| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সোলাইমান শিশির
ক্ষমতা ও ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্য খুঁজতে গিয়ে বুঝতে পারলাম ক্ষমতা(সামর্থ্য,শক্তি, যোগ্যতা) হচ্ছে গোলক আর ভালোবাসা হচ্ছে ধাধা।তাই জীবন হচ্ছে গোলকধাঁধা। ইচ্ছা হলে যা খুশি লেখতে থাকি।আপনাদের ভালো লাগলে পড়তে থাকবেন। ভালো না লাগলে ঝাঁটা মেরে চলে যাবেন।আর বন্ধুত্ব গাড়ো করতে চাইলে ফেসবুকে বন্ধুও বানাতে পারবেন। তবে বন্ধু হিসেবে আমি খুব একটা ভালো বলে মনে হয় না। গুটিয়ে যাওয়া আর লুকিয়ে যাওয়া আমার ছোটবেলা থেকে অভ্যাস। কয়েক মুহূর্ত পরে আমি কি করতে পারি কোথায় অবস্থান করতে পারি সেই ব্যাপারে আমার কোন ধারনা নাই। কারন আমি স্রোতে ভাসতে থাকি গন্তব্য ঠিক করি না।
বৃষ্টির সাথে মানুষের অনুভূতির সম্পর্ক বহুদিনের। বৃষ্টি মানুষের অনুভূতিকে প্রভাবিত করে গভীর ভাবে। পুরুষের থেকে নারীদের বৃষ্টি প্রীতি তুলনামূলক অনেক বেশী থাকে। কোনো যুবক যদি তার সম্ভাবনাময় প্রেয়সী কে বৃষ্টির দিনে এক ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে বলে, ভালোবাসি তাই বৃষ্টি ঝড়ে যায়। যুবতীর গলে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃষ্টির ঝড়ে যাওয়া জলের পরিমাণের সমান। তাতেও যদি না গলে তাহলে ছাতা টা উড়িয়ে দিতে হবে তারপর বলতে হবে, “ উড়ে যায় ছাতা, বূঝলে না মোর মনের কথা, বৃষ্টির জল ছুঁয়ে দেখো, মিশে আছে গোপন প্রেমের ব্যথা”। এরপরেও যদি কাজ না হয় ঐ নারী কে ধাক্কা দিয়ে পুকুরে ফেলে দিন আর বলুন, “জলকন্যা জলে যায়, পুকুরের জল চুষে খায়”। এছাড়া ঊপায় নাই।
একনাগাড়ে ঝড়ে যাওয়া বৃষ্টি আর ফোঁটায় ফোঁটায় ঝড়ে যাওয়া বৃষ্টির অনুভূতির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। যাদের মনে সমসাময়িক সময়ে আনন্দ বাস করে বৃষ্টির একনাগাড়ে ঝরে যাওয়ার শব্দ তাদের কাছে পিয়ানোর সুরের মতো মনে হয়। বৃষ্টির জল যতো দ্রুত ঝড়ে পিয়ানোর সুর ততই দ্রুত বাড়তে থাকে সাথে সাথে আনন্দ বাড়তে থাকে ক্রমবর্ধমান হারে।এই জাতীয় অনুভূতিকে ব্যাখ্যা করতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন “ আজি ঝরোঝরো মুখর ও বাদল ও দিনে, জানি নে, জানি নে, কিছুতে কেনো যে মনো লাগে না, লাগে না”। এরমানে হচ্ছে ঝরঝরে বৃষ্টির শব্দে সে এতোটাই আবেগে আপ্লুতো হয়ে গেছে, সে যেই কাজ করতে যায় কাজ ফেলে তার শুধু নাচতে ঈচ্ছা করে।
কিন্তু সমসাময়িক সময়ে যাদের মনের দুঃখে বাঘ আর মহিষ এক ঘাটে জল খাচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে একনাগাড়ে ঝরে যাওয়া বৃষ্টির জলের শব্দকে বেহালার সুরেরে মতো মনে হয় ।বৃষ্টি যত দ্রুত ঝরবে বেহেলার সুর ও আওয়াজ ততই দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকবে। বুকের ভিতর দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেতে থাকবে কূটকূট করে কামড়াতে থাকা লাল পিঁপড়ার সংখ্যা। যাদের কামড়ে চিনচিনে ব্যথা হয়। ক্রমবর্ধমান বৃষ্টির সুরের সাথে ক্রমবর্ধমান পীপড়া গুলো সুরে সুরে শিল্পীর মতো কামড়াতে থাকে । তাই সুরের শিল্পী পিঁপড়ারা সুরেলা শিল্পের ব্যথার জন্ম দেয়।
আর ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরা বৃষ্টি মানুষের অনুভূতিকে ভোঁতা করে দেয় ধীর করে দেয় চিন্তা। ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরতে থাকা বৃষ্টির দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে নির্ঘাত যে কারো মাথা চক্কর দিতে শুরু করবে। মনে হবে আপনি ঘোরের মধ্যে আছেন। সবথেকে বেশী মীজাজ খারাপ হয় ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরা বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যখন আকাশে আলো দেখা দেয়। এই আলোতে বাহিরে থাকতে ভালো লাগে না ঈচ্ছা হয় দৌড় দিয়ে ঘরে ঢুকে গিয়ে খিল দিয়ে মেয়েদের মতো কাণ্ণায় ভেঙে পরা টাইপ কান্না করি । যাতে আমার ঘরে কখনো আলো না ঢুকে আমার ঘরে আকাশ থাকবে সবসময় মেঘলা।
কিন্তু ইচ্ছা করলেই কান্না করতে পারে শুধু মেয়েরা।এই কান্না যেইসেই কান্না নয় এর নাম হচ্ছে মায়াকান্না। এই কাণ্ণায় অনেক মায়া মিশে থাকে। প্রকৃতি নিজের হাতে এই কান্নায় রং মিশিয়েছে। পুরুষরা খূব সহজেই ঘায়েল হবে ফেশে যাবে মায়ার জালে। রহস্যের কথা ভুলে যাবে। প্রকৃতির রহস্য রহস্যই থেকে যাবে।
অনেকদিন পর হয়তো ভিন্ন মেঘের ভিন্ন বৃষ্টির দিনে মনে পরবে রহস্যের কথা। এই রহস্যের বাস মায়ার অনেক উপরে। মায়াজালটা ছিঁড়তে হবে রহস্যটা খুঁজতে বেরিয়ে পরতে হবে এইরকমই এক বৃষ্টির দিনে আর আকাশ টা থাকবে কালো মেঘে ঢাকা ।।
সোলাইমান শিশির
©somewhere in net ltd.