নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শফিক সুমন এর ব্লগ

তেমন কিছু লেখার নেই আমার সম্পর্কে

শফিক সুমন

স্থপতি

শফিক সুমন › বিস্তারিত পোস্টঃ

BIM সহজ ভাষায় বুঝতে

২৭ শে জুলাই, ২০১৩ বিকাল ৫:৩১

BIM এর অর্থ Building Information Model এবং এই মডেল স্থাপত্য শিল্পে সচারচর ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশান ব্যবহার করে আগে থেকেই বোঝা যায় বিল্ডিংটি দেখতে কেমন হবে এবং তা ভবন তৈরির পূর্বেই। এটা খুব উপকারি কাজের মধ্যে যে ভুত ত্রুতি হয় সেটা কমাতে, সময় বাঁচাতে এবং অপচয় রোধ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করতে। BIM এর সাহায্যে সব ধরনের পেশাজীবী লোকজন একসাথে কাজ করতে পারে, যার ফলে একসাথে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারে, ঐ ভবনের জন্য কোনটা দরকারী আর কোনটা অদরকারী, এভাবে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাই পরিকল্পনা পর্যায়ে।



BIM প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ধারণ করে দেয় ভবনটি কিভাবে কাজ করবে এবং এর বাস্তবিক চেহারা কেমন হবে। এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশান পরিকল্পনার শুরুর দিকে ব্যবহার করা হয় বাস্তবে ভবনটি দেখতে কেমন হবে, খরচ কেমন হবে এবং আনুসাঙ্গিগ সব ধরনের নির্ভুল নকশা এবং নথি তৈরির কাজে।



স্ট্রাকচার (গঠন)



এই মডেল এর সাহায্যে ভবনের প্রতিটি উপাদান (কম্পোনেন্ট) এবং উপকরন (ম্যাটেরিয়াল) নির্ধারণ করা যায়। এর মাধ্যমে আমরা খুবই নিখুঁত তথ্য পেয়ে থাকি জা ভবন নিরমানে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেহেতু BIM সব ধরনের উপাদান (কম্পোনেন্ট) এবং উপকরন (ম্যাটেরিয়াল) দিয়ে করা হয় তাই এখানে কত কিছু ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। যার ফলে এখান থেকে আমরা জে তথ্য পেয়ে থাকি তা দিয়ে আমরা উপাদান (কম্পোনেন্ট) এবং উপকরন (ম্যাটেরিয়াল) সঠিক পরিমান পেয়ে থাকি। BIM এর সাহায্যে আমরা ভবনের ভিতর, বাহির এর নকশা (ডিসাইন) দেখতে পারি এবং পরিমান নির্ধারণ করার কারনে ভবনের নির্মাণ খরচ ও নির্ধারণ করতে পারি। এই ধরনের সুবিধার কারনে BIM খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে স্থপতি, প্রকৌশলী দের কাছে। নির্মাতারাও এ ব্যাপারে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে দিন দিন, তার পিছনে মুল কারন হল সময় এবং টাকার অপচয় রোধ।



হিসাব নিকাশ (ক্যাল্কুলেশন)



BIM এর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা একটি ভবনের সব ধরনের তথ্য এর সাথে সংযুক্ত করতে পারি, যেমন ভবনের জ্যামিতি (জিওমেট্রি), ভৌগলিক অবস্থান, ভবনের অন্যান্য উপাদান, আলোর বিশ্লেষণ এবং আরও অনেক তথ্য। যার মাধ্যমে পরবরতিতে আমরা আমাদের দরকার অনুযায়ী তথ্য এই মডেল থেকে সংগ্রহ করতে পারি। অন্যান্য 3D মডেল থেকে আমরা ভবনের শুধুমাত্র ভিতর বাহিরের নকশা দেখতে পারি, কিন্তু BIM এর সাহায্যে আমরা এক্তি ভবেনের সব ধরনের তথ্য পাই এমন কি ভবনটির সম্পূর্ণ জীবদ্দশার (লাইফ স্প্যান) এর হিসাব পেয়ে থাকি। BIM ব্যবহারের আগে স্থপতিরা 2D/3D CAD (Computer Aided drafting) নকশায় ব্যবহার করত। কিন্তু BIM অ্যাপ্লিকেশান অনেক বেশি অগ্রসর এই ধরনের কাজের জন্য। তার ছেয়ে বড় ব্যাপার হল মডেলটা তৈরী হয়ে গেলে এ থেকে ইচ্ছা মত জে কোন নকশা খুব সহজে বের করা যায়, এর জন্য হারতি জনবল যেমন ড্রাফটসম্যান এর প্রয়োজন পরে না। আর এই ধরনের নকশা মদেল এর পরিবর্তন এর সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয় ভাবে পরিবর্তন হয় তাই ভুল হওয়ার বা সংশোধন এর প্রয়োজন পরে না।



পরিবেশবান্ধব নকশা



ভবন নকশার পাশাপাশি BIM পরিবেশবান্ধব নকশায়ও সাহায্য করতে পারে। একটি ভবন কতটা টেকশই হবে তা নির্ধারিত হবে প্রাথমিক নকশা থেকে। এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশান সাহায্য করে ভবনটির ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে টেকশই নকশা করার যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করা। একটি ভবন পরিবেশের উপর অনেক প্রভাব ফেলে গ্রীন হাউস এমিসন, নির্মাণ বর্জ্য নিষ্কাশন এর মাধ্যমে, এবং ভবনটি নিজেই নতুন একটি স্থাপনা হিসেবে পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলে। এই ধরনের নকশা সাধারন নকশা থেকে অনেক আলাদা, কারন এখানে মূল লক্ষ্য হচ্ছে ভবনটি নকশা পরিবেশবান্ধব করা এবং অবশ্যই ভবনের ভিতরের পরিবেশ বাস করা এবং কাজ করার অনুকূলে রাখা। এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশান এই ধরনের নকশা করার উপযোগী করে তৈরী করা হয়েছে এবং দিন দিন পরিবেশবান্ধব নকশা করার উপযগী তথ্য এর সাথে জুক্ত করা হচ্ছে কাজকে আরও সহজ করার জন্য। আমাদের বর্তমান অবস্থায় পরিবেশবান্ধব ভবনের গুরুত্ব অনেক বেরে গেছে। আর গতানুগতিক ধারায় এই ধরনের ভবনের নকশা করা প্রায় অসম্ভব।



স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং



স্ট্রাকচারাল প্রকৌশলীরা ভবন নিরমানে আগে এই মডেলে তাদের স্ট্রাকচারাল ডিসাইনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, আর যেহেতু একি মডেলে সব ধরনের প্রকৌশলীরা কাজ করেন তাই তারা সব সময় আপডেটেড মডেলে কাজ করেন, তাই এখানে ভুল ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এখান থেকে স্ট্রাকচারাল প্রকৌশলীরা নিখুঁত ভাবে কো-অরডিনেটস এর ত্রুটিগুলো সংশোধন করতে পারেন।



এ ছাড়াও মেকানিকাল, ইলেক্ট্রিক্যাল, প্লাম্বিং এবং অন্যান্য প্রকৌশলী বৃন্দ এই একই মডেলে কাজ করে একসাথে কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।





সবাইকে এক প্লাটফর্ম এ কাজ করানোর জন্য BIM মডেল কে IFC ফরম্যাট এ করা হয়, এই ফরম্যাট সব ধরনের BIM অ্যাপ্লিকেশান রীড করতে পারে। পরবর্তী লেখায় এ বিষয়ে বিস্তারিত থাকবে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.