| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সূ্র্য পশ্চিম আকাশে অস্ত যাওয়ার প্রস্ততি নিচ্ছে ।এমন সময়ে উদাসভাবে টাকা গুনছে অমল।আজ অন্য দিনের চেয়ে টাকার পরিমান বেশী উঠেছে।দিনদিন ভক্ত বেড়েই চলেছে।এমন সময় তার মনে পড়ল সেই মহেন্দ্রক্ষনের কথা ,যখন ভাগ্য দেবী তার উপর সুপ্রসন্ন হয়েছিল।তার বউ বিমলার মাথায় চুলে জটা দেখা দেয়।বিমলার আচরনে পরির্বতন হতে থাকে।যেন ভগবান শিব তার মধ্য স্বয়ং আবির্ভূত হয়েছেন।বিমলা বলে ওঠে ,এই অমল তোর ঘরে ভোলানাথ এসেছে।আমার মাথায় দূধ ঢাল,পূজার আয়োজন কর।প্রতিবেশীরা দেখে বলল বিমলার উপর শিব ভর করেছে।তারা প্রনাম করা শুরু করল।বিভিন্ন অসুখ- বিসুখ এর প্রতিকার প্রার্থনা করতে থাকল।আমাকে অবাক করে দিয়ে ,বিমলা সত্যি সত্যি সমাধান দেওয়া শুরু করল।ভক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকল।প্রথমে আমার দ্বিধা থাকলেও,আমি উপেক্ষা করতে পারলাম না।আমার টাকার খুব প্রয়োজন,তাই আমি মেনে নিলাম।আমাদের শিবরামপুর গ্রাম ছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন জড়া ব্যাধি নিয়ে আসতে থাক্ল।এমন কি অনেক দূরের গ্রাম থেকেও ভক্ত সমাগম হতে লাগল।মুসলমান ভক্তের সংখ্যা কম নয়,বলা যায় যথেষ্ঠ।
বিমলাকে লোকজন আর বিমলা বলে মনে করে না,তার অন্য রকম সন্মান!ভক্তরা বিমলাকে বাবা বলে সন্মোধন করে,পায়ে লুটিয়ে পড়ে।তারা রোগ থেকে মুক্তি চায়,মামলায় জিততে চায়, ব্যবসায় উন্নতি চায়,চাকুরী চায় ,পরীক্ষায় ভালো করতে চায়!
যেন সব সমস্যার সমাধান বাবারুপী বিমলার কাছেয়!বোধহয় কারো কারো মানত্ কাকতালীয়ভাবে পূরন হয়েছে।তাই দিনদিন লোকজন আসা বেড়েই চলেছে।আমার কাজ ঠিকমত টাকা আদায় করা।দিন মন্দ যাচ্ছে না,ভগবানের কৃপায় এভাবে চললেয় হল।
এদিকে পাশের গ্রামে সামাদ হুজুর নামে একজন মাওলানা ছিলেন।এতদিন মুসলমানরা বিভিন্ন কারনে তেলপড়া,পানিপড়া সামাদ হুজুরের কাছেই নিত।কিন্তু এখন তার কাছে,কেউ খুব একটা আসে না।সামাদ হুজুর জুমার নামাজের পর,বিমলার কাছে পানিপড়া নিতে নিষেধ করল।হারাম বলে ফতোয়া দিল।
কিন্ত এতে খূব একটা কাজ হল না।অবশেষে গোপনে একরাতে সামাদ হুজুর বিমলাদের বাড়িতে গিয়ে হাজির হল।
হুজুর।।অমলদা বাড়িতে আস।
অমল।।কে, কে আপনি।
হুজুর।। আমি মাওলানা সামাদ।একটু জরুরী দরকার আছে।
অমল।।ও হুজুর আসেন,বসেন।
হুজুর।।ঠিক আছে,ঠিক আছে।কথাটা সরাসরিই বলি।তোমরা তো জান,আমি পানিপড়া দিয়ে দু,পয়সা রোজগার করতাম।তো তোমরা যা শুরু করছ।
অমল।।কি বলতে চান আপনি।আমরা কি কাউকে জোর করে-----------
হুজুর।।না,না আমি তা বলিনি।মানে এখন কেউ আমার কাছে আসতে চায় না।তোমাদের বাড়িতে লোকজন আসুক,তাতে আমার কোন আপত্তি নেই।তবে তোমরা যদি দু,একজন কে,যারা মুসলমান তাদের যদি আমার কাছে পাঠাও।
বিমলা।।কেন, তা করব কেন?
হুজুর।।আস্তে কথা বল।বেশী কথা বাড়াবাড়ি করলে মুসল্লিদের খেপিয়ে দেব।বলব তোমরা মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করছ।তাদেরকে দিয়ে হিন্দুয়ানী কাজকারবার করাচ্ছ।
অমল।।হুজুর দয়া করে তা করবেন না।বিমলা এমনি বলেছে, বুঝতে পারেনি।
হুজুর।।এতে তোমাদের ক্ষতি হবে না।তোমরা টাকা নিবে,পানিপড়া,তেলপড়া যা খুশি দিবে।তারপর বলবে এই সমস্যা সমাধানের জন্য হুজুরের কাছেও যেতে হবে।
আজ শনিবার, অন্যদিনের চেয়ে এদিন লোকজন বেশী আসে।আজ পাশের গ্রাম থেকে রমজান আলী এসেছে।দিনদিন ওর বাচ্চার নাকি পেট ফুলে যাচ্ছে।বিমলা বাচ্চাটিকে ফু দিয়ে ধীরেধীরে কিছু একটা বলে তেলপড়া দিল।তারপর বলল,সামাদ হুজুরের কাছেও যেতে হবে।
অবশেষে রমজান তার ছোট বাচ্চাকে নিয়ে সামাদ হুজুরের বাড়িতে গেল।সব দেখে হুজুর বলল ওর পেটে দুষ্ট জ্বীন বাসা বাঁধসে।ওর পেটের উপর উঠেস সূরা পড়লে জ্বীন পালাইয়া যাবে ইনশাল্লাহ।রমজান বলল, কিন্তু হুজুর বাচ্চা আপনার ভর সহ্য করতে পারব না।হুজুর বলল,পারব না কেন?অবশ্যই পারব।এটাইতো মহান আল্লাহর কেরামতি।
হুজুর শিশুটির পেটের উপর অনবরত হাঁটতে লাগল।আর বিড়বিড় করে কি যেন বলতে থাকল।ওদিকে শিশুটি তীব্র চিৎকার করে কাঁদতে থাকল।কিছু সময় পর শিশুটি নিস্তেজ হয়ে যেতে লাগল।
পরের দিন শহরের হাসপাতাল থেকে খবর আসল, শিশুটির অবস্থা ভাল না।যেকোন সময় খারাপ কোন খবর আসতে পারে।লোকজনের মধ্য এতদিন চাপা ক্ষোভ ছিল ।সব রাগের যেন একসাথে বিস্ফোরন ঘটল।হুজুর ঘটনার আঁচ পেয়ে আগেই পালিয়েছে।তাই লোকজন এখন অমলদের বাড়ির দিকে আসছে।অল্পসময়ের মধ্য অমল খবর পেল।সে বিমলাকে বলতে লাগল,তোমার এসব তেলপড়া,জলপড়া যে মিথ্যা তা সবাই জেনে গেছে।এসবে যে কাজ হয় না, পুরোটাই ভন্ডামি।আর দেরী কর না,আপাতত কোথাও গাঁঢাকা দিতে হবে।
©somewhere in net ltd.