধানের পথে পরিভ্রমণকালে মাঝপথে যেসব মনযিলে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য থামে আসল গুরুত্ব সে মনযিনলগুলোর নয় বরং আসল গুরুত্ব হচ্ছে সে গন্তব্যের যে, দিকে তিনি অগ্রসর হচ্ছেন এবং যেখানে গিয়ে তিনি অবস্থান করেন। মাঝখানের এ মনযিলগুলো অতিক্রম করা প্রত্যেক সত্যসন্ধানীর জন্য অপরিহার্য। সেখানে অবস্থান হয় অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে, অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সেখানে অবস্থান করা হয় না। মূলত এ অবস্থান হয় জিজ্ঞাসা সূচক ও প্রশ্নবোধক, সিদ্ধান্তমূলক নয়। অনুসন্ধানী যখন এ মনযিলগুলোর কোনটিতে অবস্থান করে বলেন, "ব্যাপারটি এমন" তখন একটি মূলত তার শেষ সিন্ধান্ত হয় না বরং তার একথা বলার উদ্দেশ্য হয়, জিজ্ঞাসা মূলক। অর্থাৎ "ব্যাপারটি কি এমন৷" তারপর পরবর্তী অনুসন্ধানে এর নেতিবাচক জবাব পেয়ে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে যান। তাই পথের মাঝখানে যেখানে যেখানে থামেন সেখানেই তিনি সাময়িকভাবে কুফরী বা শিরক করেন একথা সম্পূর্ণ ভুল। কাজেই হযরত ইবরাহীম আলাইহসি সালাম তাঁর সত্য অনুসন্ধানের পথে কোন প্রকার শিরকে লিপ্ত হননি। (তাফহীমুল কুরআনের সুরা আন'য়ামের ৫৩ নং টীকার শেষাংশ)
উপরের অভিযোগ ও বাস্তবে তাফহীমুল কুরআন দেখে যে কেউ এ কথা বলতে বাধ্য হবে যে, মাওলানা মউদুদীর বিরুদ্ধে এটাও একটা ন্যাক্কারজনক অপবাদ। কেননা, এখানে তিনি বলেছেন: কাজেই হযরত ইবরাহীম আলাইহসি সালাম তাঁর সত্য অনুসন্ধানের পথে কোন প্রকার শিরকে লিপ্ত হননি। অতএব,ইবরাহীম (আঃ)শিরক করেছেন বলে মাওলানা মউদুদী বলেছেন এটা কিভাবে সত্য হয়?
২। বাংলাদেশের আরেকটি স্বনামধন্য কওমি মাদ্রাসার (অদ্যাক্ষর "প") মুখপত্র ও মাসিক পত্রিকায় আমি নিজে পড়েছি যে, তারা লিখেছেন- মাওলানা মউদুদী বলেছেন:- "ঈসা আ. কে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে এ কথা বলা যাবে না।"
কিন্তু,মাওলানা মউদুদীর তাফসীর খুলে দেখলাম-উপরের অভিযোগ ১০০% ভুল ও মিথ্যা। আপনারাও তাফহীমুল কুরআন খুলে দেখুন-(সুরা নিসাঃ ১৫৮ নং আয়াত)
আয়াতের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা:
১৫৮) বরং আল্লাহ তাকে নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন ৷ আল্লাহ জবরদস্ত শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাময়৷
ব্যাখ্যা: এ প্রসংগে এটিই হচ্ছে প্রকৃত সত্য। আল্লাহ সুস্পষ্ট ভাষায় এটি ব্যক্ত করেছেন। এ ব্যাপারে দৃঢ়তা সহকারে যে সুস্পষ্ট বক্তব্য পেশ করা হয়েছে তা কেবল এতটুকু যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যা করতে ইহুদীরা কামিয়াব হয়নি এবং আল্লাহ তাকে নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন।………… (সুরা নিসার ১৫৮ নং আয়াতে ১৯৫ নং টীকার প্রথমাংশ)
এছাড়া বেশী কিছু তুলে ধরলাম না। আপনারা এভাবেই যাচাই করে দেখতে পারেন। পরে দেখবেন- অন্ততঃ ৮০% অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। হয়ত দেখবেন তা মাওলানা মউদুদীর বিরুদ্ধে অপবাদ অথবা, তার বক্তব্য বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। আর বাকী ২০% সম্বন্ধে আমি বলব সেটা হয়ত দেখা যাবে সর্বজন গ্রহণযোগ্য আলেমদের লেখনী থেকেই তিনি ওখানে কোট করেছেন। হয়ত মাওলানা মউদুদী যেখান থেকে ওটাকে কোট করেছেন যিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি ওই বইটা পড়েননি।
এজন্য এখন আমি কারও কাছে মাওলানা মউদুদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনলে তা আর বিশ্বাস করতে পারি না। বর্তমানে হয়ত অনেক খ্যাতিমান আলেমের কাছেই মাওলানা মউদুদীর বিরুদ্ধে এসব কথা আপনারাও শুনবেন। সম্ভব হলে তাদের সাথে এ ব্যাপারে বাস্তবতার নিরিখে আলোচনা করতে পারেন।
আমি বর্তমানে মাওলানা মউদুদীর তাফসীরকে অনেক মুল্যবান মনে করি। কেননা, মুল্যবান বিভিন্ন তাফসীর থেকে তিনি পড়াশুনা করে আমাদের জন্য সংক্ষেপে সারকথাগুলো সেখানে উপস্থাপন করেছেন।
আমার আব্বাকে যখন এসব অভিযোগের বাস্তবতা যাচাই সম্বন্ধে বললাম তখন তার কাছেও মাওলানা মউদুদীর লেখনীর ব্যাপারটা ক্লিয়ার হয়ে গেছে। এখন প্রায়ই তিনি বলেন- অমুক আয়াতে দেখো তো তাফহিমুল কুরআনে কি বলা হয়েছে?
আমি ইসলামী ছাত্রশিবির করি বা না করি, জামায়াতে ইসলামীকে সাপোর্ট করি বা না করি সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে-যেকোন সময় আমার সামনে যদি কাউকে অপবাদ দেয়া হয় তাহলে, হিকমতের সাথে তার প্রতিবাদ করা আমার ঈমানী দায়িত্বের মধ্যেই গণ্য হবে।
আপনাদের আশে পাশে যেসমস্ত শ্রদ্ধাভাজন ওলামায়ে কেরাম মাওলানা মউদুদীর বিরুদ্ধে এসব কথা বলেন- আপনারা সম্ভব হলে তাদেরকে বাস্তবতাটা বুঝিয়ে দেবেন এ কামনাই করি। যেন তারা এবং তাদের কাছে শুনে সাধারণ জনগণ এ ধরণের অপবাদ আরোপের গুণাহ থেকে বেচে যান।
আর কেউ উপরোক্ত মাদ্রাসার আলেমদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টা ক্লিয়ার করতে পারলে তা খুবই ভাল হয়। উপরোল্লিখিত মাদ্রাসা দু'টি আমাদের এলাকা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় আমি তাদের সাথে কথা বলে ব্যাপারটা সমাধা করতে পারছি না। আপনারা অনেকে হয়ত পারবেন। এ ব্যাপারে আমার কাছ থেকে কোন প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে চাইলে আমাকে ফোন বা অন্য কোন পন্থায় যোগাযোগ করতে পারেন।
আমরা মিথ্যাকে সমাজ থেকে দূর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে চাই । আলেম ওলামা তো দুরের কথা একজন সাধারণ মুসলমান এমনকি ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষকেও মিথ্যা থেকে দূরে থাকতে হবে। কেননা, মিথ্যা সকল পাপের পথকে সহজ করে দেয়।
সত্যতা নির্ণয় করার জন্য তাফহীমুল কুরআ নের সফটওয়্যার কপি আপনাদের অনেকের প্রয়োজন হতে পারে। নিচের লিঙ্ক থেকে তাফহীমুল কুরআনের সফটওয়্যার কপি ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
তাফহীমুল কুরআন
Click This Link
৩|
০৮ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:১২
মিশনারী বলেছেন: ভাই আপনার জ্ঞানের বহর দেখে ভাল লাগল
। উপরের হেড লাইনে লিখলেন মালানা মওদুদীর কুফরীমুলক ধৃষ্টতাপূর্ণ উক্তি, আর আপনার উদাহরনে দেখালেন একটা তাফহিমুল কোরআন , বাকী গুলি তরজমানুল কোরআন । উনি তো তরজমানুল কোরআন লিখেন নাই । কথাটা দুই হয়ে গেল না ?
আর একটা তাফহিমুল কোরআন যেটা বলেছেন, এইটার উত্তর উপরের একভাই সুন্দর করে বলেছেন । আপনার উত্তর নিশ্চয়ই পেয়েছেন । আশা করি মিথ্যা কথা ছড়াতে আপনার আর সাহস হবে না । এখন আর আগের মত দিন নাই, আপনি / বা বড় হুজুর বললে মানুষ মেনে নিবে । এখন মানুষ যাচাই করে দেখেন । এখন হাতের নিকট চাইলেই সমস্ত ডকুমেন্ট পাওয়া যায় ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৪:২৮
কলম.বিডি বলেছেন: ৪নংটা আমার কাছেও খারাপ লাগছে, কিন্তু বাকিগুলায় সমস্যা কি? আমি উনার বই ছাড়া আরও অনেক বইয়ে এই কথাগুলো পড়েছি। মূল কথা হল আমাদের নবি রাসুলরা অবতার বা দেবতা নন। তাঁদের ভুল হয়েছে এবং আল্লাহ শুধরেও দিয়েছেন। শিক্ষা হল যে, উনারা কিভাবে ভুল স্বীকার করেছেন আর ফিরে এসেছেন সেইটা।
আপনাকে ধন্যবাদ।