নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চাতকের নিদ্রাসুখ যদি সেরে যায় মেঘের অসুখ

একজন মানুষ কখনোই আরেকজন মানুষের অনুভুতি বুঝতে পারে না শুধুমাত্র ভান করতে পারে অনুভুতি বুঝার। নিজেকে ব্যাখ্যা করার জন্য শব্দ সবসময় যথেষ্ট নয়।

সোলাইমান শিশির

ক্ষমতা ও ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্য খুঁজতে গিয়ে বুঝতে পারলাম ক্ষমতা(সামর্থ্য,শক্তি, যোগ্যতা) হচ্ছে গোলক আর ভালোবাসা হচ্ছে ধাধা।তাই জীবন হচ্ছে গোলকধাঁধা। ইচ্ছা হলে যা খুশি লেখতে থাকি।আপনাদের ভালো লাগলে পড়তে থাকবেন। ভালো না লাগলে ঝাঁটা মেরে চলে যাবেন।আর বন্ধুত্ব গাড়ো করতে চাইলে ফেসবুকে বন্ধুও বানাতে পারবেন। তবে বন্ধু হিসেবে আমি খুব একটা ভালো বলে মনে হয় না। গুটিয়ে যাওয়া আর লুকিয়ে যাওয়া আমার ছোটবেলা থেকে অভ্যাস। কয়েক মুহূর্ত পরে আমি কি করতে পারি কোথায় অবস্থান করতে পারি সেই ব্যাপারে আমার কোন ধারনা নাই। কারন আমি স্রোতে ভাসতে থাকি গন্তব্য ঠিক করি না।

সোলাইমান শিশির › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমি প্রেসিডেন্ট মুজিব বলছি

১৫ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১:৪১

1

লাইনে দাঁড়িয়ে ছোট্ট রাসেল প্রথমে রমাকে ও পরে মহিতুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে বললো, “ভাইয়া, আমাকে মারবে না তো”?' মহিতুল জবাব দেয়, 'না ভাইয়া, তোমাকে মারবে না।' এ সময় শেখ রাসেল তার মায়ের কাছে যেতে চাইলে আজিজ পাশার কথামতো এক হাবিলদার সভ্যতার সব বিধি লঙ্ঘন করে শিশু শেখ রাসেলকে দোতলায় নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে। রাসেলের চোখ বের হয়ে যায়। আর মাথার পেছনের অংশ থেঁতলে যায়। রাসেলের দেহটি পড়ে থাকে সুলতানা কামালের পাশে। পুরো ঘরের মেঝেতে মোটা রক্তের আস্তর পড়ে গিয়েছিল। স্বামীর সবথেকে পছন্দের দার্শনিক ও লেখক বারট্রন্ড রাসেলের নামের সাথে মিলিয়ে বেগম মুজিব তার সর্বশেষে এই আদরের সন্তানের নাম রেখেছিলেন রাসেল। বেগম মুজিবসহ বঙ্গবন্ধুর ঘরে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া শেখ জামাল, সুলতানা কামাল ও রোজী জামালকে নির্বিচারে আগেই গুলি করে হত্যা করে আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেউদ্দিন। বেগম মুজিবের নিথর দেহটি ঘরের দরজায় পড়ে থাকে। বাঁদিকে পড়ে থাকে শেখ জামালের মৃতদেহ। রোজী জামালের মুখে গুলি লাগে। আর রক্তক্ষরণে বিবর্ণ হয়ে যায় সুলতানা কামালের মুখ।

আগের ঘটনা

১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীর টু-ফিল্ড রেজিমেন্টের যানবাহনগুলো সচল হয়ে ওঠে। ক্যান্টনমেন্টের দক্ষিণে অবস্থিত ইউনিট থেকে ১০৫এমএম কামানগুলোকে ভারি ট্রাক দিয়ে টেনে নির্মাণাধীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় নিয়মিত নৈশ প্রশিক্ষণের জন্য।



রাত ১০টার দিকে সেনানিবাসের উত্তরপ্রান্ত থেকে বেঙ্গল ল্যান্সারের টি-৫৪ ট্যাংকগুলো ইউনিট থেকে বেরিয়ে পড়ে। এয়ারপোর্টে ১৮টি কামান ও ২৮টি ট্যাংক একত্রিত হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেজর ডালিম, মেজর নূর, মেজর হুদা, মেজর শাহরিয়ার, মেজর পাশা, মেজর রাশেদ প্রমুখ সেখানে জড়ো হয়।



১৫ আগস্ট রাতের প্রথম প্রহরে মেজর ফারুক অফিসারদের নির্দেশ দেয় বিমানবন্দরের কাছে হেডকোয়ার্টারে স্কোয়াড্রন অফিসে মিলিত হতে। অফিসারদের অপারেশনের পরিকল্পনা জানায় মেজর ফারুক। সেই ছিল এই অপারেশনের দায়িত্বে। প্রধান টার্গেট বঙ্গবন্ধুর বাড়ি সরাসরি আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। ওই বাড়ি ঘিরে দুটো বৃত্ত তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভেতরের বৃত্তের সদস্যরা সরাসরি বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণ করবে। বাইরে থেকে রক্ষীবাহিনী বা ভেতর থেকে সেনাবাহিনীর কোন আক্রমণ এলে তা ঠেকানোর দায়িত্ব দেয়া হয় বাইরের বৃত্তের সদস্যদের। এর দায়িত্ব দেয়া হয় মেজর নূর ও মেজর হুদাকে। সিদ্ধান্ত হয়- তারা ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোড, সোবাহানবাগ মসজিদ এবং ৩২ নম্বর ব্রিজে রোড বস্নক করবে। প্রধান টার্গেট বঙ্গবন্ধুর বাসা আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে ধানমন্ডিতেই শেখ ফজলুল হক মণি এবং আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় আক্রমণেরও সিদ্ধান্ত হয়।

2

ক্যালেন্ডারের পাতায় সালটা ১৯৭৫। তারিখ ১৫ আগস্ট। সময়টা ভোররাত।

ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়িটি আক্রান্ত হওয়ার আগেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার আত্মীয় ও মন্ত্রিসভার সদস্য আবদুর রব সেরনিয়াবাতের হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে যান।

ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির রক্ষীরা বিউগল বাজিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শুরু করামাত্রই বাড়িটি লক্ষ্য করে দক্ষিণ দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ শুরু হয়। একটু পরেই বঙ্গবন্ধু তার ঘরের দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে আসেন। ঘুম থেকে ওঠে গৃহকর্মী আবদুল আর রমা। বেগম মুজিবের কথায় রমা নিচে নেমে মেইন গেটের বাইরে এসে দেখেন সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য গুলি করতে করতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে এগুচ্ছে। রমা বাড়ির ভেতরে ফিরে দেখেন, লুঙ্গি আর গেঞ্জি পরা অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধু নিচতলায় নামছেন। দোতলায় গিয়ে দেখেন, বেগম মুজিব আতঙ্কিত অবস্থায় ছোটাছুটি করছেন। রমা আর দোতলায় দাঁড়িয়ে না থেকে তিনতলায় চলে যান এবং বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল ও তার স্ত্রী সুলতানা কামালকে ঘুম থেকে তোলেন। ঘটনা শুনে শার্ট-প্যান্ট পরে নিচতলায় নামেন শেখ কামাল। সুলতানা কামাল আসেন দোতলা পর্যন্ত। রমা দোতলায় শেখ জামাল ও তার স্ত্রীকেও ঘুম থেকে তোলেন। জামাকাপড় পরে শেখ জামাল তার স্ত্রীকে নিয়ে দোতলায় বেগম মুজিবের কক্ষে যান।



গোলাগুলির মধ্যে অভ্যর্থনা কক্ষে বঙ্গবন্ধুর সামনেই বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন মহিতুল। পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও গণভবন এক্সচেঞ্জে চেষ্টার এক পর্যায়ে রিসিভার নিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেন, 'আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব বলছি ...'। বঙ্গবন্ধু তার কথা শেষ করতে পারেননি। একঝাঁক গুলি জানালার কাচ ভেঙে অফিসের দেয়ালে লাগে। কাচের এক টুকরায় মহিতুলের ডান হাতের কনুই জখম হয়। ওই জানালা দিয়ে গুলি আসতেই থাকে। বঙ্গবন্ধু টেবিলের পাশে শুয়ে পড়েন এবং মহিতুলের হাত ধরে কাছে টেনে শুইয়ে দেন।



গৃহকর্মী আবদুলকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে তার পাঞ্জাবি ও চশমা পাঠিয়ে দেন বেগম মুজিব। কিছুক্ষণ পর গুলিবর্ষণ থেমে গেলে বঙ্গবন্ধু উঠে দাঁড়িয়ে আবদুলের হাত থেকে পাঞ্জাবি আর চশমা নিয়ে পরেন। নিচতলার এই ঘর থেকে বারান্দায় বের হয়ে বঙ্গবন্ধু পাহারায় থাকা সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বলেন, 'এত গুলি হচ্ছে, তোমরা কী করছো ?' এ কথা বলেই বঙ্গবন্ধু উপরে চলে যান।



বঙ্গবন্ধু উপরে উঠতে না উঠতেই শেখ কামাল নিচে নেমে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলেন, 'আর্মি আর পুলিশ ভাইরা, আপনারা আমার সঙ্গে আসেন।' এ সময় শেখ কামালের পেছনে গিয়ে দাঁড়ান মহিতুল ইসলাম ও পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট (ডিএসপি) নুরুল ইসলাম খান।তার কিছুক্ষণ পরেই শুনা যায় শেখ কামালের আত্মচিৎকার।

3

নিচে কী হচ্ছে তার কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি দোতলায় তার ঘরের দরজা বন্ধ করে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ফোনে তার সামরিক সচিব কর্নেল জামিলউদ্দিনকে পান। তিনি তাকে বলেন, 'জামিল, তুমি তাড়াতাড়ি আসো। আর্মির লোকেরা আমার বাসা অ্যাটাক করেছে। শফিউল্লাহকে ফোর্স পাঠাতে বলো।' তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহকেও ফোন করেন বঙ্গবন্ধু। তিনি তাকে বলেন, 'শফিউল্লাহ তোমার ফোর্স আমার বাড়ি অ্যাটাক করেছে, কামালকে (শেখ কামাল) বোধ হয় মেরে ফেলেছে। তুমি জলদি ফোর্স পাঠাও।' জবাবে শফিউল্লাহ বলেন, 'আই অ্যাম ডুয়িং সামথিং। ক্যান ইউ গেট আউট অফ দ্যা হাউস?'



বঙ্গবন্ধুর কথা শোনার পরই কর্নেল জামিল তার ব্যক্তিগত লাল রঙের গাড়িটি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সঙ্গে ছিলেন নিজের গাড়িচালক আয়েনউদ্দিন মোল্লা। কিন্তু, পথেই সোবাহানবাগ মসজিদের কাছে তাকে গুলি করে হত্যা করে ঘাতকরা। পালিয়ে বেঁচে যান আয়েনউদ্দিন।

বঙ্গবন্ধুর বাড়ির গেটের সামনে মহিতুল, নুরুল ইসলাম, আবদুল মতিন, পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যসহ অন্য সদস্যদের সারি করে দাঁড় করানো হয়। এর মধ্যে ঘাতকদের একজন পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যকে গুলি করলে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি পড়ে যান। এরপর ঘাতকরা গুলি করতে করতে উপরে চলে যায়। তারা শেখ জামালের ঘরের বাথরুমে আশ্রয় নেয়া গৃহকর্মী আবদুলকে গুলি করে। হাতে ও পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থাতে তিনি সিঁড়ির পাশে গিয়ে হেলান দিয়ে বসে থাকেন।



বঙ্গবন্ধুর ঘরে তিনি ছাড়াও ছিলেন বেগম মুজিব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজী জামাল। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর ঘরের বাইরে অবস্থান নেয়। গোলাগুলি থামলে বঙ্গবন্ধু দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে এলেই ঘাতকরা তাকে ঘিরে ধরে। মেজর মহিউদ্দিন ও তার সঙ্গের সৈন্যরা বঙ্গবন্ধুকে নিচে নিয়ে যেতে থাকে। ঘাতকদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, 'তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?'



বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের কাছে মহিউদ্দিন ঘাবড়ে যায়। বঙ্গবন্ধু বলেন, 'তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাবি, কী করবি- বেয়াদবি করছিস কেন?' এ সময় নিচতলা ও দোতলায় সিঁড়ির মাঝামাঝি অবস্থান নেয় বজলুল হুদা ও নূর। বঙ্গবন্ধুকে নিচে নিয়ে আসার সময় নূর কিছু একটা বললে মহিউদ্দিন সরে দাঁড়ায়। সঙ্গে সঙ্গে বজলুল হুদা ও নূর তাদের স্টেনগান দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গুলি করে। বঙ্গবন্ধুর বুকে ও পেটে ১৮টি গুলি লাগে। নিথর দেহটা সিঁড়ির মধ্যে পড়ে থাকে। সারা সিঁড়ি ভেসে যায় রক্তে।

4

রমাই প্রথম বেগম মুজিবকে জানায়, বঙ্গবন্ধুকে গুলি করা হয়েছে



বঙ্গবন্ধুর পেছন পেছন গৃহকর্মী রমাও যাচ্ছিল। কিন্তু, ঘাতকরা তাকে ঘরের মধ্যে চলে যেতে বলে। এর মধ্যে দোতলায় শেখ রেহানার ঘরে থাকা তার চাচা শেখ নাসের ওই কক্ষে যান। তার হাতে গুলি লাগার ক্ষত ছিল। রমাই প্রথম বেগম মুজিবকে জানায়, বঙ্গবন্ধুকে গুলি করা হয়েছে। এ সময় ওই ঘরের বাথরুমে আশ্রয় নেন বেগম মুজিব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, শেখ নাসের ও রমা। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে নিচে নেমে এসে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এর পরপরই মেজর আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেউদ্দিন তাদের সৈন্যসহ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আসে। আজিজ পাশা তার সৈন্যদের নিয়ে দোতলায় চলে যায়। তারা বঙ্গবন্ধুর ঘরের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা দরজায় গুলি করে। তখন বেগম মুজিব দরজা খুলে দেয় এবং ঘরের মধ্যে যারা আছে তাদের না মারার জন্য অনুরোধ করেন।

সময় সকাল সাতটা এক মিনিট

বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত হলো একটি বিজ্ঞপ্তি। উল্লাসিত কণ্ঠে কেউ একজন বলতে থাকলো, “আমি মেজর ডালিম বলছি। স্বৈরাচারী মুজিব সরকারকে এক সেনাঅভ্যুথানের মাধ্যমে উৎখাত করা হয়েছে। সারা দেশে মার্শাল’ ল জারি করা হলো”।

ঘনঘন প্রচার হতে থাকলো বিজ্ঞপ্তিটা। দেশ থমকে দাঁড়িয়েছে কি হচ্ছে এবং কি হতে যাচ্ছে তা কেউ বুজতে পারলো না।মানুষের আত্মার মতো দেশের ও আত্মা থাকে কিছু সময়ের জন্য দেশের আত্মা দেশ ছেড়ে চলে গেলো।

মেজর জেনারেল জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যার খবর শুনে নির্বিকার ভঙ্গিতে বললো, প্রেসিডেন্ট নিহত তাতে কি হয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট তো আছে কনস্টিটিউশন যেনো ঠিক থাকে।

বঙ্গবন্ধুকে রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রক্ষীবাহিনী ঝিম ধরে বসে আছে।ঝিম ধরে বসে আছেন একসময়ের তুখড় ছাত্রনেতা তোফায়েল আহামেদও। তিনি রক্ষীবাহিনীর সদরদপ্তরে বসে আছেন আতঙ্কিত হয়ে।রক্ষী বাহিনী আত্মসমর্পণ করায় বারবার জানতে চাচ্ছে তাকে নিয়ে কি করবে। রাস্তায় মিছিল বের হয়েছে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি তা ছিলো আনন্দ মিছিল।

সকাল এগারোটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটে খন্দকার মোশতাক বেতারে ভাষণ দিলেন। আবেগমথিত কণ্ঠে তিন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সূর্যসন্তান বলে আখ্যা দিলেন। তার ভাষণের পর বঙ্গভবনে শুরু হলো আনন্দ উল্লাস, কোলাকুলি আর মিষ্টি বিতরনের পালা। সবাই সবাইকে মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছেন নিজে খাচ্ছেন না।



বঙ্গবন্ধুর খেলার সাথি, নিকটতম প্রতিবেশী কৃষক আবদুল মান্নাফ। ২০০৩ সালের ২৫ এপ্রিল তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে গণমাধ্যমে ১৬ আগস্টের স্মৃতিচারণা করে বলেছিলেন, আমার দাদার (বঙ্গবন্ধুর) রক্তাক্ত শরীর দেখে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। মিলিটারি পুলিশ রাজি হলে কবর খুঁড়ে দাদা ভাইকে গোসল করিয়ে জানাজা পড়িয়ে সমাহিত করি। রজব আলী ৫৭০ সাবান এনে দিয়েছে। আবদুল হাই রেডক্রসের কাপড় এনে দিয়েছে। মাওলানা আবদুল হালিম জানাজা পড়িয়েছে। আমি দাদাকে গোসল করিয়েছি। দাদার শরীর আমি উল্টেপাল্টে দেখেছি। চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে আছেন। হাসিমাখা মুখ। শরীরে ২৮টি বুলেটের চিহ্ন। ২৪টি বুলেট বুক ঝাঁজরা করে দিয়েছে। পায়ের গোড়ালিতেও বুলেটের ক্ষত। একটি আঙুল নেই। বুলেটের আঘাতে তিনি যে আঙুল দিয়ে নির্দেশ দিতেন সেই আঙুলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।



নোট: ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত।খন্দকার মোশতাকের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহন। দেশে সামরিক আইন জারি। বিগত সরকারের ভাইসপ্রেসিডেন্ট, ১০ জন মন্ত্রী ও ৬ জন প্রতিমন্ত্রী পুনর্বহাল। এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন। ১৬ আগস্ট। পুরো একদিন বঙ্গবন্ধুর লাশ পরে থাকার পর টুঙ্গিপাড়ায় দাফন কাজ সম্পন্ন হলো। ২৩ আগস্ট সামরিক আইনের আওতায় তাজউদ্দীন, মনসুর আলী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম সহ ২০ জন কে গ্রেপ্তার করা হলো এবং ২৪ আগস্ট মেজর জেনারেল সফিউল্লাহর জাইগায় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের নতুন সেনা প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহন।

[তথ্যসূত্র : ১.বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা তদন্ত ও বিচার –আবুল হোসেন। ২. দেয়াল – হুমায়ন আহাম্মেদ ৩. ইন্টারনেটে কিছু পুরানো পত্রিকার প্রতিবেদন ঘেঁটে ]

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.