নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার ভাবনায় আমার দেশ

সৈকত মন্ডল

সত্য ও সংগ্রামে, জীবনের গানে, বঞ্চিত যেজন, ঠাই হোক মোর তাদের প্রাণে

সৈকত মন্ডল › বিস্তারিত পোস্টঃ

আর কতটা বঞ্চিত হলে আমাদের ধৈর্য্য চ্যুতি ঘটবে?

০৮ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:০৮

ধৈর্য্য মানুষের একটি বড় গুণ। বিপদে, দুঃসময়ে ধৈর্য্য ধারণ করা অতি আবশ্যক। কিন্তু বঞ্চনা, অবিচার সব কিছুকে মুখ বুঁজে সহ্য করাকে কি আমি ধৈর্য্য বলবো? নাকি দুর্বলতা বলবো? কিন্তু বাঙ্গালীর সংগ্রামের আদ্যোপান্ত ইতিহাসের কানিকোনাও যদি কেউ স্মরণ করতে পারে, তাহলে নিঃসন্দেহে এ জাতিকে দুর্বল বলার দুঃসাহস কেই করবে না। তবে কেন আমরা এতটা ঘাতসহ হয়ে গেলাম?



হাজারো ঘটনার মধ্যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা আওড়াতে চাচ্ছি। অনেকেই হয়ত কোনদিন এভাবে চিন্তা করে দেখেননি যে, আপনি মোবাইল/টেলিফোনে ১০০ টাকার কথা বললে রাজস্ব বিধি অনুসারে ১৫ টাকা রাজস্ব কেটে নেয়। সেটা দেশের মানে আমাদের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যাবহৃত হওয়ার কথা (যদিও ৪১ বছর কেটে গেল কেউ কথা রাখেনি ), এজন্য আমরা আপত্তি করিনা। কিন্তু বারংবার টেলিকম কোম্পানীগুলোর নামে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির মামলা হয়, মামলার পরে কি হয় তা আমাদের মত ছাপোষা মানুষের পক্ষে জানা দুঃসাধ্য। অতএব, আমাদের টাকা গুলো দেশের উন্নয়নে কতটা কাজে লাগে তা খতিয়ে দেখার বিষয়। তাও প্রতিবাধীনভাবে সহ্য করে যাচ্ছি। এখন শুরু হল এক অলীক কাহিনী। মোবাইলে রিচার্জের দোকানগুলো তাদের কমিশন বাড়ানোর জন্য কয়েকদিন ধরে একটি যৌক্তিক আন্দোলন করলো। সাধারনের অনেক ভোগান্তি হওয়া সত্ত্বেও, তাদের ন্যায্য দাবির সাথে আমরা সহমত পোষন করলাম। কিন্তু সেটাতে কোন ফয়দা না হওয়ায় এখন তারা প্রতি ২০ টাকায় গড়ে ২ টাকা বেশি নিচ্ছে। তাহলে সাধারন মানুষের ১০০ টাকার কথা বলার জন্য মোট ব্যায় হচ্ছে ১০০+১৫(রাজস্ব)+১০ (নিরবে সব কিছু সহ্য করার মাশুল) অর্থাৎ ১২৫ টাকা।



কিছু বললেই তারা বলছে, কিছুদিন অপেক্ষা করেন একটা সুরহা হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা জানি এর কোন সুরাহা হবে না (যদি অতীত ইতিহাসের ব্যত্যয় না ঘটে। সাধারণ মানুষকে এই অতিরিক্ত টাকা দিয়েই যেতে হবে। অধিকাংশ মানুষ এটাকে সহজেই মেনে নিয়েছে এবং প্রফুল্ল চিত্তে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কেন?



প্রসঙ্গত একটু উল্লেখ করতে চাই, একবার আমি খুলনা থেকে ৪০০ টাকা ভাড়া দিয়ে ঢাকা গেলাম। ১০ দিন ঢাকায় অবস্থানের পর ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে খুলনা ফিরে আসতে হল। কারণ তেলের দাম বৃদ্ধি। কিন্তু তেলের দামের অনুপাতে ভাড়া বাড়ে কয়েক গুন, আমরা নীরব। সেই ভাড়াই বহাল আছে, আমি খুলনা থেকে ঢাকা যাচ্ছি, ঢাকা থেকে খুলনা আসছি।



আমাদের কষ্টার্জিত টাকা এভাবে সুবিধাভোগীদের হাতে বিনা প্রতিবাদে তুলে দিচ্ছি। আপনি প্রতিবাদ করলে অন্যজন আপনার প্রতিবাদে সামিল হওয়ার পরিবর্তে, “ভাই মেনে নেন, এদের সাথে ঝগড়া করে নিজের সময় নষ্ট’’ বলে মেনে নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে। শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষকে ধোকা দিয়ে, জিম্মি করে সুবিধা নিচ্ছে, শোষন-চোষন করছে ৫ ভাগ মানুষ। তাই প্রশ্ন আর কতটা বঞ্চিত হলে, সর্বস্বহারা হলে আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙবে, আমরা প্রতিবাদী হয় উঠবো?

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১১:২৭

নির্বাসন বলেছেন: ভালো বলেছো সৈকত...দিন দিন অসহ্য লাগছে এই অরাজকতা। মেনে নিতে নিতে অনিয়ম নিয়ম হয়ে যাচ্ছে।

২| ১৬ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১:২০

হিজবুল বাহার বলেছেন: প্রতিবাদের কোন উপায় শুধু ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে নিয়ে খুব একটা লাভ হবে বলে মনে হয় না। অভ্যাস ও প্রয়োজনেই রিচার্জের শরণাপন্ন আমাদের হতে হবে। শ্রেণীবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন হতে পারে প্রতিকারের একমাত্র উপায়।
বিষয়টা চোখে আঙুল দিয়ে তুলে ধরার জন্য অনেক ধন্যবাদ স্যার।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.