| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দেশে গত চার বছরে হত্যা, গুম ও নির্যাতনের যে চিত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সংসদে তুলে ধরেছেন, গত চার বছরে দেশে ১৬ হাজার ২৮৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আর রাজনৈতিক সংঘাতে মোট ৫১ জন মারা গেছে। দাঙ্গায় নিহত হয়েছে ১৬০ জন। অপহরণ বা গুম হয়েছে তিন হাজার ১৫৯ জন। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় কারাগারে কোনো বন্দি আটক নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামির সংখ্যা অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জন এবং এর মধ্যে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সংসদে দেয়া এসব হিসাব ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
কারাগারে কোনো রাজবন্দি নেই বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি বাস্তবতাবর্জিত বলে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের আসামিরা অজ্ঞাতপরিচয় বলে যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে, তা সত্যের অপলাপ, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, প্রকাশ্য দিবালোকে যারা বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তাদের ছবি ও নাম-পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। হত্যাকারীরা শাসকদলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী হওয়ায় তাদের বহিষ্কারসহ মূল দলের পক্ষ থেকেও এর নিন্দামন্দ করা হয়েছে।একইভাবে আশঙ্কাজনক হারে সংঘটিত রাজনৈতিক সংঘাত, দাঙ্গা ও অপহরণ বা গুমের মতো ঘটনায় প্রাণহানির কোনো ব্যাখ্যা দেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তারপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য থেকে যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায়, তাতে দেশে গড়ে প্রতি মাসে ৩৪০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত, দাঙ্গা ও গুমের মতো ঘটনায় প্রাণহানির শিকার হয়েছে গড়ে প্রতি মাসে ৭০ জনের বেশি। আর মূল আশঙ্কা এখানেই। নাটোরের উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুকে শাসকদলের কর্মীরা দিনের বেলায় পিটিয়ে হত্যা করেছে, যার ভিডিওচিত্র বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে; তার পরও গ্রেফতার করা যায়নি হত্যাকারীদের। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে দাঙ্গা বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে কি না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন ছিল।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে, কিন্তু আজও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ইলিয়াস আলী জীবিত ও সুস্থ আছেন। এটাই একমাত্র আশা।
বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনার পর ‘শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ান’ এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহায়তায় প্রতিবেশী দেশ ভারত তার অপছন্দের লোকজন নিশ্চিহ্ন করতে বাংলাদেশে গুপ্ত অভিযান পরিচালনা করছে। ভারতের এই নিশ্চিহ্নকরণ অভিযানের তালিকায় এমনকি উঠতি নেতাদের নামও রয়েছে বলে জানিয়েছিল পত্রিকাটি। তাই রাজনৈতিক সংঘাত, দাঙ্গা ও অপহরণ বা গুমের নামে বিদেশী সহায়তায় সরকারবিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে দেশপ্রেমিকদের হত্যা করা হচ্ছে বলে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।
এই নিশ্চিহ্নকরণ প্রক্রিয়ায় খোদ সরকারি হিসাবে বাংলাদেশের ৩০০ নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি থেকে গড়ে ১১ জনের বেশি আধিপত্যবাদবিরোধী নেতা এরই মধ্যে গায়েব হয়ে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে শেষ করা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের নেতা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা। এভাবে স্বাধীনচেতাদের হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশকে সিকিমের মতো করার চেষ্টা চলছে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
©somewhere in net ltd.