নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রিয়াদ মোহাম্মদ

রিয়াদ মোহাম্মদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভোজন , অতঃপর.......................

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১০:৫৩

বিয়ের দাওয়াত miss হইয়া গেল, তাই বলে বৌ ভাতের দাওয়াত miss করা রীতিমত অন্যায় হইয়া যায়। আর খাবার দাবারের ব্যাপারে আমি কাপুরুষতা একদম সহ্য করিতে পারি না। তাই বউ ভাতের আগের দিন রাতে কনে পক্ষের বাড়িতে হাজির হইয়া গেলাম বিয়ের খাবারটা পুষাইয়া দেবার জন্য। অতঃপর যা ঘটার তাই ঘটিল। খাবার টেবিল এ ঝড় তুলিয়া দিয়া বীরের মত উঠিয়া আসিলাম । আমাকে দেখিয়া কতিপয় কাপুরুষ পেটুক বলিয়া গালি দিল। আমি ইহা কেয়ার ই করিলাম না। জীবনে বড় হইতে হইলে এইসব ছোট খাট কথায় কিছু মনে করিতে হয় না। আধ ঘণ্টা পর আরও আধ পাতিল দই সাবাড় করিয়া দিয়া রাতে ঘুমের বন্দোবস্ত করিতে গেলাম। ঠিক রাত ১২ টায় পেটে কেমন জানি ঝড়ের পূর্বাভাস পাইলাম। এর কিছুক্ষন পর পশ্চাৎ দেশ দিয়া শো শো বাতাসের সহিত বজ্রপাত শুরু হইয়া গেল।বজ্রপাতের আওয়াজে এবং বাতাসের তীব্র অম্লীয় ঘ্রানে অতিষ্ঠ হইয়া ৯ নম্বর বিপদ সংকেত পড়িবার আগেই ঘরের লোকজন আমাকে ঝড় প্রশমন কেন্দ্র মানে toilet এর রাস্তা দেখাইয়া দিল। অতঃপর ঝড় থামিল, কিন্তু আবহাওয়া তখনও গুমট হইয়া রইল। চিন্তা হইতে লাগিল , এ যদি অবস্থা হয় তাহা হইলে বউ ভাতের প্ল্যান প্রোগ্রাম পুরাই ব্যার্থতায় পর্যবসিত হইবে। চিন্তিত মনে ঘুমাইয়া পরিলাম। সকাল বেলা উঠিয়া আবহাওয়া ভালই মনে হইল।অতপর আর চিন্তা না করিয়া সকালের নাস্তায় ও টর্নেডো তুলিয়া ফেলিলাম। যদিও সকালের মেন্যু ছিল আগের দিনের মাংস ।এরি মধ্যে সবাই বরপক্ষের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করিয়া দিয়াছে।কিছুক্ষণ পরে দেখি সকালের শান্ত আবহাওয়ায় মেঘের ঘনঘটা মানে পেটে কেমন জানি ভুটভাট শুরু হইয়া গিয়াছে। এক রাম মোচড় দিল, সাথেসাথেই ছোট ঘর মানে toilet এ দৌড় দিলাম। ভাগ্য অতি সুপ্রসন্ন ছিল, তাই ঘরে পৌঁছা মাত্রই মুষলধারে বৃষ্টি এবং বজ্র বৃষ্টি শুরু হইয়া গেল। অতঃপর বৃষ্টি কোনরকমে থামাইয়া বাহির হইয়া দেখি সবাই আমার খুঁজ the search করিতেছে। সবাই রেডি। মুখ কাচুমাচু করিয়া বলিলাম একটু অপেক্ষা করার জন্য, কিন্তু আমি তখনও ঘোর অমানিশায় । পরিবেশ কিছুতেই ভাল মনে হইতে ছিল না। অতঃপর আবার ৩ নম্বর বিপদ সংকেত পাইলাম এবং যা ঘটার তাই ঘটিল । ক্রমেই ছোট ঘরে যাবার হার বাড়িয়া গেল। মনে হইল যেন আজকে কোন অলিম্পিক রেকর্ড ভাঙ্গিয়া ফেলিব। আমার অবস্থা দেখিয়া এক দরদী মামা ত্রাণকর্তা হিসাবে ত্রান মানে orsaline নিয়া হাজির হইলেন। আমার তখন এমন অবস্থা যে তাহাকে বলিতে পারিলাম না, আহ জীবনটা বাঁচাইলা। এ অবস্থায় মুরুব্বীরা আমাকে রাখিয়া যাওয়ার প্ল্যান স্থির করিয়া ফেলিল। ইহা শুনিয়া মাথা পুরাই বিগড়াইয়া গেল। মনের অন্ত দৃষ্টিতে দেখিতে পাইলাম গরু মুরগীরা কি সুন্দর রসালো সাজে সাজিয়াছে, আর আমি কিনা তাদের চাখিয়া ধন্য করিতে পারিব না। এর মধ্যে আবার সিগন্যাল দিল। সবাইকে বিদায় জানাইয়া ,মুখ কাচুমাচু করিয়া ,সব আশা জলাঞ্জলি দিয়া অতঃপর সেই ছোট্ট ঘরে প্রবেশ করিলাম।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১১:০১

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: ভাইসাহেব, দোষ আপনার না। দোষ খাবারের। যারা রান্না করিয়োছেন, তাহারাও হয়তো আপনার মতোই ছোট ঘরে দৌড়াদৌড়ি করিয়াছিলেন এবং ভালোভাবে পরিস্কা না হয়েই.... খাবারের মধ্যে দোষ রহিয়াছে। আজকালতো সবকছিুতে ভেজাল। আশা করছি শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠুন আর খাবারের রেশিওটা একটু কমায়ে :P :P :P

২| ১৮ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৫:৩৮

রিয়াদ মোহাম্মদ বলেছেন: এ ব্যাপারটা তো ভাবি নাই!!!! নিশ্চয়ই এতে বিরোধীদলের ষড়যন্ত্র ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে ব্যাপারটি ধরিয়ে দেয়ার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.