| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কিছুদিন আগেও অ্যাপলকে বিশ্বের সেরা কোম্পানির মর্যাদা দিতে কেউই কুণ্ঠাবোধ করতেন না। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে আইপ্যাড-আইফোন নির্মাতা অ্যাপলের গায়ে যেন একটু একটু করে কালশিটে পড়ছে। গত বছরের ২০ আগস্ট রেকর্ড ৬২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয় অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ১ লাখ কোটি ডলারের প্রথম কোম্পানি হওয়ার পথে বাধাহীনভাবেই এগোচ্ছিল। তবে সেই গতির লাগামে টান পড়েছে সব শ্রেণীর ক্রেতার কোম্পানি হতে না পারায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অ্যাপলের গতিরোধের অন্যতম কারণ সাম্প্রতিক বাজার মূল্যায়নে অক্ষমতা ও সাধারণ ক্রেতার জন্য সাশ্রয়ী গ্যাজেট না আনা। বিপরীতে এ বিষয় দুটিতে গুরুত্ব দিয়ে তরতরিয়ে বেড়ে উঠছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং।
গত সেপ্টেম্বরের পর অ্যাপলের শেয়ারের দর কমেছে ৩৫ শতাংশ। বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ২০ হাজার কোটি ডলার। জানুয়ারিতে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের বিবরণে নাখোশ বিনিয়োগকারীরা। হতাশ বিশ্লেষকরাও। লাখ কোটি ডলারের কোম্পানি হিসেবে অ্যাপলকে দেখতে যারা মুখিয়ে ছিলেন, তারাই এখন বাক্য প্রয়োগে ভিন্ন মূর্তি। কেউ অ্যাপলকে দেখছেন ‘ঘোরতর সংকটে’ ‘আবেদনহীন’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে। এমনকি কারো মতে, অ্যাপলের ‘সবশেষ’। এর মধ্যেই দু-চারজন বিনিয়োগকারী নগদ সঞ্চয় থেকে অ্যাপলকে অর্থ দেয়ার পরামর্শ দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপল চুপসে আসার পেছনে রয়েছে কয়েকটি ভুল পদক্ষেপ, যার অন্যতম আইফোন৫-এর ত্রুটিপূর্ণ মানচিত্র। আইফোন৫ উন্মোচন করার সময় নিজস্ব মানচিত্রসেবা চালু করে অ্যাপল। এর আগে গুগলের মানচিত্রসেবা ব্যবহার করত তারা। এতে প্রতিষ্ঠানটির দুর্বলতার কথাই ফুটে ওঠে। অ্যাপলের নিখাদ ভক্তরা স্টিভ জবসের শূন্যতা অনুভব না করে পারবেন না। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো অ্যাপলকে মানচিত্রসেবা নিয়ে অমন গোলক ধাঁধায় পড়তে হতো না।
অ্যাপল যে নিজের দুর্বলতায়ই পিছিয়ে পড়ছে, বিষয়টি এমন নয়। এগিয়ে গেছে ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলা প্রতিদ্বন্দ্বীরাও, যাদের সফলতার মূল রহস্য ক্রেতা সামর্থ্য ও চাহিদা বুঝতে পারা। সম্প্রতি অ্যাপলের সঙ্গে অন্যদের পার্থক্য তৈরি করে দিচ্ছে ফ্যাবলেট। স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটারের মাঝামাঝি আকৃতির গ্যাজেট বা ফ্যাবলেটই তৈরি করে দিয়েছে বিস্তর ফারাক। এখন ফ্যাবলেট সাম্রাজের অধিপতি স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি নোট। পকেটে রাখার উপযোগী ডিভাইসটি আকারে ও ব্যবহারে সুবিধাজনক হওয়ায় দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছেই। যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনশালী বাজারের কথা বিবেচনা করা হলেও গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে ফ্যাবলেটের পেছনে ছুটছেন এশিয়রাও। এখানেই দুর্বলতা। অ্যাপলের আইপ্যাড, আইপড, আইফোন থাকলেও আইফ্যাবলেট নেই।
জেফরিস অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিটার মিসেক বলেন, ‘কিছু দিন আগেও আমরা অ্যাপল নিয়ে দারুণ আশাবাদী ছিলাম। আমাদের মতোই অ্যাপলের নির্বাহীরা ভেবেছিলেন প্রত্যেক ব্যবহারকারী আলাদা করে একটি স্মার্টফোন ও একটি ট্যাবলেট কিনবেন। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশের বাজারে অধিকাংশ ক্রেতাই শুধু আলাদা আকারের কারণে দুটো গ্যাজেট কেনার পক্ষপাতী নন। এজন্যই এ অঞ্চলে ফ্যাবলেটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।’ তার মতে, অন্য ব্র্যান্ডের ফ্যাবলেটগুলো আইপ্যাড ও আইফোনের বাজার গ্রাস করছে। আগামী বছরের আগে আগে অ্যাপল নিজস্ব ফ্যাবলেট আনতে পারবে না বলেও মনে করেন মিসেক।
অ্যাপলের জন্য আরেক দুশ্চিন্তা আন্তর্জাতিক বাজার। বর্তমানে ৫০ শতাংশ মার্কিনির মুঠোয় স্মার্টফোন আছে। কাজেই বিক্রি বাড়াতে এবার অন্য বাজার, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের বাজারে মনোযোগী হতে হবে। আবার এ বাজারে অবস্থান তৈরি করতে অ্যাপলের বাধা রয়েছে। প্রথমত, তাদের নেই কোনো ফ্যাবলেট, নেই কোনো কম দামি স্মার্টফোন।
অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ধরনের সমস্যা বিনিয়োগকারীদের উচ্চাশা। ছয় মাস আগের অ্যাপলের তুলনায় বর্তমান অ্যাপল হয়তো খানিকটা ম্লান। তবে স্টিভের রেখে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির আত্মতুষ্টিতে ডুবে থাকার যথেষ্ট সুযোগ আছে। অ্যাপলের নগদ সঞ্চয় এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের বাজার মূল্যের চেয়েও বেশি। এখনো বহুল বিক্রীত দুটি স্মার্টফোনের (আইফোন ফোর এস ও আইফোন ৫) নির্মাতা অ্যাপল। ট্যাবলেটের বাজারে একচেটিয়া কর্তৃত্ব তো অ্যাপলেরই হাতে। ইউনিটপ্রতি বিক্রি মুনাফায়ও এগিয়ে অ্যাপল। ২০১২ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে, সেলফোন বাজারের ৬৯ শতাংশ মুনাফা গেছে অ্যাপলের ঘরে।
তার পরও অ্যাপলকে নিজস্ব অবস্থান ধরে রাখতে হলে উদ্ভাবন চালিয়ে যেতে হবে। কেউ কেউ মনে করতে পারেন, অ্যাপল কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। অ্যাপলের উত্থানপতন নতুন কোনো ঘটনা নয়। কোম্পানিটি যখন রিটেইল স্টোর চালু করে, তখন বিজনেস উইকের সমালোচনার মুখে পড়ে। প্রথমদিকে আইপডকেও দেখা হতো অতি মূল্যেও এমপিথ্রি প্লেয়ার হিসেবে। কৌতুক করা হতো প্রথম আইপ্যাড নিয়েও। ওইসবই কাটিয়ে উঠেছে অ্যাপল। তবে অতীত পরিসংখ্যান তো আর ভবিষ্যতকে নিরাপদ করতে পারে না।
অ্যাপল এখনো ভয়াবহ কোনো ভুল করেনি। যে ভুল করেছে, তা শোধরানোর ভালো সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা ধারণা করতেই পারেন, আগামী গ্রীষ্মেও আগের সাশ্রয়ী আইফোন বাজারে আনবে অ্যাপল। অ্যাপলের অতীত কর্মকাণ্ড এসব ধারণাকেই রসদ জোগায়। ঠিক যেভাবে আইপড থেকে শাফল ও ন্যানোর জন্ম, আইপ্যাড থেকে আইপ্যাড মিনির জন্ম, সেভাবেই আইফোনের বংশধর হবে সস্তা আইফোন। তাই যদি হয়, সীমিত বাজারে অ্যাপলের দম বন্ধ হয়ে আসবে না।
দীর্ঘদিন ধরেই বলাবলি হচ্ছে, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির টেলিভিশন আনতে কাজ করছে অ্যাপল। টেলিভিশনটি অ্যাপলের অন্য সব গ্যাজেটের সঙ্গে প্রযুক্তিগত দিক থেকে মানানসই হবে। তা হলে কেবল নতুন একটি পণ্যই নয়, অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নতুন অস্ত্র আনতে যাচ্ছে অ্যাপল। তখন অ্যাপলপ্রেমীরাও আরো কয়েক বছর অজান্তেই অ্যাপলের খাঁচায় আটকা পড়বেন।
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:৫০
সাই্ফ বলেছেন: লেখাটি দৈণিক বণিক বার্তার সাপ্তাহিক ম্যগাজিন সিল্করুটে প্রকাশিত
Click This Link