| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
স্থান নজরুল ই্ন্সটিটিউট ভবন।দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালে সরকারিভাবে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। কবিকে বসবাসের জন্য সরকার একটি বাড়ি উপহার দেয়। যেখানে কবি তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো কাটিয়েছেন। কবির মৃত্যুর পর স্মৃতি রক্ষার্থে বাড়িটিকে জাদুঘর করা হয়েছে। বাড়ির সামনের মাঠটিতে গড়ে তোলা হয়েছে নজরুল ইনস্টিটিউট ভবন । যার পঞ্চম তলায় রয়েছে নজরুল ইনস্টিটিউট গ্রন্থাগার। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই গ্রন্থাগারটি।
গ্রন্থাগারে অবাধে প্রবেশ করার মত সুবিধা রয়েছে। পাঠকের খুব বেশি উপস্থিতি চোখে পড়ল না। লাইব্রেরিয়ান কাচে ঘেরা এক রুমে। লাইব্রেরী নিয়ে কথা বলতে তাঁর সাথেই সরাসরি যোগাযোগ করতে হল। তামান্না আনোয়ার নামের লাইব্রেরিয়ান দীর্ঘ ২২ বছর ধরে দায়িত্বে আছেন। লাইব্রেরীর যাবতীয় তথ্য তাঁর নখদর্পণে।
আলাপের শুরুটা হলো পাঠক নিয়েই। পাঠক নেই বললেই চলে। রোজকার দিনের চিত্র, নাকি আজ এমন? ‘এখানে আসলে নিয়মিত পাঠকদের সংখ্যা খুবই কম। গবেষণা ও গবেষকদের আসা যাওয়া বেশি। আর এ কারণেই এই গ্রন্থাগারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থাগার। এখানে যে শুধু বাংলাদেশের মানুষজন আসেন তা কিন্তু নয়। ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসেন। তারা নজরুল নিয়ে গবেষনা করেন। ব্যক্তিগত আগ্রহ থাকে। সেভাবে আসেন। আমরা তাদের নানাভাবে তথ্য দিয়ে সাহায্য করে থাকি। আমাদের কাছে অনেকে অনলাইনেও অনেক তথ্য চেয়ে থাকেন। তাদের মেইল করে থাকি’ বললেন তামান্না।
নজরুল বিষয়ক বইয়ের পাশাপাশি রয়েছে এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকার কপি। আরো রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মুস্তফা সিরাজ, আবুল মনসুর আহম্মদ, আলাওল, কায়কোবাদ, মধুসূদন দত্ত সহ আরো অনেকের বই। রয়েছে বিজ্ঞান, দর্শন, মহাকাব্য,ধর্মীয়, সাম্প্রতিক ইতিহাস ভিত্তিক , মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বই। শিশু একাডেমী ও বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত বই, প্রবন্ধের বই, খেলাধুলা এবং জীবনী গ্রন্থমালা সহ নানা রকম বই।বড়দের পাশাপাশি আছে শিশু-কিশোরদের পাঠযোগ্য বেশ কিছু বই। নজরুলের জন্ম মৃত্যু বার্ষিকীতে দেশের প্রধান দৈনিকগুলোতে নজরুল বিষয়ক যত লেখা প্রকাশ হয়। তা সংগ্রহ করে রাখা হয়।
জানা যায়, সব ধরনের সব বয়সের পাঠকের জন্য উন্মুক্ত এই গ্রন্থাগার। সদস্য হওয়ার কোনো নিয়ম নেই। ব্যবহার করার জন্য টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে হয় না এবং কোনো সদস্য ফিও দিতে হয় না।বিদেশি গবেষক, পিএইচডি গবেষক, এম ফিল গবেষক এবং শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এখানে কাজ করতে পারেন। কেউ চাইলে এখান থেকে বই ক্রয় করতে পারেন।অথবা কপি করার ব্যবস্থা রয়েছে।
গ্রন্থাগারটি শুক্র-শনি সহ বিভিন্ন সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ থাকে। এছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত খোলা থাকে পাঠকের জন্য। একসাথে প্রায় ১০-১২ জন পাঠক পাঠ গ্রহণ করতে পারে।
এতসব তথ্য তামান্না আনোয়ারই দিয়েছেন।কিছু অভিযোগও জানালেন সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় অধীনের এ প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে। এতবছরে তাঁর যে চাওয়াটা ছিল। গ্রন্থাগারটি যেন শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হয়। তাতে বাহিরের ধুলাবালি এসে ভিতরটা নোংরা করবে না। বইগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষিত রাখতে পারবেন। তা আজ্যবধি পূরণ হয়নি। জনবল কম, মাত্র তিনজন মিলে এর দেখভাল করা হয়। তাতে গ্রন্থাগারসহ সর্বক্ষেত্রে পাঠকদের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না
কিছু প্রত্যাশার কথাও জানালেন,বর্তমানে কুমিল্লা,এিশাল,দরিরামপুরে তিনটি নজরুল ইনস্টিটিউট এর গ্রন্থাগার রয়েছে।তবে ঢাকার বাহিরে আরো দুইটি নজরুল ইনস্টিটিউট এর গ্রন্থাগার তৈরি করা হচ্ছে ।কিন্তু পাঠক সংখ্য খুবই কম। ঢাকা সহ অন্যান্য গ্রন্থাগারের এতসব বইয়ের রাজ্যে যদি ভীড় হয়। সেটাই তাদের আনন্দের খোড়াক হবে। সরকারের পৃষ্টপোষকতা ও সুনজরও পড়বে।
©somewhere in net ltd.