| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডাকাতদের কবলে পড়েছে গোটা ব্যাংকিং খাত। সরকারি আর বেসরকারি দুই খাতের ব্যাংকেই চলছে সমানতালে লুটপাট। তবে বেসরকারি ব্যাংকে লুটপাট কিছুটা আড়ালে-আবডালে হলেও সরকারি ব্যাংকে লুটপাট এখন ডাকাতির পর্যায়ে চলে গেছে। ব্যাংক ডাকাতরা প্রকাশ্যেই রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো লুটেপুটে গিলে খাচ্ছে। ব্যাংক লুটপাটের এক নজির সৃষ্টি হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে। লুটপাটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, বেসিক, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের অবস্থা চরম নাজুক পর্যায়ে চলে গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও বেসিক ব্যাংকের ব্যবসা এখন প্রায় বন্ধ। লুটপাটের কারণে সাধারণ গ্রাহক যেমন মিলছে না, তেমনি ব্যাংক দুটি থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিভিন্ন সংস্থার আমানতও পুরোপুরি উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে। ফলে এ দুটি ব্যাংক বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারির জন্ম হয় বর্তমান মহাজোট সরকারের সময়ে। সরকারের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের সরাসরি যোগসাজশে এই খাত থেকে বিগত ৫ বছরে লুটে নেয়া হয়েছে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা। হলমার্ক, বিসমিল্লাহ্ গ্রুপসহ বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ব্যাংক ডাকাতির মতো ঘটনার কবলে পড়ে গোটা ব্যাংকিং খাতকে টালমাটাল অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।
যেভাবে লুটপাটের আয়োজন
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সরকারের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের নজরে পড়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। আর এসব ব্যাংক টার্গেটে নিয়ে বসানো হয় দলীয় লোক। ব্যাংকিং রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে অদক্ষ ও নন-ব্যাংকারদের হাতে তুলে দেয়া হয় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, বেসিক, জনতা, রূপালী ও অগ্রণী ব্যাংকের দায়িত্ব। এতে সহজ হয় ঋণের নামে লুটপাটের পথ।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেশি লুটপাটের শিকার হয়েছে সোনালী, বেসিক ও জনতা ব্যাংক। এ তিনটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডিসহ পরিচালনা পর্ষদে অধিকাংশই দলীয় লোকদের বসানো হয়। বেসিক ব্যাংকের দায়িত্ব দেয়া হয় মহাজোটের অংশীদার জাতীয় পার্টির নেতা শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর হাতে। তিনি আবার শেখ হেলালের ঘনিষ্ঠ বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিচালকদের মধ্যে সরকারি ব্যাংকে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সাবেক ভিপি ছাত্রলীগ নেতা শুভাষ সিংহ রায়, সবুজ কানন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাত আরা হেনরী, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও আইনজীবী বলরাম পোদ্দার, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও নির্মাণ ব্যবসায়ী শাহজাদা মহিউদ্দিন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির আহমেদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য, বুয়েট ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক আবদুস সবুর, কলামিস্ট ও মণি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্টের সম্পাদক শেখর দত্ত, নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খন্দকার জাহাঙ্গীর কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাবেক ভিপি কেএমএন মঞ্জুরুল হক প্রমুখ।
©somewhere in net ltd.