নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রুদ্রনীল আবছায়া

রুদ্রনীল আবছায়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

মন খারাপের এক বিকেল

২৩ শে জুন, ২০১৩ রাত ৮:২৪

বিকেলে হঠাত এতোদিন পর এক কলেজ ফ্রেন্ড কল দিলো



বন্ধুঃমাম্মা!তোর ব্লাড তো ও পজেটিভ।আমার ১ঘন্টার মধ্যে ব্লাড লাগবো।

আমিঃকার লাগবে?কোথায় দিয়ে আসবো?

বন্ধুঃআমি এত্তো কিছু বলতে পারবোনা। তোকে আমার মামার নাম্বার দেই,ওনার সাথে যোগাযোগ করে অমুক হাসপাতালে চলে যা।আমি আসতে পারবোনা।অফিসে জরুরী কাজে আটকা পড়েছি।

আমি নাম্বার নিলাম।মামা আই মিন আমার দোস্তের মামার সাথে কন্ট্যাক্ট করলাম। ৩০ সেকেন্ড কথা বলেই খুব ভালো লাগলো। বললাম ১৫ মিনিটের মাঝেই হসপিটালে এসে পরবো।গেলাম।মামাকে দেখি খুব চিন্থিত।ঘেমে নেয়ে অস্থির অবস্থা।আমার সাথে করমর্দন করলেন । নিয়ে গেলেন ক্যাবিনে।যেয়েও বুঝলাম না আসলে কার অপারেশান বা কি অপারেশান,এতোটুকু বুঝলাম যে রোগীকে অপারেশান করাতে নিয়ে গেছে।উনি আমাকে ক্যাবিনে রেখে নিচে ওটিতে চলে গেলেন।ব্যাপারটা বেশ রহস্যজনক মনে হলো।ইভেন ক্যাবিনে বসা আত্নীয়রাও কিছু বললেন না।কেমন যেনো একটা গুমোট পরিবেশ।আমি ২০মিনিট বসে রইলাম।মামা ২০মিনিট পর আসলেন।ঘর্মাক্ত,বিধ্বস্ত।জাস্ট একটা কৃত্রিম হাসি দিয়ে বললেন যে অপারেশন হয়ে গেছে,শায়লা (মামার স্ত্রী) ঠিক আছে।



আমি বুঝলাম যে মামীর অপারেশান হয়েছিলো।মামা আমাকে এর মাঝে মিনিমাম ১০বার ধন্যবাদ জানালেন।আমাকে বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে চাইলেন।আমি না করলাম।আমাকে মামা লিফট পর্যন্ত পৌছে দেয়ার আগ পর্যন্ত মামা আর তার শালীর কথোপকথন শুনলাম।



মামার শালীঃআপু কেমন আছে?বাচ্চা দেখতে কেমন হইসে? (আমি বুঝলাম মামীর ডেলিভারী হয়েছে।)

মামাঃবললামই তো তোমার আপু ভালো আছে।কিন্তু কাদতেসে প্রচুর।বাচ্চাটা সুন্দর । ফর্সা।বেশ বড়োসড়ো হয়েছে।দেখতে পুরা তোমার বোনের মতো।

মামার শালীঃদুলাভাই!আমি এখনি দেখবো,প্লিজ!

মামাঃনারে বাবা।এখন দেখতে দিবেনা।বাচ্চাটারে প্যাকেট করতেসে।



ফাকে দিয়ে তাদের কথা শুনে আমি তো খুবি খুশি।মামার বাচ্চা হইসে।মামার হাসিটা এতোটা বিস্তৃত ছিলো না তবুও সেটা প্রশান্তির হাসি বলা যায়।আমি লিফটে জাস্ট ঢুকছিলাম।লিফটে ঢুকিয়েই উনি বিদায় নেবেন।



মামা(বিদায় নেওয়ার আগে)ঃআচ্ছা মামা,এখানে আশে পাশে নাকি একটা কবরস্থান আছে।সেটার লোকেশনটা কোথায়?



কথাটা শুনে আমার বুকটা ছাৎ করে উঠলো।কেমন জানি মাথাটা ঝিম মেরে উঠলো।এতোটা বোকা আমি!যখনি শুনেছি বাচ্চা প্যাক করার কথা বলেছে তখনি বোঝা উচিত ছিলো।লিফটে ঢুকলাম।দোতলায় ওটির ফ্লোরেই নেমে গেলাম। কেননা আমি নামলে লিফটে একটা রোগী ঢুকানো যেত।তাই নিজ থেকেই নেমে গেছি।ওটির সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছি।ভেতর দিয়ে চিৎকার আর আর্তনাদের আওয়াজ ভেসে আসছে। আমার ছেলেটা কই ?আমার ছেলেটারে দাও। ওরে একটু দুধ খাওয়াব! আমার ছেলেটারে দাও!



হাসপাতাল দিয়ে বের হয়ে টের পেলাম…আমি ঘামছি…সাথে সাথে কেন জানি আমার চোখদুটোও ঘামছে।আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহকে খুজতে লাগলাম… মনে মনে ওনাকে অনেক প্রশ্ন করলাম…জানি,একদিন না একদিন উত্তরগুলো পেয়ে যাবো।



#আজ আসলেই আমার মনটা খারাপ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.