নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ সৃষ্টির সেরা, আবার সৃষ্টির অধম

মোঃ ছালেহ আহমদ দুলাল

মোঃ ছালেহ আহমদ দুলাল › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইনছান ও ইবাদাত (পর্ব-১)

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:১৬

ইনছান এবং ইবাদাত ছোট্ট দু’টি শব্দ দিয়ে লেখনীর যাত্রা। প্রথমে আসা যাক ইনছান বা মানুষ নিয়ে কিছু কথা। মানুষ সৃষ্টিকর্তার অতিআদরের এক অপূর্ব সৃষ্টি। যার আরবী নাম ইনছান বা বনিআদম। মহাবিশ্বের মতান্তরে আঠারো হাজার মাখলুকাতের মধ্যে যার স্থান সর্বশীর্ষে। এ জন্য মানুষকে বলা হয় আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরাজীব। ক্ষণিকের জন্য হলেও মনটা আনন্দে ভরে উঠে আমি সৃষ্টির সেরাজীব মানুষ। তা’হলে মহান সৃষ্টিকর্তার নূরের তৈরী ফেরাস্তাদের চেয়েও সেরা ? হ্যাঁ, ফেরেস্তাদের চেয়েও সেরা। মহান আল্লাহ তা’আলা মানবজাতির আদি পিতা আদম (আঃ)কে সৃষ্টি করে তাঁকে শুভেচ্ছা-সম্মান জানাতে সিজদাহ্ করতে আদেশ করলেন ফেরেস্তাকূলকে। ফেরেস্তাগণ আল্লাহ তা’আলার আদেশ পালন করে আদমের শ্রেষ্ঠত্ব অবনত চিত্তে মেনে নিলেন। মানুষকে মহান আল্লাহ তা’আলা আরো একটি বিশাল সম্মানি উপাধী দান করেছেন তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি বলে। যারা প্রবাসে আছেন তাঁদের খলিফা শব্দটি বুঝতে খুব সুবিধা হবে। একজন রাষ্ট্রপতি তাঁর একান্ত প্রিয় যোগ্যতম ব্যক্তিকে অন্য দেশের রাষ্ট্রদূত বা খলিফা নিযুক্ত করে থাকেন। যার উপর তাঁর পূর্ণাঙ্গ আস্থা-বিশ্বাস ও কনফিডেন্স রয়েছে। রাষ্ট্রপতি তাঁকে ঠিক যেভাবে তাঁর পছন্দমত বিদেশে ক’টনৈতিক কর্মকান্ত চালাতে বলবেন, তিনি মাথা নতকরে ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করবেন এটাই স্বাভাবিক। অবশ্য তাঁকে অনেক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক শক্তি ও স্বাধীনতা দেয়া হয়ে থাকে। কোন অধম রাষ্ট্রদূত যদি রাষ্ট্রপতির শক্তি,স্বাধীনতা,পদ ও সুযোগ-সুবিধার অহংকারে দিশেহারা হয়ে তার মূল দায়িত্বের কথা ভুলে যায় এবং স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করে, রাষ্ট্রপতির নীতিবহির্ভূত কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে, তা’হলে ব্যাপারটা কি দাঁড়াবে তা বুঝতেই পারছেন। আর রাষ্ট্রদূত যদি তাঁর প্রতি রাষ্ট্রপতির অনুগ্রহের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞ হয়ে অনুগত চিত্তে তাঁর দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন, তা’হলে তাঁর পদমর্যাদা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সম্মানের সাথে অটুট থাকে এবং রাষ্ট্রপতির খুশি ও মর্জি মোতাবেক বিদেশে সফল দায়িত্ব পালন করার জন্য অবসর গ্রহনের পরও তাঁকে বিশেষ প্রশংসাপত্র সহ আজীবন সম্মানী পেনসান দেয়া হয়ে থাকে। বর্ণিত আলোচনায় নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন খলিফার অর্থ, পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা। তাই বুঝতে হবে আমরা প্রত্যেকেই নিজের নির্দিষ্ট পরিমন্ডলে আল্লাহর এক একজন খলিফা। প্রিয় ভাই ও বোনেরা আমরা খলিফা নামের আল্লাহর এতবড় একটি নেয়ামত ও সম্মানী উপাধী বহন করে পৃথিবীতে এসেছি আলহামদু লিল্লাহ। মানুষ আল্লাহ তা’আলার খলিফা এ বিষয়ে সৃষ্টিকর্তার ঘোষণা- ’ইন্নি জাড়েলুন ফিল আরদে খালিফাহ’্(সূরা বাকারাহ্)- অর্থ পৃথিবীতে আমি আমার প্রতিনিধি (খলিফা) বানাবো।



মানুষ সম্পর্কে আরো কিছু কথা- মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন- ’লাকাদ খালাকনাল ইনছানা ফি আহসানে তাক্কয়িম, ছুম্মা রাদাদনাহু ফি আছফালা ছাফিলিন’(সূরা ত্বীন)। মহান আল্লাহ তা’আলা মানুষের মনমন্দিরে গভীরভাবে গেঁথে দেয়ার জন্য ত্বীন,জয়তুন ও মক্কা নগরির কসম খেয়ে বলেন; আমি মানুষকে অতিসুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তাকে হীন থেকে হীনতমে পরিনত করি’। মানুষকে কেমন বুদ্ধিমত্তা সহকারে সুন্দরতম গঠনে মহান আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টি করেছেন তার জলন্ত উদাহরণ আজকের মহাবিশ্বে মানুষ কর্তৃক আবি®কৃত আধুনিক বিজ্ঞান। প্রিয় ভায়েরা আপনারা কি কখনো দেখেছেন বা শুনেছেন মানুষ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোন জীবজন্তু একেবারে সাধারণ ক্ষুদ্রতম আবিষ্কার ঠেলাগাড়ীর মত কোন যানবাহন অথবা তীর ধনুকের মত সাধারণ কোন ক্ষুদ্রতম অস্ত্র তৈরী করতে পেরেছে? কিন্তু মানুষ আবিষ্কার করেছে উড়োজাহাজ, সাবমেরিন, পারমাণবিকঅস্ত্র, কম্পিউটার, স্যাটেলাইট, টেলিভিশন, টেলিফোন ও ফ্যাক্সসহ অত্যাধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। মানুষকে অতিসুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি সংক্রান্ত সকলের দৃশ্যমান একটি গ্রাম্য উদাহরণ পেশ করছি; একটি গাভী তার শিশু বাচুর জন্ম দেয়ার পর তার শিশু বাচুরকে যথানিয়মে দাঁড়িয়ে দুধ পান করার সুযোগ করে দেয়। শিশু বাচুর দুধ পান করা অবস্থায় মা-গাভী মলমূত্র ত্যাগ করলে অনেক সময় তা দ্বারা তার শিশু বাচুরের শরীর ময়লায় ভরে যায়। মা-গাভীটির মনে অনেক দুঃখ সন্তানের গায়ে মায়ের মলমূত্র। কিন্তু করার কিছুই নেই। পরিশেষে সন্তানের মমতায় মা গাভীটি অস্থির হয়ে যায় এবং নিজের জিহবা দিয়ে নিজের মলমূত্র সন্তানের শরীর থেকে সাফ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু - ছুবহানাল্লাহ মানুষ কতই না সুন্দরতম গঠনে সম্মানী সৃষ্টি। আমরা আমাদের সন্তানদের কিভাবে যতœ করি তা সবার জানা আছে।



মহান আল্লাহ তা’আলা চান মানবজাতি তাঁর প্রদত্ত সকল নেয়ামতরাজীকে স্বীকার করুক, স্বচ্ছন্দে নিয়মানুযায়ী তা ভোগ করুক এবং এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁর ইবাদাত করুক। তাই সবার আগে জানতে হবে ইবাদাত কাকে বলে। ইবাদাতের সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যার জন্য আল-কোরআন তথা রাসূলে করিম (সঃ) এর ২৩ বছর নব্যুয়তী জীবনের কাছে যেতে হবে। কারণ রাসূলে করিম (সঃ) ছিলেন আল-কোরআনের জীবন্ত মডেল। এক কথায় বলতে পারেন রাসূলে করিম (সঃ) তাঁর ২৩ বছরের নব্যুয়তী জিন্দেগীতে ছাহাবা কেরামকে সঙ্গে নিয়ে আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক রচিত গ্রস্থ আল-কোরআনকে সরেজমিনে বাস্তবে প্র্যাকটিক্যাল আমল করে দেখিয়ে দিয়েছেন এটাই ইসলাম, এটাই মুক্তির পথ। রাসূলে করিম (সঃ) ও তাঁর ছাহাবা কেরামগণ আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ অনুযায়ী ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সমাজজীবন, চাকুরীজীবন ও আদালতিজীবন সহ সর্বত্র ইবাদাত প্রতিষ্ঠা করে বিশ্ববাসীর জন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। রাসূল করিম (সঃ) ইবাদাতকে শুধুমাত্র মদিনার মসজিদের মধ্যে সীমিত রাখেননি। তিনি একাধারে মদিনার মসজিদের ইমাম,সমাজপতি, মদিনাকে ঘিরে গঠিত রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানও ছিলেন রাসূলে করিম (সঃ)। পৃথিবীর কোন কাফির ঐতিহাসিকও কি লিখতে সাহস করবে যে, রাসূল (সঃ) এর খলিফারা ইবাদাতকে ব্যক্তিজীবন ও মসজিদ মাদ্রাসাতে বন্দি করে সম্রাজ্য চালিয়েছেন মনগড়া নীতি দিয়ে বা আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূল (সঃ) এর নীতি বহির্ভূত তন্ত্রমন্ত্র দিয়ে।



কোন মুসলমান যদি মনে করেন রাসূলে করিম (সঃ) এর জীবনের যে অংশ ভাল লাগে তা মানবো আর যে অংশ মানলে রাষ্ট্র বা সমাজে একটু ঝুঁকি আছে বা সুযোগ-সবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয় আছে তা মানবো না বা আকিদাহ্ও রাখবো না। যিনি এই লিখাটি পড়ছেন তিনিই বলুন ঈমান থাকবে ? মূল আকিদাহ-তে গলদ মুসলমানের উদাহরণ হচ্ছে ফাইন্ডেশন বা ভিত্তি ছাড়া বহুতল ইমারত নির্মাণের কাজে হাত দেয়ার মত। কোন ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সাথে রাগ বা অভিমান করে কোন মুসলমান যদি রাসূলে করিম (সঃ) এর জীবনের কোন অংশকে ইসলামের মূল আকিদাহ্ থেকে বাদ দিয়ে দেয় তাকে আমরা বলতে পারি ইমাম সাহেবের সাথে রাগ করে নামাজ পড়া বন্ধ করে দেয়ার মত। মুসলমানদের কর্মজীবনে শয়তানের ধোকায় পড়ে আমলের ত্রƒটি হলে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তা’আলা মাফ করবেন কিন্তু আকিদায় ত্রƒটি থাকলে মূলেই আঘাত, ঈমানই থাকেনা।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.